উপনিষদ রহস্য বা

১ম ২য় অধ্যায়

/41/৬ বশমার্ণ

১ম ২য় অধ্যায়

মূল্য ৩২ টাক।।

৫- শ্রীকুমুদররগ্জন চটে।পাধ্যায় জ্ীগুরুমন্দির--- . উপনিষদ্রহস্ত কার্যালয় কোড়ার বাগান, হাওড়া

নিন্ছেকল

গীতার যৌগিক ব্যাধ্য! প্রকাশিত ভইতেছে দেখিয়া কেহ যন মনে না করেন যে, ইহ। উপনিষদ রহস্য কাধ্যালয়ের অন্যতম নৃহন ত্রা্থ | বস্তুতঃ ১৩১৬ সালে এই তরন্থখ।নি ধার।বতহিক রূপে পঞ্চম অধ্যায় পথ্যন্ত বাহির হইয়াছল | তৎপরে নানাবিধ ঘটনাচক্রে পুস্তকখাণির মুদ্রণকাম্য এযান স্থগিত ছিল, অধুনা সহদয় গ্রাহক

হুধীত্তক্রবৃন্দেন ধিশেষ অনুরেধে গা পুর্ব প্রকাশিত হইতেছে

ত-

শ্রীকুমুদরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

শীগ্ুরুমন্দির-_হাওড়া। |

+্খ11

মাত পুজা ভিথি--১০ই পৌষ, ১৩৩৯। ]

উতৎ্নর্গ।

৭টি মে

আমার আমি গীতাকে নমস্কার করি। আমার গ্গীতাকে আমারই করে সমর্পণ করিলাম | যে আমাকে চিনিয়াছে, তাহারই জন্য গীতা, আান্যের জন্য মছে।

আমি

ভুমিকা

গীতা লইয়া ধন্মজগতে হুলস্ুল পড়িয়া গিয়াছে কেহ ধলেন, গীত। ইতিহাসের আদর্শ ধশ্মভাঁবযুক্ত একটা অপুবব ঘটন| | কেহ বলেন, গীতা! এঁতিহাসিক ঘটনা নহে, ইহা সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান_রূপক ছলে লিখিত কেহ বলেন, গীতা কবির আদর্শ কল্পন। | কেহ বলেন, গীতা একখানি যোগশান্ত্র। নানা চক্ষে গীতা জগতের সমচ্ছে নানারূপে রঞ্জিত

বিনি আমায় গীত। গুনাইয়াছেন, তিনি আমার ধাগ্বিতণ্ডা হইতে রগা করুন।

গীতা কি-আমি জানি না। ভাধায় গাতার সম্পূর্ণ বর্ণনা! করিতে আমি অক্ষম। যতটুকু শক্তি পাইয়াছি, দুই চারি জন সাধকের আগ্রহে তাহাই প্রকাশ করিলাম

গীতা এতিহাসিক আদর্শ ধর্্মভাবযুক্ত ঘটনা-ইহাও সত্যা। গীতা আধ্যাত্মিক যোগবিজ্ঞান--ইহাও সত্য | কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে যাহা ঘটিয়াছিল, তাহা বিরাট্‌ পুরুষের একটা বিরাট লীলা | যোগণঙ্গুপ্সন বাক্তি যেমন আপনার শরীরের মধ্যে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিবিস্ব দেখিতে পান, মনুযাদেহতে যেমন বিরাট ব্রহ্মা্ডের একটা ক্ষুত্র আদর্শ বলিয়া চিনিতে পারেন; বস্তুতঃ বিরাটে দেহ-্রদ্ধাণ্ডে যেমন পরিমাণগত তারতম্য ছাড়া অন্ত কোন ও£ভেদ নাই, তেমনই গীতাসম্বলিত কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনের ঘটনা, এবং বিরাট ত্র্ধাণ্ডের মুক্তির দিকে বিরাট গতি জীবমাত্রের ব্যক্তিগত মুক্তিপথে সঞ্চারণ--এ তিনেও কোন প্রভেদ নাই।

বিরাই পুরুব শ্রাকৃষ্ণরূপে ধরণীতে অবতীর্ণ হইয়া কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে এমন একটা অপুব্ব লীল। দেখাইয়া গিয়াছেন, যাহ! প্রত্যেক পরমাণুতে ব্যস্থিভাবে এবং সমগ্র ত্রদ্মাণ্ডে সমষ্টিভাবে অভিনীত হইতেছে জীব ধীরে ধারে যে প্রকারে মুক্তির দিকে অগ্রসর হয়, সমগ্র ব্রন্মগ্ড যে প্রকারে মুক্তির দ্রিকে অগ্রনর হইতেছে, সাধক প্রবর অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রূপ আদর্শ-রণাঙ্গনে আদর্শ পুরুষ তাহারই একখানি আদর্শ-ছবি দেখাইয়া গিয়াছেন

ইহাই গীতা রস্থকার।

আহ্বান

6851 এস.--এস রে করুণা প্রার্থী আনু, দীন, ছুঃন্বপ্রপীড়িত, পথশ্রান্তি,--এস চিরসাধী এস সখা, এস প্রিয়, এস প্রবঞ্চি

(২) এস লুক্ধ চিন্-স্হচর এস ভীত, পূলি- বিলুষটিত এস শ্কুল। স্নেতেন দোসর এস মবতমেপণ পন চির আপিলিকহাত |

নত)

1 বাতি করলি তপন

স্ব

শায়াচ্ছ" অৎশটকু মোর

এস আছি অপেক্ষায় তন

কত কালি, কত কলে, মুগ যুগাঙ্থব ! (৪)

এস ফিরি আনন্দ-মন্দিলে

নঙ্কারিত প্রণবের মাতদ ;

উচ্ছ্বসিত জ্যোতিব সাগরে

ধৌত্ত করি হৃদয়ের ছুনন্ত বিষাদে (৫)

হের--

চন্দ, স্ধা, তারকা অন্ধ

চির মোরে করে প্রদক্ষিণ ;

হের--জ্যোতিঃমপ্ডতিত দিগন্ত

উচ্ছলি চরণে ঢাহল জ্যেতিঃ চিরদিন

৯/০ €$ ৩১

খন

অমরের চির-ভ্তোত্রশীতি

সিদ্ধধির ওক্কার গর্জন

ভকতের হদিভরা তি

প্রেমে পুজে অবিরাম পদ অন্ুুক্ষণ | (৭)

হের-_

ব্রহ্মা, বিষু্, মহেশ্বর কত

চরণে ল্ুটায় নতশির-_

হের__বিশ্ববিন্দ্ু শত শত

পদ আশে সুহর্তেক নহেক সুস্থির | (৮)

এত এশ্বাষ্যের মাঝে আমি

আঅন্দবাতজির বাজরাজেশ্বর,

ভুলি নাই, ভুলি নাই তোরে

তুই মোর এতট,কু চিরনহচর (৯)

ল*য়ে হৃদিভরা ভালবাসা।'

অাখিভরা প্রীতি অশ্রুজল,

অপেক্ষায় আছি তোর তরে-_

চাহি প্ুখ, মরষ্ের বাঞ্থিত সুন্দর | ১০)

এত ডাকি শুনিতে না পাও £

মায়াঘোরে এত কি ুঙ্গাও ?

দিব ছাড়ি নিজ সিংহাসন

এস হদে ক্ষুদ্র জীব হাদয়ের ধন

টিনিযনীত

উপনিষদ্রহস্য

হীভাল ০মীিন্ক ব্যাঙ্যা

ব্রন্াখণ্ড | %

সর্বেবোপণিযদে! গাবে। দোদা গোপালনন্দনহ।

গার্ধো বমঃ স্থধার্ভোক্তা ছুগ্ধং গীতায়তং মহৎ

বেদের সার-উপনিষং, উপনি সমস্ত রব নিহিত

সভা

আছে) গীত

5 গা।তায়

বদের সারাংএ-গাত শ্রেষ্ট, গীতা আধ্যাত্মিক জগ

| স্উপনিষদে যে ভাই রতুহারাকারে শ্রথিত | গীতা মহং, তের দীপশিখা |

1

7

) 1

7এ !

মতা গীতা নিতা, গীতা আপৌরুষেয়, গীত! অনাদি কাল বরা অনাদিহৃদয়ে

উচ্্মসিত। যেখানে জীব, যেখানে মুক্তিবদ্ধনরূপ জীবন-মরণ সংগ্রাম, সেইখানেই

ভগবানের আবির্ভাব, সেইখানেই সাধকের অভীষ্টসিদ্ধি। সেইখানেই গীতা ভগবৎকণ্ে ধ্বনিত। ভুমি শুনিবে কি ? গীতা ভগবানের মুখের

আশ্বীসবাদী, গীতা--জগন্মাতার স্তনধারা, গাতা-_শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্ত-শঙ্খনাদ, গীতা --জীবের জীবন-প্রবাহের পথপ্রদর্শক, গীতা-_দীপ্ত আলোকশিখা, ভবার্ণবের দিকৃ-নিদর্শনযন্ত।

গীতায় আছে কি ? গীতায় ভগবান্‌ কি শিক্ষা দিয়াছেন? কোন জীব ভগবদ্লাভের জন্য প্রকৃত ব্যাকুল হইলে, ভগবাঁন্‌ তাহাকে তাহারই হৃদয়াভান্তরে

1 থাকিয়া, যে যে প্রকার কর্মন্তরের ভিতর দিয়া লইয়া গিয়া আপন অঙ্গে 25555221522 ৯2০৯425১2 হ্ইবে।

বর্ীধ্ড নামে শীতার মশ্টুকু প্রথমে আছেচিভ হইবে। তারপর বাখ্যায় স্বোকের যৌগিক অর্থ প্রকাশিত

$

উপনিষদ্রহত্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা

মিশাইয়া লয়েন, গীতায় তিনি তাহাই বলিয়াছেন! প্রতোক জীবাত্বার হৃদয়ে থাকিয়৷ সেই বিরাট বিশ্বসারথী, বিশ্বকল্পনা বা মায়ার ভিতর দিয়া ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া তাহাকে বিরাট করিয়! তুলিতেছেন। ইহারই নাম বিশ্বরচনা ! জীবকে নিজের স্বরূপ বুঝাইবার সৃষ্টি-চক্র কল্পিত। আত্মা যতক্ষণ নিজের নিত্য, বিশীলত্ব,র অপরিণামিত্ব এবং একই বুঝিতে না পারে, ততক্ষণই তাহার জীবভাব। ইহারই সাধারণ নাম বন্ধন বা মাধ বা ভ্রান্তি বুঝিতে পারিলেই জীব শিবহ লাভ কবে--ইহাবই নাম যুক্তি। বন্ততঃ বন ৰা মুক্তি বলিয়। কিছু নাই।

ঘাহা হউক, এই অজ্ঞান অবস্থা হইাতে জ্ঞীনময় অবস্থায় যাইতে হইলে, যে যে স্তর দিয়া যেমন করিয়। যাইতে হয়, তাহাবই নাম যোগ-সাধনা। জম্ম মৃত্যু দেহাবস্থান, নানা যোনি ভ্রমণ, অনস্ত যুগ ধরিয়! বিশ্বে বিশ্বে ছুটাছুটি--এ সমস্তই যোগসাধনা মাত্র চৃষ্টি-_ যৌগমন্দিব ব্যতীত আাঁব কিছুই নহে প্রতি আণু গবমাণু- ইহার সাধক, বিবাট বিজ্ঞানময় পুকষ-_ইভাব দেবতা যোগ আর্থে_বিবাট্‌ ্রীনময় পুকষে যুক্ত হওয়া বা নিত্যযুক্ততা পলি কৰা পাঠক | একবার মাঁমস দর্পণে এই বিরাট ঘোঁগ-মন্বিরেব কল্পুন। ফুটাইয়া ভোল একবার কল্পনাব চক্ষে দেখ__ধুকিকণা। হইতে আবরন্ত করিয়া, ধুলিকণ! কেন--ব্যোমপরমাণু হইতে সুচনা করিয়া বিরাট নুর্ধা, এবং কু কীটাণু হইতে সিদ্ধষি পধ্যস্ত সকলেই এক চিদ্ঘন, বিদ্ঞানময় যোগেশ্বাবের হত সংযুক্ত হইবাব জনা তাহাবই শক্তির মঙ্গলনয় আবর্তনের তালে তালে ঘ্ুবিয়া, তাহাকে প্রদক্ষিণ করিতে করিতে, তাহারই অঙ্গে লিপ্ত হইবাঁব জন্য) তীহারই সহিত সংযুক্ত হইবাব জন্ত, ভাঁগারই সহিত একত লাভ করিবার জন্ত, তাহারই ইঙ্গিতে, তাহাবই শক্তির আকর্ষণে শ্লোতে তৃণের মত ভাহীরই দিকে চলিয়াছে, উঠ্িতেছে, পড়িতেছে, মিলাইয়! যাইতেছে, আবার ফুটিয়া উঠিতেছে কখনও হর্ষে। কখনও বিষাদে, কখনও বিশ্বরণে, কখনও জ্বানে_স্বপেঃ জীগিরণে? নৃষুপ্তিতি,-বিকাশে, স্থিতিতে, লয়ে”_এই ভাবে জীবমগ্ডলী যুক্ত হইতে চলিয়াছে। বিরাম নাই, বিচ্ছেদ নাই, বিশ্রীন্তি নাই, বুঝি বা মহাহোগ্ের অবসান নাই। এই যে গতি, ইহাব নাম যোগ নাধনা।

বিষাদযোগ।

তবে যতক্ষর্ণ আমর! একত্ব বুঝি না, ততক্ষণ আমর! নিরুদেশ্যভাব জগতের ধুলিতেই জীবনের চরিতার্থতার উপলব্ধি করি। বস্তুতঃ, যোগী হইলেও তত দিন আমর! সাধারণ কথায় যোগিপদবাচ্য হই নাঁ। মনুষ্যজন্ম অবস্থার শেষ সীমা যখন মানুষ হই তখন সেই বিরাট যোগেশ্বরের আকর্ষণ অনুভব করি। তখন জীব আর অপেক্ষ। করিতে না পারিয়া ভগবদালিঙ্গনে বন্ধ হইবার জন্য কাদিয়া উঠে। সাঁধারণ কথায় ইহাই যোগের প্রথম সুচনা বা যোগজ্ঞানের প্রথম বিকাশ। এই স্থল হইতে যে যে ভাবান্তরের ভিতর দিয়া, ভগবান জীবকে আকর্ষণ করেন, সাধারণ কথায় তাহাই যোগ বলিয়া উল্লিখিত। এত দিন বিশ্বজননীর ক্রোড়ে তাহারই স্তনছুঞ্ধে পুষ্ট হইতে হইতে ঘুমাইয়া যাইতেছিল, 'এইবার জাগিয়া দেখিতে দেখিতে চলিতে শিখিল। এইখান হইতে তিনি প্রত্যেক হৃদয়ে তীর্থ-প্রদর্শকের মত অনস্ত এশ্বর্ধ্যভাগ্ডার দেখাইতে দেখাইতে এবং মধুরুত্ধরে বলিতে বলিতে লইয়া! যান। এইথান হইতে যাহা বলেন--যাহা করেন এবং করান) তাহাই গীতা ভগবংলাভের জন্য প্রাণের বিষাদময় ভাব হইতে ুচন। করিয়া সংযুক্তভাব অবধি গীতা | বিষাদ হইতে সুচন! করিয়। মুক্তি পর্যন্ত যে যে ভাব-পরম্পর! দ্বারা জীব পরিচালিত হয়, শনীতায় তাহাই এক একটি যোগ নানে অভিহিত হইয়াছে কিন্তু বুঝবিও, এই মহাভাবরপ আকর্ষণশ্রেণী বাজ্জয় হইয়া মন্ুষ্য-হৃদয়ে পর পর প্রতিধ্বনিত হয়। যখন জীব শুনিতে পায় তখন সে বুঝিতে পারে, তার আর অধিক বিলম্ব নাই।

বিষাদযোগ

বস্তুতঃ ভগবানের জঙ্ক। সর্বপ্রথম প্রাণ যখন ব্যাকুল হইয়া উঠে, তীব্র বৃশ্চিকদংশনবৎ জীব ষখন সর্বপ্রথম ভগবদ্বিরহ উপলব্ধি করে, বৃথা জীবন অতিবাহিত হইতেছে ভাবিয়া, জীবের প্রাণ যখন হতাঁশের দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়িতে থাকে, সেইটা জীবের জীবনের একটা মহাসন্ধিক্ষণ।

উপনিষদ্রহম্ত ব! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা

সেই সময়ে কুরুক্ষেত্র-সমরাঙ্গনে অজ্ুনের মত, তাহার হৃদয়রপ রখক্ষেত্রের মধ্যস্থলে দিড়াইয়া এক পার্থে সংসার-সংস্কারশ্রেণী স্ত্রী, পু, পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন, দেশ প্রভৃতি পঞ্চেক্দ্িয-সঞ্চিত ভাব বা মায়ার মূর্তিরাজি এবং অপর পার্থে হুতসর্ধন্থ রাজ্যচ্যুত আত্মশক্তিকে পর্যবেক্ষণ করে। ধীর, বিবেচক, বীর-সাধক সেই সময়ে একবার নিজের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করিতে গিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়! পড়ে। এক দির্কে প্রাণাকুল পিপাসা, অন্য দিকে মায়ার সুদৃঢ় বন্ধন,_ এক দিকে আত্মলাভ আশার উজ্জ্বল আলোক, অন্ত দিকে পরার্থে আত্মত্যাগের কমনীয় ক্ষীণ জ্যোতীরেখা,_*এক দিকে প্রভাত, অন্ত দিকে সন্ধ্যা, সাধক এই ছুই দিক্‌ দেখিতে দেখিতে নিস্তেজ হইয়া পড়ে। তাহার উদ্ভমের ধনু খসিয়। পড়ে, শরীর অবসন্ন হইয়া আইসে, শু হয়, সে মায়ার ফাসে রুদ্ধক হইয়। পড়ে

অনস্ত জীবনের মায়ার বন্ধন ছেদন করিতে গিয়া, এইরূপে মায়ার ফাস যখন শেষবারের মত তাহাকে জড়াইয়৷ ধরে, তখন তাহার সেই দুর্বলতা বিজ্ঞতার ছদ্পবেশ প্ররিধান করিয়া অজ্জঞুনের মত ভগবান্কে বলেস্পআমার ভালবাসার চির অধিকারী এই সমস্ত আত্মীয়গণকে হৃদয় হুইতে উচ্ছেদসীধন করিতে হইবে বুঝিয়া, আমি খির হইতে পাঁরিতেছি না, আমি সমস্ত বিপরাত দেথিতেছি। ইহাদের উচ্ছেদমাধনের আবশ্যকত্ক। কি--আমি বুঝিতে পারিতেছি না উহাদের জন্ত আত্মমঙ্লে অলাঞ্জলি দিলে, সে মহাত্যাগের কি মহাফল নাই? সংসার পালনরূপ মহাকর্তব্য পালনে--এমন মহা ন্বার্থত্যাগে কি মনুম্তজীবনের চরিতার্থতা হয় না? পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ত্র, পুত্র, আত্মীয়-স্বজন, হুদয় হইতে ইহাদের উচ্ছেদসাধন করিলে আমাতে কি মহাপাপ অর্শিবে না? না---না-_ আমি পারিব না--আমি আত্মমঙ্গললাতরূপ স্বার্থসাধনের জগ্ঠ স্বার্থত্যাগরূপ মহাধন্মকে উপেক্ষা করিতে উদ্ভত হইয়াছিলাম, আমি মহাপাপে লিপ্ত হইতে-

ছিলাম ! সংসার-ধন্ম পালনে যদি আমার জীবনাস্ত হয়, তাহাও শ্রেয়ঃ-তাহাও আমার হিতকর |

সাধকের প্রাণ লর্ধপ্রথম এইরূপ ভাবাস্তর ব| তগবদাকর্ষণে আন্দোলিত হয়। দদ্দেহ-দোলায় তাহার প্রাণ এইরূপে কাপিয়া উঠে। সংসার ছাড়া কর্তব্য, কিম্বা সংসার-ধণ্ম প্রতিপালনই শ্রেষ্ঠ, এই চিন্তায় তাহার প্রাণ ব্যাকুল হয়।

বিষাদীযে।গ

বিষাদে, সচ্দদহে, আশঙ্কায় যথার্থ যখন সাধকের প্রাণ এইরূপে দিশাহারা হইয়া যায়, তখন আর ভাবিতে না পারিয়া৷ তার বিষাদভরা ক্লাস্ত হৃদয়টুকু লইয়া সে ভগবানের দ্বারস্থ হয়। জীবন-মরণের সঙ্গমস্থলে, মৃত্যুনত্রণার মত বা ততোধিক যন্ত্রণায় কাতর হইয়া সে ভগবানের উপর ভারার্পণ করে। তাহার প্রাণ কাদিয়া কীদিয়া, ফুলিয়া ফুলিয়া বলিতে থাকে,--পতিতের পরিত্রাণ! আর ভাবিতে না পারিয়া তোমার উপর নির্ভর করিলাম, জগন্নাথ! দাও, পথ দেখাইয়া দাও। স্থার্থময় সংসারমরু মাঝে আর কাহাকেও খুজিয়া পাই না-সব যে স্বার্থান্ধ। দীননাথ ! স্বার্থের মদিরায় সব যে অচেতন। একা দুরন্ত মরুর মাঝে, উদ্ধ আকাশের দিকে হতাশ চক্ষু ফিরাইয়া দিগত্রান্ত, অনাথ, শরণাগত, বহু দিন পরে আজ তোমায় আশ্রয়স্থল বলিয়া চিনিতে পারিয়া কাতরে তোমায় ডাকিতেছি ; আর ভাবিব না, আর কিছু করিব না। তুমি পথ দেখাইয়া দাও, তুমি আমার কর্তব্য নিদ্ধারণ করিয়া দাও তোমার উপর সমস্ত ভার অপপণ করিলাম ।”

“বল-__সংসার ত্যাগ করিব, কি সংসাব-ধর্্ম প্রতিপালন করিব? বৈরাগ্য অবলম্বন করিয়া হ্বদয়রাজা হইতে পিতা, মাতা, স্ত্রী, আত্মীয় স্বজন উচ্ছেদন করিয়া দিয় আস্করাজ্যের প্রতিষ্ঠা করিলে তবে আমি সুভ্িলাভ করিব)-কিন্বী আমার জীবনের সমস্ত স্বার্থ তাহাদের জন্য জলাঞ্জলি দিয়া, জীবনের সমস্ত উদ্দেশ্য, ভগবৎসাধনরূপ জীবনের মহাকর্তব্য,-তাহাদের চরণে বলি দেওয়ায় স্বার্থত্যাগরূপ মহাধন্ম সংসাধিত হইতেছে ভাবিয়া নিশ্চিন্তমনে মরণের জন্য অপেক্ষা করিলেই শান্তি পাইব ?” *

এইরূপে সেই মহামুতুত্তে ছর্বলের একমাত্র রক্ষক, আন্তের ভরসা, বিপন্নের পরিত্রীতা, অনাথের বন্ধু, শরণাগতের চিরসখার শরণ লইতে হয়। জীব! তুমি কি সংসারমোহ ছেদনে উদ্যোগী হইয়াছ? তুমি কি আপনাকে আত্মীয়স্বজনের দ্বারা লুষ্টিতসর্ববন্থ ভাবিয়া আত্মরাজ্য উদ্ধারের জঙ্য' সমরায়োজনে উদ্যোগী হইয়াছ ? সোনার সংসার তোমার চক্ষে কি লুন ছলনার লীলাভূমি বলিয়া প্রতিফলিত হইতেছে? পত্বীর প্রেমধারা হলাহল বুৰিয়া তুমি কি আপনাকে বিষজর্জরিত তাবিতেছ ? পুত্রন্নেহের হৃদর়গ্রাহী কমনীয়তা পাষাণের মত্ত তোমার বুকে কি বাঁজিতেছে ? আনম্বীর় স্বঞ্জনের কলকণ্ ভোমার শ্রব্ণকুহরে কি বজধ্যনির মত ঘর্থরিত? তুমি কি মস্ত্রণার

উপনিষদ্রুহন্ত ব। গীভার যৌগিক ব্যাধ্য।।

বোধা বহিতে একান্ত অন্বীকৃত ? আপনার জীবন বুথ! বাঁ দেখিয়া তুমি কি ব্যাকুল? ভীষণ মায়াবর্তের তরঙ্গ হইতে আপনাকে রক্ষা করিতে অশক্ত ভাবিয়া তুমি কি নিরাশ হইয়াছ ? মায়ার সমর-প্রাঙ্গণে মায়াহননে উদ্োগী হইয়া তুমি কি মায়ার ছলনায় আবাঁর ভূলিতেছ ? তবে দাও, তোমার ইল্িয়-অশ্বযোজিত হদয়-রথের রজ্জু বিশ্বসারধীর হস্তে দাও একবার রণক্ষেত্রের মধ্যস্থলে স্তব্ধ- হৃদয়ে দাডাইয়া, নিজের বর্তৃতবরূপ ধন্থু পরিত্যাগ করিয়া, করযোড়ে জ্যোতির্ময় সারধীর নিকট কীদিয়া বল--গ্রভূ ! সখা ! আমি বিপন্ন, আমি মায়ামূঢ, আমি সংসারমায়া হনন করিতে ইচ্ছুক হইয়াও পারিতেছি না আমি স্ত্ীপুত্রের মোহের বন্ধন কাটিতে অশক্ত--আমায় রক্ষা কর, অমায় পথ দেখাও, আমার কর্তব্য নির্ধারিত করিয়া দাও

দেখিবে, শুনিবে, তিনি নিজে স্বরূপে প্রকাশ হইয়া তোমার বিষাদ মোচন করিয়া! দ্রিবেন। গম্ভীর মন্ত্রনিনাদে তোমার হৃদয়ের অভ্যন্তরে সেই অনাথের নাথ বলিয়া উঠিবেন,__“ভীত হইও ন1, তোমার দৌর্র্বল্য পরিত্যাগ কর, আমি তোমার সহায়»-- |

ইহাই বিষাদযোগ | অর্জনের প্রাণে সর্বপ্রথম এই ভাব উদ্দিত হইয়াছিল সীধকমাঞ্জরেরই প্রাণে সর্বপ্রথম এই ভাব উদিত হয়। তবে অজ্ঞুনে অন্তান্য সাঁধকে প্রভেদ কি ? মহাসাধক অর্জুন--সাধকের আদর্শ, তাই অজ্জুন ভগবানকে অন্নময় বা স্ুলকোষে বা জড়দেহে উপভোগ করিয়াছিলেন, জড়দেহে শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনে দাঁড়াইয়া তাহার এই বিষাদ সব্বপ্রথম বিন করিয়াছিলেন আর অন্যান্য সাধক--সাঁধকমান্ত্র ; তাহারা গুদ্ধ মনোময় কোবে ভগবান্কে এইরপে সম্ভোগ করিতে পায়। ভগবানের গীতা মনোময় ক্ষেত্রে মাত্র শুনিতে পাঁয়। আদর্শ সাধক ন। হইলে স্থল কোষে ভগবৎসন্তোগ সচরাচর ঘটে-না।

[বষাদযোগ সমাণ।

পাখ্যযোগ।

সব্বপ্রথম সাধকের প্রাণে যখন এইরপ প্রশ্ন উঠে, তখন তাহাতে তাহার মায়ার গন্ধ থাকে, সেই জন্ত ভগবান্‌ অগ্রে নিত্য এবং অনিত্য সম্বন্ধে চক্ষু ফুটাইয়া দেন। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের বহুরূপত্ব ঘুচিয়া গিয়া! তাহার চক্ষে প্রধানত; ছুইটা বিষয় প্রত্যক্ষীভূত হয় অর্ধাং ব্রহ্মাণ্ডট| ছুই ভাগে বিভক্ত বলিয়া তাহার ধারণা হয়। প্রত্যেক পদার্থে প্রত্যেক অণু পরমাণুতে ছুই প্রকারের উপলবি তাহার প্রাণে ফুটিয়। উঠে। যেকোন বন্ধ তাহার ইন্দ্রিয়গোচর হয়, তাহারই মধ্যে তাহার প্রাণ ছুইটি স্তর উপলব্ধি করিতে প্রয়াস পায় কোন ভাব ব৷ বস্ত মনে প্রতিফলিত হইলে, তাহার্তে নিত্য কতটুকু এবং অনিত্য কতটুকু, এই বিচারে তাহার প্রাণ বাস্ত থাকে। সে জগতের সনন্ত বিষয়, সমস্ত পদার্থ উষ্টাইয়া পাল্টাইয়!, চিরিয়া চিরিয়া তাহার ভিতর নিতা কতটুকু, বাহির করিতে প্রয়াস পায়। প্রত্যেক পদার্থের ভিতর তাহার প্রাথ ভগবান্‌কে অন্বেষণ করে। প্রত্যেক পদার্থকে তাহার ইন্ড্রিয়সকল পদার্থ বলিয়া যেমনি উপভোগ করে, অমনি তাহার প্রাণ মৃত্তিমান্‌ ভগবান্‌কে তাহারই মধ্যে অন্বেষণ করে। প্রাকৃতিক শোভা! দর্শনে, কুম্বম আভাণে। সুকুমার পুত্র আলিঙ্গনে, জননীর নেহ-সম্ভাবণে অথবা মধুর রমাম্বাদনে, সর্বত্র তাহার প্রাণ কীরদিয়া বলে,_-“কই প্রভু ! কই জগন্নাথ ! তুমি কোথায় ? কোথায় তুমি নিত্য সর্বব্যাপী মহাপুরুষ ? কোথায় তুমি বিশ্বপ্রসবিনী জননী? ইহাতে তোমার অধিষ্ঠান কই ? আমি তোমায় দেখিতে পাইতেছি না কেন? জানি তুমি ইহাতে আছ --জানি তুমি সব্বভূতে বিরাঞজিত, শুনিয়াছি তমি ভূতে ভূতে প্রতিষ্ঠিত, তবে আমি তোমায় চাক্ষুষ দেখিতে পাইতেছি না কেন? জানি তুমি স্ত্রীতে আছ, জানি তুমি পত্রে আছ, কিন্তু আমি স্ত্রীপুত্ণ মাত্র দেখিতেছি কেন? আমি যে কেবল পঞ্চভৃতসম্তি মাত্র দেখিতেছি? তুমি মৃত্তিমতী হইয়! স্জন্নি! কেন আমার ইন্দ্রিয়গোচর হইতেছ না? ফুলটিকে ফুল বলিয়া আমার ইন্দ্রিয় চিনিতেছে কে মা? আমার লালায়িত প্রাণ ইহাতে

উপনিষদ্রভ্ম্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা।

তোমাকে অধিষ্ঠাতা দেখিতে চাহে, তবে কেন আমার ইক্দিয় তোমাকে প্রত্যক্ষীভূত করাইতে পারে না? ফুলে ফুলে কই তুমি মা? পল্লবে পল্পবে, বক্ষে বৃক্ষে, পর্ববতে, অরণ্যে, চন্দরে, সূর্যে, আকাশে, পুজ্রে, কলছে, উরগে শ্বাপদে। জলে, স্থলে, অনলে, অনিলে কই তুমি মা ! শীতে, উষ্ষে, আলোকে অন্ধকারে, রোগে, সন্তোগে কই তুমি মা? শবে, স্পর্শে, রূপে, রসে কই তুমি মা? সুখে, হুঃখেসম্পদে, বিপদে. সন্তাপে, শান্তিতে কই ভুমি মা? সন্দেহে, বিশ্বাসে, সংশয়ে আশয়ে__হতাশে, আশ্বীসে, কই--কই তুমি মা ? আমার ইন্দ্রিয় তোমায় খুঁজিয়া পায় না কেন?” এই ভাবে তাহার প্রাণ কাদতে থাকে ; অর্থাৎ যেমন একটী পল্লব দেখিবামাত্র তাহার বৃত্ত পত্র ভিন্ন ভিন্ন রূপে বুঝিতে পারা যায়, সেইরূপ সে প্রত্যক পদার্থে কোন্টুকু ভগবান্-_ইন্ড্রিয়ের দ্বারা খজিয়া বাহির করিতে চেষ্টা করে। কেবল মাত্র পদার্থে নে, ক্রমশঃ সে পদার্থের শক্তিতে মানসিক ভাবের মধ্যে ভগবানকে দেখিতে প্রয়াস পায়। ভগবানকে পাইবার জন্য অধীর হইয়া উঠে। তখন ভগবান্‌ ভাহার চক্ষু আরও একটু উন্মীলিত করিয়া দেন। জগৎ ছাড়িয়! আপনার দিকে তাহার লক্ষ্য পড়ে এক অভিনব বিশাল ব্যাপার তাহার হৃদয়ে আসিয়া উপস্থিত হয়। মায়ার কেন্দ্র কোথায়? মায়াৰ উচ্ছেদ সাধন করিতে হইলে, কার্ধাতঃ কত দূর উচ্ছেদিত হয় ? মায়া কত _কত দূর বিস্তৃত, তাহ! সে জানিত না। এই সদ্ধিক্ষণে সে দেখিতে পার, সংসার ত্যাগ করিলেই মায়ার উচ্ছেদ হয় না। মায়া বাহিরে নহে, মায়া ভিতরে | বহির্জগতে মায়া বলিয়া কিছুই নাই, মাঁয়ার ক্ষেত্র তাহারই অন্তরে ইন্দ্রিয়সকল বহির্জগণ্ হইতে যে সমস্ত জিনিষ আনিয়। তাহার অস্তুরে সংস্কারাকারে সাজাইয়া দিয়াছে, সেই স্কারগুলির সহিত তাদাত্বাভাব মায়া মায়ার উচ্ছেদসাধন অর্থে--এই তাদাঝ্যুভাবের উচ্ছেদ। এইরূপ বুঝিয়া সে ারও কাতর হইয়া উঠে। তবে আমি কি লইয়া থাকিব? ইন্দ্িয়াদি বিষয়-সকল উচ্ছেদিত হইলে, আমার আমিতের অন্তিথ কত দূর সম্তবপর,_-এই মহাপ্রশ্ন তাহার হৃদয়ক্ষেত্রকে বিশৃঙ্খল করিয়। ভুলে। দে আপনাকে আপনারই ভিতর খু'জিতে থাকে। তন্ন তন্ করিয়া আপনাকে চিরিয়া, তার আমিতটুকু কোথায়-__দেখিতে চেষ্টা করে। এইরূপ কিছু দিন অন্বেষণ করিতে করিতে সে সঙ্গে সঙ্গে বুঝিতে পারে, জগতের সমস্ত পদার্থ আর কিছুই মহ, কৃবূল এক মহাশক্তির দাত্বাব তারতম্য

সাঙ্যযোগ টা

মাব্। সমস্ত ব্রক্াণ্ড প্রথমতঃ শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ, এই পাঁচ প্রকার তন্মাত্রার সমষ্টি মাত্রে পরিণত হয়। তারপর জ্ঞান উপলব্ধির আরও উচ্চ স্তরে আরোহণ করিলে সে বুঝিতে পারে, এই পাঁচ প্রকার উপলবিও বস্তুত; পাঁচ প্রকার জিনিষ নহে, একটা অনন্তব্যাপিনী শক্তিত্তরঙ্গের ইতরবিশেষ স্পন্দনমাত্র। যেমন সমুদ্রের গ্রে বৃহৎ তরঙ্গের মধ্যে বস্তুগত কোন পার্থক্য নাই, কেবল ম্পন্দনের ইতর- বিশেষ, তদ্রপ জগতের শব্দ? স্পর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন অনুভূতিও কেবল কপন্দনের ইতরবিশেষ মান্ত্। সাধক বুঝিতে পারে, যেমন সূর্ধ্য হইতে জ্যোতিস্তরঙ্গরাশি অনস্ত যোজন ব্যাপিয়! চারি ধারে অহনিশ তরঙ্গের পর তরঙ্গে প্রধাবিত হইতেছে, জ্যোতির তরঙ্গে তরঙ্গে ঘাতপ্রতিঘাত পাইয়া যেমন অসীম, অনন্ত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গবিভাগে ব্যোমমণ্ডল অবিরত তরঙ্গময় হইয়! রহিয়াছে, বস্ততে বস্তুতে সুর্যের সে তরঙ্গ- রাশি প্রতিহত হইয়া! যেমন অনন্ত প্রকারের বর্ণরঞ্জনার অপূর্ব স্থাষ্টবৈচিত্র্য সংঘটিত হইতেছে, একই স্থর্যালোক যেমন প্রতিরোধ বা আঘাতের তারতম্যে বিতিন্ন বর্ণে প্রতীয়মান হইতেছে,_-যেমন জগতের লাল, নীল, পীভ, হরিৎ, ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন বর্ণবিস্তান বস্ততঃ; আর কিছুই নহে, একই ঘুরধ্যালোকরাশির নান। গান্তার বা নানা প্রকারের তরঙ্গ ভঙ্গমা ব্রঁ-অর্থাৎ একই সূয্যালোক নানা বস্তুতে তল্পবিস্তর মাত্রার তারতম্য নানাপ্রকারে প্রতিহত হইয়া যেমন বিভিন্ন বর্ণরাশি জগতের চক্ষে ফুটাইয়া তুলিতেছে, তেমনই কোন এক অব্যক্ত কেন্দ্র হইতে একপ্রকার জ্পন্দনে এক মহাশক্তি অহন্নিশ স্ষুরিত। তাহার হৃদয়ে কোথায় কোনু দূর অব্যক্ত কেন্তর হইতে শক্তির স্পন্দন অহনিশ স্কুরিত হইয়া, তাহার সংস্কাররাশিতে প্রতিঘাত পাইয়া অনন্ত প্রকারের তরঙ্গভঙ্গ স্ছজন করিতেছে-_অনম্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ অপূর্ব জড় জগদ্ভ্রাত্তি বা জীবত্বান্ভৃতি এই প্রকারে তাহার হৃদয়ে অহনিশ রচিত হইতেছে গুধু শব্দ-স্পর্শ-রূপ-রস-গন্ধময় জড়জগৎ নহে--কাম, ক্রোধ, লোভ, ভক্তি, করুণা, প্রীতি ইত্যাদি মানসিক বিকারসমষ্টিও বা মনোময় জগৎও বিভিন্ন প্রকীরের স্পন্দনমান্র বলিয়। সে চিনিতে পারে জ্ঞানে বর্ধরতায়, ভক্তি বিভৃষ্ণায়, করুণা নিষ্ঠুরতায়, দয়। কার্পণ্যে, অথবা কামে, ক্রোধে লোভে বা ভক্তি, ন্েহ প্রেমে,-সে বস্তুগত কোন তারতম্য দেখিতে পায় না। কেবলমাত্র প্রতিঘাত বা স্পন্দন বা মাত্রার তারতম্য বলিয়া উপলব্ধি হয়। যেমন

৪5 উপনিষদ্রহশ্ট বা গীতার যৌগিক ব্যাথা!।

সমুদ্রের একই জলে ছোট বড় তরঙ্গ, যেমন সুর্যের একই আলোকে গীত লোহিত ইত্যাদি বিভিন্ন মালার তরঙ্গ--তেমনই সমস্ত মানসিক সি নেই একই শক্তির বিভিন্ন মাত্রার স্পন্দন বলিয়া পরিলক্ষিত হয় বস্তুতঃ, আমর! যাহা কিছু দেখি, শুনি বা অনুভব করি, সে সমস্ত বাহিরে নহে--ভিতরে ; আমার নিজের হয়ে কোন এক অব্যক্ত স্থানে সে সমস্ত উপলব্ধি হয়। সাধারণতঃ আমাদের মনে হয়--বহিজ্জগৎ যেন আমর! বাহিরে দেখিতেছি, শুনিতেছি, স্পর্শ করিতেছি, আঘ্রাণ করিতেছি বা আস্বাদন করিতেছি ; কিন্ত বস্তত; হইতেছে কি ? বহির্ঘ্গং আমার চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা গুভৃতি ইন্জিয়- বর্গে স্পৃ হইয়া আমার সংস্কারপুঞ্জে গিয়। ধাকা! দিতেছে সেই ধাক্কায় আমার 'স্কারচক্র নান! প্রকারে স্পন্দিত'হইতেছে সেই নান! প্রকারের স্পন্দন রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্নেহ, ভক্তি, প্রীতি, পাপ, পুণ্য ইত্যাদি নানা প্রকার অনুভব জন্মা- ইয়া দিতেছে ন্েেহ, প্রেম, ভক্তি বা ক্রোধ, কাম ইত্যাদি ষেমন বাহিরে নহে, ভিতরে,- তেমনি শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ইত্যার্দিও বাহিরে নহে ভিতরে। তাহা যদি না হইত, তবে একই বস্ত বিভিন্ন হৃদয়ে বিভিন্ন প্রকারে অনুভূত হইত না তুমি তোমার ম্বীয় হযে এক্‌ প্রকারে, পুত্রের হ্বদয়ে এক গ্রকারে, আম্ীয়-সদয়ে অন্ত প্রকারে, শক্র-হদয়ে অন্ত এক প্রকারে প্রতিফলিত হও কেন? তোমার স্ত্রী তোমায় দেখিলে তাহার হৃদয়ে তোমার সন্বন্ধীয় ষে সংস্কাররাশি গ্রচ্ছর হইয়া আছে, সেইগুলি ফুটিয়া উঠিয়া স্বামিত্ের অনুভূতি ফুটাইয়। তোলে তোমার পু্ের হৃদয়ে তোমার সম্বন্ধীয় যে সংস্কাররাশি প্রচ্ছন্ন আছে, তোমার দর্শনে সেই- গুলি পিতৃ-অন্ুভূতি ফুটাইয়া দেয়। এইরূপে একই ভুমি বিভিন্ন হদয়ে সংস্কারের তারতম্যে কোথাও পিতা, কোথাও জাতা, কোথাও শক্র, কোথাও মিত্র ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে ফুটিয়া উঠ। এইরূপ সমস্ত--ত্রহ্মা্ড উপলব্ধি এইরূপে হয়। বাহিরে কিছু নাই, কেবলমাত্র এক বিশাল শক্তির নামরূপক্রিয়াময় তরঙ্গভঙ্গ আছে। আর সেই শক্তিতরঙ্গরাশি, সেই শক্তিসমুদ্রের আবর্তননকল মনুষ্য, পণ্ড, পক্ষী, কীট, পতঙ্গ প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন সংস্কারপুঞ্জে বা জীবভাবে প্রতিহত হইয়! ভিন্ন ভিন্ন রূপে অনুভূত হইতেছে মাত্র এইরূপে মে সাধক আপনার হদয়াভ্যন্তরে কেন্দ্রের বা নিজের স্বরূপের ঈষৎ আভাপ পায়। সে নিজের ভিতরে এক অব্যক্ত আদি সনাতন অথচ কেন্ত্র"” আর তাহার উপর চেতনার ব1 চৈতগ্যশক্তির অবিশ্রাম স্ষুরণ-ম্সেই নিজ ঠেতস্থ-

সীঞ্্যযোগ। | ১১

স্ষুরণের সহিষ্ত বহির্জগতের বিরাট স্ষুরণের ঘাতপ্রতিঘাত-_-সেই উভয় তরঙ্গ- সংঘাতের ফলম্বরূপ নিজের ঠেতম্থতরঙ্গের বিভিন্নপ্রকার আন্দোলন তাদাত্ম্যবোধ--তাহাতে জগংরূপ নানা দৃশ্যের বিকাশ-_পিতা, মাতা, ভ্রাতা, পুত্র, মিত্র,শত্র ইত্যাদি নানা কল্পনা-বৈচিত্র্ের মৃূর্তের ব্যক্তভাব,- এবং ক্গণকাল পরে সে কল্পনারা শর অব্যক্তে মিশাইয়া যাওয়া---এইগুলির ধা'রে ধীরে আভা পাইয়া থাকে।

কিন্ত সহসা যেন বিছ্থ্যতের মত আর একটা অপূর্ব জ্যোতি? তাহার হৃদয়ে ঝলসিয়া উঠে জন্ম-মৃত্যু-অবস্থান, সমস্ত কিছুই নহে--বসন পরিবর্তনের মত কেবল শক্তি বা সংস্কারের পরিবর্তন মাত্র! পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, সব চিত্তের ভাববিপধ্যয় ছাড়। কিছুই নহে। কি আশ্চর্য্য ! ভাবের প্রহেলিক৷ নিত্য জন্মাইতেছে, নিত্য লুপ্ত হইতেছে, ছুটিতেছে, নিবিয়া যাইতেছে, ইহার জন্য শোক কি? ইহাতে চিন্তার বিষয় কি আছে ? আমি এই জ্ঞানে যুক্ত হইয়া থাকি না কেন? স.সার ছাড়ি বা সংসারে থাকি-_-তাহাতে আমার আসে যায় কি? কি--এ আবার কি সমস্তা ! আমার আবার মুখ ছুঃখ কি ? লাভ অলাভই বা কি? মায়ার উচ্ছেদসাধন করিলে) সংসাররণকেত্রে থাকিয়। ইন্জ্িয়-সংগ্রামে বিজয়ী হইলে, আমার আত্মরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইবে সত্য, যাহাদিগকে ত্যাগ করিতে কাতর হইয়া- ছিলাম, সে সকল ক্ষণস্থায়ী ইন্দ্িয়বিকারের উচ্ছেদসাধনে আমার কোন ক্ষতি নাই সত্য, সিদ্ধি বা অসিদ্ধিতে সমান ভাবিয়া, আমি আত্মজ্বানের উপর নির্ভর করিয়া, ইন্দ্রিয়গণের উচ্ছেদ্সাধনে যত্বপর হইতে পারি সত্য; কিন্তু তাহাতে আমার থাকিবে কি? অনাত্ম পদার্থই আত্মীয়রূপে প্রকাশ পাইতেছে-- ইহাদিগের উচ্ছেদ অবশ্যই সংসাধ্য। কিন্তু সব ছাঁড়িলে আমার যাহা থাকিবে, তাহাতে সখ কি -আত্মন্বরূপে এমন কি প্রাপ্তি আছে, যাহার জন্ত এত প্রত্যক্ষ সুখময় আমিত্বকে উচ্ছেদিত করিব ?

আত্মানাত্মবিচারকালে অজ্ঞানাচ্ছন্ন জীবের আত্মমহিমা জানা ন৷ থাকায় এইরূপ সমস্তা। উদ্দিত হইতে থাকে

সাধ্যযেগ সমাধু।

ত্ড

শনীন্বন্ভঙ্গান্যদ্সীভা বিষ।দযোগ

ধৃতরাষ্্রী উবাচ। ধণ্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে মমবেতা যুযুৎ্সবঃ। মামকাঃ পাগুবাশ্চৈব কিমকুর্ববত সঞ্জয়

ধৃতরাষ্ট্র কহিলেন,_সঞ্জয় 1 মৎপক্ষীয়গণ এবং পাগুবের! যুদ্ধার্থী হইয়া ধর্ক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেত হইয়া! কি করিলেন ?

শ্রীমন্তগবদগীতা __

ভগবদগীতা কি ?--ভগবানের গান। অনম্ত অফুরস্ত সঙ্গীতলহরী।

বিচিত্র ব্রহ্মাগুমগ্ডল এক অপূর্ব সঙ্গীতের বঙ্কার ব্যতীত আর কিছুই নহে | সে অপূর্ব্ব সঙ্গীতক্রোত অনন্ত কাল ধরিয়া সপ্তুলোকের দিন্দিগন্ত ব্যাপিয়া ধ্বনিত অনন্তের পরমাণুতে পরমাণুতে উচ্দ্রসিত। সে জঙ্গীত মহাশক্তির প্রথম অভিব্যক্তি। নাম তাহার প্রণব _আকর্ষণ তাহার নর স্যগ্রিবিকাশ তাহার মুচ্ছনা__লয় তাহার ভাব ব। লয়। শৃত্র, বৈশ্য, ক্ষত্রিয় তাহার তিনটা তাল-_ ্রাহ্মণ--শৃন্ত বা মান।

সে আকর্ষণ বা সুর ষড়জ, ধষভ আদি সাত ভাগে বিভক্ত মেই সাত ভাগে উ* তুব» স্বঃ আদি সপ্তলোক রচিত, প্রতিষ্ঠিত, অনুপ্রাণিত। স্মষ্ি-স্থিতি-লয় তাহার মাত্রা

€ততামরা সে গানের মোহন ঝঙ্কার শুনিবে কি?

সে গান প্রতি মন্তুয্য-হৃদয়ে শুনিতে পাওয়। যায়;--সে গানের অমৃতত্রাধ প্রত্যেক জীবকে অহনিশ অভিষিক্ত করে; তবে মনুস্ত-হৃদয়ে তাহা সুটতর। €ন গানের মোহন বন্ধার একবার শুনিলে-_মুররেখা একবার কামে গিয়া

উপনিষদ্বহন্ত বা গীহাঁর যৌন্সির বাখা।

বাজিলে-_আর জীব থাকিতে পারে না। চুষ্বকাকৃষ্ট লৌহের মৃত জীব কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়। কেন না, আকর্ষণই সে ম্থুরের ধন্ম। কোন গৃহে কতক- গুলি তারের যন্ত্র এক রকম নুরে বাঁধিয়। রাখিয়া, একটী যন্ত্রে বঙ্কার দিলে, যেমন সমস্ত যন্ত্রে সে বঙ্কার প্রতিধ্বনিত হয়, তেমনই ভগবানের সে অপূর্ব বাণার বঙ্কার বা গান কুরুক্ষেত্ররূপ প্রতি মনুষ্যদ্ধদয়ে অহপনিশ প্রতিধ্বনিত।

তুমি সে বঙ্কীর শুনিয়াছ কি!

সে বস্কারের রূপ আছে-_সে বঙ্কার জ্যোতির্ময়! সহত্র বিজলি আলোক একত্রে দীপ্তি পাইলেও তাহার তুলনা হয় না; সুর্মালোক তাহার ম্লান অংশমা র। জ্যোতি:ই সে নুরের প্রাণ। বাঝুর তাড়নায় যেমন সাগরবারিরাশি বিশাল তরঙে আন্দোলিত হয়, নুরের তালে তালে সে জ্যোতির সাগর তেমনই দল্‌ দূল্‌ আন্দোলিত। তরঙ্গে তরঙ্গে অপূর্ব চাকৃচিক্যময় অনন্ত বর্ণের বিকাশ। স্রোতে যেমন জল চক্রাকারে আবর্তিত হয় সে জ্রোতিবিস্তারে তেমনই আবর্তনে আবর্তনে শুভ্র, গীত, হরিৎ, লোহিতাদি কত অপূর্ব বর্ণবিশিষট হূর্ধারাশি প্রস্কুরিত ; _ফুটিতেছে, থাকিতেছে মিলাইয়। যাইতেছে সব সেই একই নুরের তালে তালে!

তোমর। সে জ্যোতির সাগর দেখিবে কি? তবে অবহিতচিন্তে গীতা বুঝিতে চেষ্টা কর।

আবার বলি--গীত সেই জ্যোতির্ময গান। ইহা! তোমার হৃদয়াকাশে গীত -ধ্বনিত। প্রতি ঝঙ্কারে তোমার হৃদয় জ্যোতির্নয় হইয়া উঠিতেছে,_ প্রতি বঙ্কারে তোমার প্রাণশক্তি উজ্জীবিত হইয়া উঠিতেছে। অথবা! সেই বস্কারই তোমার প্রাণ, তাই ভূমি জীবিত। জীব! দেখ! দেখ! শুন! শুন!

পূর্ধ্বে বলিয়াছি, সে গানের স্থুর আকর্ষণ। কা'র আকর্ষণ, কিসের অন্ত আকর্ষণ__স্থুল কথায় বুঝাইবার চেষ্টা করি।

নূর্য্যমগ্ডল হইতে স্ফুলিঙ্গবং জ্যোতিষ্কমগ্ুলমকল চারি ধারে প্রক্ষিপ্ত হইয়া গ্র্থ উপগ্রহ আকারে যেমন তাহারই আবর্ধণে ঘুরিতেছে, এক বিরাট আকর্ষণ- শক্তির দ্বারা! যেমন গ্রহচন্র সুর্ধেযর সহিত সম্বদ্ধ, তেমনই চৈতন্তরাজ্যে চৈতত্যম়ী মায়ের আমার শ্ুলিঙ্গরূপ আমরা, তাহারই ইচ্ছায় তাহ! হইতে গ্রক্ষিপ্ত ছইইয়া, তাহারই আকর্ষণে তাঁহার চারি ধারে প্রদক্ষিণ করিতেছি চৈতন্তের ্ুত্যেক পরমাণুতে পরমাগুতে নিজের বিরাট্ত্ব উপলব্ধি করাইবার জগ্তা, নিজের

উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার গৌগিক ব্যাখা

অপূর্ব এ্ব্ধ্যস্বোভ। ফলাইয়! ভূঁলিবার জন্য, আপন অঙ্গ হইতে বিকর্ষণশক্তি বা. প্রবৃত্তি-প্রভাবে প্রক্ষিপ্ত করিয়া, সঙ্গে সঙ্ষে আকর্ষণশক্তির দ্বারা মা আমার জীবসকলকে ধারণ করিয়া! আছেম। ম1 যেমন শিশু সন্তানকে আনন্দিত করিতে উর্দে ছু'ড়িয়া দিয়া, হাত ছুইটী পাঁতিয়! তাহাকে পরিবার জন্য অপেক্ষা করে, ঠিক তেমনই ভাবে বিশ্বজননী আমাদিগকে বিকর্ষণশক্তি-প্রভাবে বিক্ষিপ্ত করিয়া, আবার ক্রোড়ে ধারণ করিবার জন্য আকর্ষণশক্তির্প কর পাতিয়া অপেক্ষা করিতেছেন বিকর্ষণশক্তি ফুরাইলে আবার আমরা আকর্ষণশক্তিপ্রভাবে মাতৃ-অস্কে সংযুক্ত হইব। সারা ব্রদ্মাগ্ুমগ্ডলে এই আকর্ষণ বিকর্ষণশক্তির ক্রীড়া চলিতেছে এই ছুইটী শক্তির সাধারণ নাম প্রবৃত্তি নিবৃত্তি বলা যাইতে পারে। |

কিন্তু বুঝিও, বিকর্ষণশক্তি কিছুক্ষণ কার্ধ্যকরী হইলেও আকর্ষণশক্কি তাহার ভিতর দিয়াও প্রবাহিত আকর্ষণশক্তির বিরাম নাই ।-আ্োতের জল যেমন ধাক্কা! বা রোধ প্রাপ্ত হইলে, ফুলিয়। উঠিয়া, আবার স্রোতে মিলাইয়া যায়, তেমনই বিরাট ঠচতন্যময়ী মায়ের আমার চৈতন্তকণ। যেখানে যেখানে অহংজ্ঞানের প্রতিরোধ প্রাপ্ত হয়, সেইখানে'সেইখানে মে চৈতন্ভ জীবাকারে ফুলিয়া উঠিয়া, আবার সে রোধশক্তির অবসানে চৈভন্যন্দ্োতে মিশিয় যায়। মায়ের আকর্ষণ- শক্তির শ্রোত এইরঃস অবিরত প্রবাহিত

পুর্বে বলিয়ছি, আকর্ষণশক্তিই গীতা 'প্রণবের বঙ্কার জীব-হদয়রূপ কুরুক্ষেত্রে গীতাঁরূপে বাজিয়া উঠে। আকর্ষণশক্তি, প্রণব, মুর, নিবৃতি--এ সব প্রায় একই কথা। এবং এই আকর্ষণ 'ও বিকর্ষণশর্তির বা নিবৃত্তি প্রবৃত্তির সংঘর্ষণই ঝুরুপাণগ্ডবের যুদ্ধ

প্রতি জীব-হ্ৃদয়ে প্রণব ধনিত। গীতা--এই প্রণবের বিশ্লেষণ। জীব- হৃদয় যখন যথার্থ কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনে পরিণত হয়, তখন হইতে প্রণব বিশ্লেষিত হইয়া কতকগুলি বাহ্য় শ্রেণীবদ্ধ ভাবরাশিতে ফুটিয়া উঠে। সেইগুলি গীতাঁয় পর পর অধ্যায় আকারে বিভক্ত

অর্থাৎ জীব যখন আপনাকে সাধক বলিয়া চিনিতে পারে, তখন সে সর্ধ- প্রথম এই প্রণব বা অনাহত নাদ শুনিতে পায়। সেই নাদ শ্রুতিগোচর হইবার পর হইতে প্রথমে বিষাদভাব, তারপর সাংখ্য বা নিত্যানিত্য বিচার বা প্রকৃতি- পুরুষ-বিচার-ভাব ) এই সকল ভাবশ্রেণী পর পর ফুটিয়া উঠিতে থাকে, তাহার প্রাথ সেই সকল ভাবে মগ্ন হইয়। যায়। সে আপনাকে এরূপ ভাবসমদ্রি মাত

উপনিষদূরহশ্ব ব। গীতাঁর যৌগিক বা1২)।

বলিয়া প্রত্যক্ষ করে। সে অনাহত নাঁদ যেন গীতারপ শব বা সুরতরাদ বিশ্লেষিত হইতে থাকে বঙ্কারের পর বন্কার তাহার প্রাণকে মাতাইয়। তোলে ভগবরদাকর্ষণের প্রবল বন্থায় সে ভাষিয়া বিরাটে গিয়া পৌছায়, বিরাট্রূপ দর্শনে কৃতকৃতার্থ হয়। গীতার প্রথম এগারটি অধায়ে এই অবধি মআছে।

তারপর--তারপর, সমুদ্রে বিশ্বক্ফোটনের মত ধীরে ধাঁরে সে লিদ্ধ সাধক মাতৃ- অঙ্কে মিলাইয়া যায়। গ্বীতার দ্বাদশ অধ্যায়, হইতে অবশিষ্ট অংশটুকু এই মিলনের স্রোত

আবার বলি--জীব! তোমার হুদয়বীণাকে বাধ। রে মিলাইয়া তস্ত্রীগুলি করিয়া! যদি বীধিতে পার, ভগবানের আঁকর্ষণ-গান তোমার বুকের ভিতর বঙ্কার দিয়। উঠিবে। গুনিবে,-যে গানের অন্ৃতধারায় বিরাট ত্রঙ্গাণ্ড প্লাবিত, যে গানে ত্রদ্ধা, বিষণ, মহগ্বর অনন্ত যুগ সমন, সেই গান তোঁমার প্রাণ গাহিতেছে !!!

ঘৃতরাষ্র_

ধুতরাষ্ট্রী কে? যাহার দ্বার! রাষ্ী ধৃত ব। অধিকৃত, তাহ্থাকেই ধৃতরাষ্ট বলে। পূর্বে বলিয়াছি, বিশাল জগতে দুইটা শক্তির ক্রিয়া চলিতেছে একটা আবর্ষণীশক্তি--যাহ! গীতাঁরুপে মনুয্যধ্দয়ে মধুর বঙ্কারে ধ্বনিত হয় এবং অপর্টা বিবর্ষীশক্তি, যা প্রত্যেক জীবাহ্থাকে বা ভগব্দংঅকে জ্ঞানৈশর্্য লীতের জন্ত ভগবান্‌ হইতে দূরে কিছু দিনের জন্য প্রক্ষিপ্ত করে। ভগবানের প্রত্যেক অথুতে অথুতে অহংজ্ঞান যত ফুটিয়। উঠিতে থাকে, তাহার ইচ্ছাশক্তি নিজের যোগৈশ্বরধ্য দেখিবার জন্য তত লালায়িত হর। রাজ যেমন নিজের রাজ্য পরিদর্শন করে, তেমনি ভাবে ভগবানের প্রত্যেক ক্ষুত্র ক্ষুদ্র অংশ বা ্ীবাঁত্স। নিজের অনস্ত মহিমা, অপূর্ব যোগশক্তি দেখিবার জন্য বিরাট চৈতত্তময়ী ভগবৎশক্তির দ্বারা নিরঞ্জনভীব হুইতে ভাবরঞ্নাযুক্ত সন্তার্ণ অহংজ্ঞানের সাকার দীমার ভিতর প্রবেশ করিতে থাকে এই যে ভাবশন্ত অবস্থা হইতে চৈতস্তময় তাঁবরাজ্যে প্রবেশ, ইহা ভগবানের বা জীবাস্থার বিক্ষেপশক্তির দ্বারা হইয়। থাকে ইহারই নাম প্রবৃত্তি বা ধৃতরাষ্ী। এই অন্ধ প্রবৃত্তি অহংজ্ঞানের সন্কীর্ণ সীমায় চৈতন্শক্তিকে ক্রমশ; সন্থৃচিত করিয়া সাকার জড় উপাধি- বিশিষ্ট জীবে পরিণত করে। “আমি আছি”, “আমি আছি”, ইত্যাকার জ্ঞান জীবের হুদয়ে অহগ্সিশ ক্ফুরিত হয়। “আমি আছি”, "আমি আছি” বা এই আমিত্বজ্রান যতই ক্রমশঃ স্ফুটতর হইতে থাকে। ততই বঙ্গে মঙ্গে “আমার?

উপনিষদ্রহম্ত বা ঈীভাঁর ফৌ(গক ব্যাথা]।

“তোমার” ইক্যকার জ্ঞান পরিবর্ধিত হয় ততই জীব. উদ্ভিদ, ক্রিমি, কীট, পতঙ্গ, পশু, পক্ষী ইত্যাদি জন্মস্তরের ভিতর দিয় পর্ণ আমিত্ের দিকে ছুটিতে থাকে তাহার আমিত্বের তৃযা! প্রবল হইতে প্রবলতর হইতে থাঁকে-- চৈতন্য উজ্্বল হইতে উজ্জ্লতর হয়।

এইরূপে শেষ জীব নরাকারে পরিণত হয়। এইখানে আমিত্বের পূর্ণবিকাশ বিশ্লেষণ যেমন শিল্পী, প্রস্তরখণ্ড হইতে ইচ্ছামত কোন মূর্তি খোদিত করিয়া লইয়া! অবশিষ্ট অংশ দূরে প্রক্ষিপ্ত করে, তদ্রুপ এত দিন ধরিয়া জীব আমিত্ব- ভাবের ঘে একটী সপ সঞ্চিত করিয়া! আসিতেছিল, মঞ্ুষ্যজন্মে তাহা হইতে নিজের প্রয়োজন ব৷ প্রবৃত্তি অনুযায়ী একটা বিশিষ্ট আমিত্বকে খাঁড়া করে এবং অবশিষ্ট অংশ দূরে প্রক্ষিপ্ত করে এইটী আমার, এইটী আমার নহে, ইত্যাদি ধারণ! মনুষ্য-হৃদয়ে পূর্ণভাবে কার্যকরী হয়।

জড়দেহের সাহাযো জীৰ আমিত্বকে ঘনীভূত করিয়া তুলিতে থাকে 7 তাহার চৈতন্ক্ষেত্রে একটী আমিতের স্থায়ী প্রতিষ্ঠা হইতে থাকে প্রথমে এই মনোময় ক্ষেত্রে বা মনে--যেখান হইতে আমাদের ইন্দ্রিয়সকল স্ষুরিত - সেইখানে, তারপর বিজ্ছানময় কোষে বা জ্ঞানবুদ্ধির কেন্দ্রে এই আমিত্বের প্রতিষ্ঠা হয়। যখন ইন্দ্রিয়সকল নিরোধ করিয়া আমিত্বের অনুভব করিতে জীব সক্ষম হয়, তখন বুঝিতে হইবে, তাহার মনোময় দেহ তৈয়ারি হইয়াছে সাধারণ মনুষ্য ইন্দ্রিয় নিরোধ করিয়া যোগন্থ হইতে গেলে ঘুমাইয়া পড়ে ; তাহার কারণ, মে এখনও ইন্দ্রিয়ের রা তার আমিহের অনুভব করিতেছে মাত্র, মনোময় ক্ষেত্রে এখনও সর্বাঙ্গ পুষ্ট হয় নাই। গর্ভে যেমন শিশু থাকে, তৈমনই তার মনোময় কোষে সে এখনও শিশু। ইন্দ্রিয় সাহায্যে পুষ্টিলাভ করিয়া ক্রমে এই আমিত্ব বদ্ধিত, পুষ্ট সব্বাঙ্গসৌষ্টবযুক্ত হইতে থাকে ইহাও বলিয়া রাখি, এমন কতকগুলি প্রক্রিয়া আছে, যাহার দ্বারা এই আমিত্ব শীত্র সবল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন ব্যায়ামের ছারা শরীর সবল হয়, তেমনই সেই সব মানসিক ব্যায়ামের দ্বারা মনোময় “আমি” সবল হইয়। উঠে। সাধারণ কথায় সেগুলিকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যাহা হউক, যত দিন ন! এইরূপে আমিত্ের প্রতিষ্ঠা হয় তত দ্রিন অন্ধ প্রবৃত্তি বা তৎপুত্র মন সমস্ত ইক্দরিয়ক্ষেত্র অধিকার করিয়া, তাহার উপর আধিপত্য করে।

ক্রমে যখন মনোময় কোষে তাঁর আমিত্ব ঘনীভূত সর্ববাঙ্গ হুন্দর হইয়া উঠে, তখন বিরাটচৈতম্থময়ী আকর্ষণীশক্তি তাহাতে প্রতিঘাত প্রাপ্ত হইতে থাকে।

উ-নিষদ্রহন্ট বা গীভাঁর যৌগিক ব্যাধ্যা।

আঁধর্ষদীশক্তি এত দিন যে ছিল না, তাহা নহে ; সে শক্তি সমানভাঁবে বহিতেছিল, তবে যেমন বীণা বা সেতারের তার গ্লথ থাকিলে তাহাতে স্বরতরঙ্গ ধ্বনিত হয় না -_ু্চারুরপে তারগুলি বাধিলে তবে তাহা হইতে মধুর বঙ্কার ছুটিতে থাকে, তেমনই এই আমিত্ব এত দিন পরে সেই অনাদি-প্রবাহিতা আকর্ষনীশক্তি বা প্রণবের প্রতিঘাতে বঙ্কার করিয়া উঠে, গীতা-লহরী ফুটিয়া উঠিবার সুচনা হয় হিত এবং অহিত, এই বিচাররূপে নিবৃ ট্াক্তি প্রথম ঝঙ্কার দেয় হদয়-রাজ্য ছুই ভাগে বিভক্ত হইয়া যায়; অর্থাৎ পাগুবেরা যেন ইন্তপরস্থরূপ রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে। কুরুক্ষেত্রের এক অংশ কৌরবের বা প্রবৃত্তির এবং এ্রক অংশ পাশুবের বা নিবৃত্তির শামনাধীন হয়।

নিরৃত্বির জ্ঞানরাজ্য ক্রমে, গৌরবাদ্ধিত হইয়া উঠিতে থাকিলে প্রবৃত্তি পক্ষ তখন এক ভীষণ ছলমার ফাদ পাতিয়া একবার নিবৃত্তিপক্ষকে রাজ্যট্যুত করে। জীব ধর্শরাজ্য প্রতিষ্ঠ। করিতে গেলে প্রথমে একবার তার প্রবৃত্তি সিদ্ধিলাভের ভীষণ ছলনায় তাহাকে প্রতারিত করে। নিবৃত্তিপক্ষ রাজ্াচ্যুত নির্বাসিত হয়। সিদ্ধির আশায় মুগ্ধ হইয়া জীব প্রবৃত্বির দ্বারা প্রতারিত হয় মুক্তির পথ হইতে আবার দূরে গিয়া পড়ে |

তারপর নানা প্রকার বাঁধ! বিদ্ব অতিক্রম করিয়া, বিরাট্‌ চৈতন্তের সাহায্যে যখন স্বরূপে সে নিবৃত্তিপক্ষ পরিস্কুট হইয়া উঠে, তখন পুনরায় কুরক্ষেত্রে প্রবৃত্তির সহিত ভীষণ সংগ্রাম চিত হয়। ইহাই কুরু-পাগুবসমর বা জীবের ধর্দুদ্ধ বা আকর্ষণ বিকর্ষণশক্তির অপূর্ব রণাবর্ত।

ধন্মকেত-৮

ধর্নক্ষেত্র কাহাকে বলে? ধু ধাহুর অর্থ ধারণ কর|। যে চৈতগ্ময়ী মাডৃক্তি ষ্টিবূপ অনন্তুকোটি ত্রক্গাশ্ডমগ্ুলকে গ্জন করিয়া, ধারণ করিয়া পলহিয়ীছেন_তাহার নাম ধর্ম; অর্থাৎ পূর্ব্বে যে আকর্ষণী শক্তির কথ! বলিয়াছি, তাহাই ধর্শ প্রণবই ধর্ম। আর যে ক্ষেএ্রকে ধারণ করিয়া রহিয়াছেন, যে ক্ষেত্রে সেই শক্তির অপূর্ব্বলীলার নিত্যানুষ্ঠান হইতেছে, শ্থগ্িচক্রূপ সেই পুশ্বাওসম্্িকে ধর্ক্ষেত্র বলে।

অনস্তৃকোটি সূরধ্য-চ্দ্র-তারকায় শৃশ্কমণ্ডল পূর্ণ প্রণব সেই অনস্ত জ্যোতিক্- মলের প্রাণ) আর (নই নূর ত্দ্র-তারকাপুগ্জ সেই প্রাণশক্তির ইন্দিয়ুগ্রাহ্

উপনিষদ্রহন্ত ব1 ঈর্তার যৌগিক ব্যাঁণ্যা।

বিকাশমাত্র বাঁ দেহ। আকাশে যেমন তড়িৎশক্তি বিছ্াাকারে বলসিয়! উঠিয়া আমাদের প্রত্যক্ষীভৃত হয় তেমনই: আকর্ষণী বিকর্ষপী শজির ঘর্ষণে ্হ্মাগুমণ্ুল অগ্রিক্ুলিঙক্ষের মত ফুটিয়া উঠিয়াছে মাত্র। স্রধ্য-চন্দ্র-তরিকাদাশি আমার মায়ের লাবণ্যময় রূপতরঙ্গ |

আনন্দময়ী মায়ের আমার আনন্দ ফুটিয়া উঠিয়। জ্যোতির আকারে ঝরিতেছে। সেই আনন্দের প্রশ্রবণ স্থানে স্থানে আবর্তিত হইয়া. সূর্য, চক্র তারকাকারে বিরাজিত। বাধুর আঘাতে যেমন অগ্নি হইতে স্ষুলিঙ্গরা্গি প্রক্ষিপ্ত হয়, তেমনই প্রবৃত্তির উচ্ছ্বাসে আনন্দময়ীর আনন্দলাবণ্য উচ্চুষ্ত হইয়া স্ষুলিঙ্গ আকারে চারি ধারে ছড়াইয়া পড়িয়াছে--অনন্তযোজনব্যাপী, বহ্মাগ্ডমণ্ডল রচিত হইয়াছে এই আনন্দবিস্তৃতি বা ব্রহ্ধামগুল-সমগ্িকে ধর্মক্ষেত্র বলে।

এই বিরাট জগংই ধর্মমক্ষেত্র।

কুরুক্ষেত্র --

যে ক্ষেত্রে “কুরু”--“কুরু” অর্থাং “কর” “কর” রব প্রতিনিয়ত ধ্বনিত, তাহাকে কুরুক্ষেত্র বলে।

মন্ত্যের প্রবৃত্তি অহর্নিশ মন্ধুয্যকে কর্মে “কুরু”_ “কুরু” বলিয়! নিযুক্ত করিতেছে কুরুপক্ষের দ্বারা বা প্রবৃন্তির দ্বারা মনুষ্যন্ছদয় সাধারণত; অধিকৃত-_ইন্দরিয়ক্ষেত্রের উপর প্র্তির পূর্ণ অধিকার

সেই জন্য যৌগিক কথায় মন্যদেহকেই কুরুক্ষেত্র বলে।

বস্তুতঃ মমুস্তহৃদয় ভগবানের লীলাভূমি--জীবাত্ম। পরমাত্মার পুর্ণ মিলনের হিরগ্ময় মন্দির--বিরাটী জগতের একটী আদর্শ ক্ষেত্র। বিরাটে যাহা! আছে, মনুষ্যদেহে তাহাই পূর্ণরূপে প্রতিফলিত মাতৃশক্তির প্রত্রেক স্ফুরণ, প্রত্যেক বঙ্কার মনুষ্য-হৃদয়ে স্কুরিত হয়। ফটোযন্ত্রের ক্ষুদ্র কাচখণ্ডে যেমন বিশাল : আকাশের ছায়া পড়ে, তেমনই বিশাল জগতের প্রতিচ্ছায়া মন্ুষ্য-হদয়ে প্র্চি- বিদ্বিত। লক্ষ লক্ষ ক্রোশ্শ, বিস্তৃত বিশাল নূর্য্য যেমন আমাদের চক্ষে একখানি ষ্জ নুবর্ণচক্রের মত প্রতিফলিত হয়, তেমনই ভু তুবঃ ন্বঃ আদি সথল্োক মনুষ্য হদয়ে, প্রতিবিদ্বিত |

যদিও জীবমাত্রেরই হদয়ক্ষেত্র অহন উত্তেছ্ছিত 'হয়। কিন্ত মহুন্ধাযদয়েই

উপনিষণ্রহন্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা।

তাহার পূর্ণ বিকাশ। অন্যান্য জীব-দেহে ইন্রিয়সকল পূর্ণভাবে অভিব্যক্ত নহে বলিয়া ইন্ডরিয়ের উত্তেজনাও পর্ণভাবে হইতে পায় না।

পাঠক। কুরুক্ষেত্র যদি বুবিতে চাও, তবে একবার স্থিরচিত্তে নয়ন মুদ্দিত করিয়া উপবিষ্ট হও। ভাব-_এক বিশাল আকাশ ব্যতীত আর কিছুই নাই। উদ্ধে। নিয়ে, সম্মুখে, পশ্চাতে, পারে, চারি ধারে যত দূর দৃষ্টি চলে, তোমার কল্পনার চক্ষু যত দূর তোমায় দেখাইতে পারে, ভাৰ-_কিছুই নাই, কেবল শুন্য! শূন্য ! শূন্ত! অনন্ত অফুরন্ত আকাশ অনন্ত দিকে বিস্তৃত, আর কিছুই নাই! পৃথিবী, জল, স্থল, বৃক্ষ, পশু, পক্ষী, মনুষ্য কিছুই নাই কেবঙগ শন্য, শূন্য _-আর সেই শুণ্যে তুমি ভাসমান। আকাশে যেমন কপোতাদি উড়্িতি উড়িতে এক একবার বায়ুসমুদ্দের উপর ভর দিয়া স্থির হইয়া থাকে, মন্দশ্রোতের তৃণের মত যেমন সে পক্ষী বারুসমুদ্রের উপর ভাসিতে ভাসিতে। ধীরে ধীরে যায়, মনে কর-_তুমিও তেমনই আকাশ-সমূদ্রে ভাসিতেছ। আর জলন্তরোতের আন্দে।লনে যেমন তৃণখণ্ড তালে তালে আন্দোলিত হয়, তেমনই তুমি সেই বিশাল আকাশ-সমুদ্রে তরঙ্গে তরঙ্গে আন্দোলিত। যদি একবার এই ভাবে শৃন্য কপ্পনা করিয়া, কল্পনায় শৃহ্ছে উপবেশন করিয়া, মন হইাতে ভাঁবতরঙ্গরাশি মুছিয়। ফেলিতে পার, তবে দেখিবে-তোমার চিদাকাশে বিরাট জগতের ছায়া পড়িয়াছে। স্থির জলে চন্দ্রসধ্যের প্রতিবিম্বের মত তোমার চিদাকাশ ভূঁঃ, ভূব; আদি সপ্তলোকের প্রতিবিম্বে বিশ্িত।

দেখিবে, তোমারই হৃদয়াভ্যন্তরে ব্রদ্ধা। বিষণ, মহেশ্বরাদি দেবতা যোগাঁসনে বসিয়া, মায়ের অনন্ত বিশাল বিরাট শক্তিতে সংযুক্ত হইয়া, হ্মপ্টি-স্থিতি-লয়াদি মাতৃকার্য সম্পাদন করিতেছেন--সব যোগে মগ্ন। বিরাটে যেমন সূর্ধ্য, চন্দ্র, তারকা ফুটিয়া উঠিতেছে, আবার নিভিয়! যাইতেছে, তোমার হৃদয়েও তেমনই জ্যোতির স্ুরণসকল উঠিতেছে, থাকিতেছে, মিলাইয় যাইতেছে তারহীন বার্তীবহ যন যেমন ঈথার বা ব্যোম-সমুদ্রের তরঙ্গে আন্দোলিত হয়, তেমনই তোমার মনোময় ক্ষেত্র বিরাট শক্তিস্ষুরণের তালে তালে আন্দোলিত হইতেছে তোমার মনোময় ক্ষেত্রের সমস্ত তরঙ্গ আন্দোলনের নামই মানসিক বৃত্তি। তরঙ্গ- প্গন্দনসকল চক্ষু, কর্ণ, নাসিকাকারে প্রচ্থত হইয়া তোমাকে অহনিশ কর্মে নিযুক্ত করিতেছে সেই জন্য জীব এক মুহূর্ত কর্ণ ছাড়িয়া থাকিতে পারে না। সেই জন্ দেহকেই শাস্ত্র কুরুক্ষেত বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন

উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথা

সমবেত। মুযুৎসবঃ মামকাঃ পাণ্ুৰাশ্চৈৰ _

যুদ্ধেচ্ছু হইয়া সমাগত মামকাঃ--অর্থাৎ প্রবৃত্তিপক্ষ এবং পাগুবাঃ অর্থাৎ নিবৃত্তিপক্ষ। প্রবৃত্তিপক্ষ অর্থে--বিকর্ষণীশক্তি যাহা পূর্বে বলিয়াছি। পাগুবাঃ-- নিবৃত্তিপক্ষ, আকর্ষণীশক্তি

পুর্বে যে প্রণব বা আকর্ষণীশক্তির কথা বলিয়াছি, তাহাই নিবৃত্তি বা আত্মাভিমুখী

শাক্তি। প্রবৃত্তি বা বহিন্দুখী চাঞ্চল্য বিগত হইলেই উহ সম্যক্ভাবে প্রকাশ পায়। সেই শক্তির দ্বারাই জীব পুনরায় শক্তিময়ী মায়ের আমার চরণে যুক্ত হয়। সেই জদ্য উহাকে জীবের আক্মশক্তি বলে বিকর্ষণীশক্কি ব৷ প্রবৃত্তি বা জীবভাবীয় স্বসতীা- বোধ যত দিন প্রবল থাকে, তত দিন জীব আত্মরাজ্যের প্রতিষ্ট। করিতে পারে না জীবাস্ম। আত্মরাজ্য প্রতিঠা বা মাতৃ-অঙ্কে যুক্ত হইবার আকাঙ্গায় চেষ্টিত থাকে, মায়ের অঙ্কে উঠবার জন্য লালায়িত হইয়া অহন্নিশ বিকর্ষনীণক্তিকে উচ্ছেদিত করিতে প্রয়াম পায়। প্রবৃত্তির ছলনার মোহে মুগ্ধ হইয়া সময়ে সময়ে জীবকে নিশ্চেই বলিয়া মনে হয় সত্য, কিন্ত জীবের অন্তরে অন্তরে অহনিশ পূর্ণ মিলনের প্রবল আশ! উদ্দীপিত থাকে পাগুবের নির্র্বাসন বা অজ্ঞাতবাস ফুরাইলে আবার জীবাস্বার আত্মশপ্ডজি স্ষুরিত হইয়া উঠিয়া! প্রবৃত্তিকে ধ্বংস করিতে প্রয়াস পায়। সাধারণ মনুষ্য পাগ্ডবের নির্বাসিত অবস্থার মত প্রবৃত্তির দ্বারা আত্মরাজ্য হইতে নির্বাসিত হইয়া আছে তদপেক্ষা ধাহারা ঈষৎ উন্নত, তাহারা নির্ববান অবস্থ। হইতে অজ্ঞাতবাস অবস্থায় আসিয়া পৌছিয়াছেন অর্থাৎ নিত্যানিত্য-বিবেক হইয়াছে, কিন্তু নিত্য আত্মসন্ত। তখনও উপলব্ধ হয় নাই--অন্ঞাতই আছে। বাহার! তাহাদিগের অপেক্ষা উন্নত, তাহাদ্িগের হৃদয়ক্ষেত্রে সমরায়োজন সুচিত হইয়াছে এই অবস্থায় জ্ঞানত; যোগের স্ৃচন। হয়।

পূর্বে বলিয়াছি, আকর্ষনীশক্তি, প্রণব, নিবৃত্তি, সমস্ত একই কথা। আত্মশক্তি শরীরস্থ পঞ্চ কোষে পাঁচ ভাগে বিভক্ত তাহার্দিগকে সাধারণ কথায় পঞ্চ প্রাণ বলে। পঞ্চ পাণ্ডব এই পঞ্চ প্রাণ; তন্মধ্যে যে অংশটুকুর নাম প্রাণ, জীবের আত্মশক্তি তাহাতেই পূর্ণভাবে বিরাজিত এই জন্ত জীবাত্মাকেই অর্জন বলিয়া উল্লেখ কর! হইয়াছে

বস্ততঃ, প্রবৃত্তি নিবৃত্তির সংগ্রাম অর্থে--ওবাণ বা হৃদয় মনের সংগ্রাম প্রাণপ্রতিষ্টাই সমরের উদ্দেশ্া। হায় ! এখনও গৃহে গুছে প্রতিমা আসে-_-এখ' নও গৃহে গৃহে দেখিতে পাই--মাতৃপুজার আয়ে/জন হয়, এখনও গৃহে গৃহে মায়ের

১, উপনিষা্রহশ্ত বা নীতার যৌগিক বাধ্যা।

(চি

মঙ্গল-ঘট সংস্থাপিত হয়, এখনও গৃহে গৃহে "মা মা” রবে সকরুণ টি ফুটিয়া উঠিতে শুনিতে পাই, গৃহে গৃহে কোথাও দশতুজা--কোথাও চতুষ জা কোথাও দ্বিভূজা--কোথাও সিংহবাহনে-কোথাও শবাসনে-_ কোথাও পন্মাসনে মায়ের আমার প্রতিমা নির্মাণ করিয়া মাতৃদর্শনাকুল সন্তান মাকে এখনও দেখিতে প্রয়াস পায়। কিন্তু মায়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠ। হয় কি? সাধক আত্মপ্রাণ প্রতিষ্ঠা করিতে না পারিলে, প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্টা করিতে পারে না। প্রাণ প্রতিষ্ঠা না হইলে, মা প্রতিমাতে ফুটিয়া উঠিয়া দেখ! দিতে পারেন না, আহুত। হইয়াও অনাহৃতার মত দ্বার হইতে মা আমার ফিরিয়া যান। কিন্তু সে অন্য কথা_

পূর্বে বলিয়াছি, সাধারণতঃ জীব নির্ব্বাসিত অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ তাহার চিৎ বা চৈতন্তরাজ্যের উপর মনের আধিপত্য থাকে প্রাণশক্তি অরণ্যে অজ্ঞাত- বাসে অবস্থান করে। যোগ অবস্থার সুচনা হইলে জীব, মনকে-_বহিশ্গুখী গতিকে চৈতম্যরাজ্য হইতে দুরীকৃত করিয়া, আস্মশক্তিকে বা প্রাণশক্তিকে চৈতন্ত-রাজ্যে অধিষ্ঠিত করিবার প্রয়াস পায়।

আবার বলি, প্রণব ব। আকর্ষণীশক্তি বা গ্রাণশঞ্তির সমুদ্রে জীব মগ্র হইয়া আছে। জীবের সংস্কার সে প্রাণশক্তিত্রোতকে অবরুদ্ধ করিয়া, সে শর্জিকে বিক্ষিপ্ত করিয়া দেয়, ভিতরে গুবেশ করিতে দেয় না। কিন্তু জীবের সংস্কারের আবরণের ভিতর নিজের প্রাণশক্তিটুকু আছে, সেইটুকু বিরাট্‌ প্রাণশক্তিকে আকর্ষণ করিতে প্রয়াস পায়। মন ব! প্রবৃত্তিপক্ষ মধ্যে থাকিয়া তাহা করিতে দেয় না। নিরাট্‌ প্রাণশক্তির আঘাতে ক্ষুব্ধ হইয়া মানসিক বৃত্তির আকারে মন ফুলিয়! উঠে এবং নিজে বিরাট জগৎকে উপভোগ করে। এই জৈব মনের অবরোধ ভাঙ্গিয়া, জীবরপ ক্ষুদ্র ত্রদ্ধাণ্ডের প্রাণশক্তিকে বিরাট বিশ্বজননীর প্রাণশক্তিতে মিলিত করিবার চেষ্টার নামই কুরুপাগুব-সমর।

কিমকুর্বত সপ্তীয়-_

জীবাত্মা এই যোগ-সংগ্রামের সুচনা হইতে আরম্ভ করিয়া, বিষাদ আদি নান! ভাব বা যোগের স্তরের ভিতর দিয়! শেষ যখন বিরাট বিশ্বশ্ডিকে দেখিয়া কৃতকৃতার্থ হয়, যখন দেখে-_বিশাল ব্রদ্মাণ্ডের অণু পরমাণু সে বিরাট কেন্দ্রের দিকে ছুটিতেছে, সমস্ত উপাধি ভাঙ্গিয়া লয় প্রাপ্ত হইয়া এক বিরাট শক্তিতে মিলাইয়া যাইতেছে, দেখিয়া যখন তাঁহার সমস্ত সন্দেহ মিটিয়া যায়, তাহার প্রাণের আকুল 'পিগাসা মখন পূর্ণ পরিতৃপ্ত হয়, অপূর্বব জ্যোতির দিগ্দিগস্তব্যাপী

উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা | ১৬

শ্রবণ দর্শনে হখন সে অগাধ নৃুগ্তির মত পূর্ণ শান্তি প্রাপ্ত হয়, তখন তাহার প্রবৃত্তি প্রজ্ঞাকে পে অপূর্ব দর্শনের ব্যাপার জিজ্ঞাস! করে; অর্থাৎ যোগস্থ হইয়া বিশ্বরূপ দর্শনের পর, জীবাত্বা যখন আবার জীবভাবে ফিরিয়া আসে, তখন সে দর্শনের যে ঈষৎ আভাস স্মতিরূপে বর্তমান থাকে, অন্ধ প্রবৃত্তি সেইটুকু শুনিবার জন্য ইচ্ছুক হয়। যোগাবস্থার পর জীব মনে মনে আবার সেই বিষয়ে আন্দোলন করে। তার প্রবৃত্তি ধেন প্রগ্ন করে এবং স্মৃতি যেন. সে দর্শনের আভাসটুকু সবিস্তারে বর্ণনা করিতে থাকে প্রথম শ্লোকের ইহাই মন্ার্থ।

এই অবধি যাহা বলিলাম, তাহার সারাংশটুকু আবার একবার বর্ণন। করিতেছি কেন না) বিষয় বড় জটিল। প্রথমের এই স্ুচনাটুকু উত্তমরূপে হৃদয়জম করিতে না পাঁরিলে, গীতার ভিতর কেন প্রবেশ করিতে পারিবেন না।

কুরুপাগুব-সমর অর্থে মন প্রাণের সংগ্রাম বুঝায় | মন প্রাণ ছটা বস্ততঃ ভিন্ন ভিন্ন শক্তি নহে, প্রাণশক্তির বহিম্মুখী অবিদ্ঠারূপ জীব-সংস্কারের সন্কর- বিকল্পাত্মক কর্মামর গতিকেই মন বলিতেছি। প্রণব, আকর্মণীশক্তি প্রাণশক্তি যেমন একই কথা, সেইরূপ সেই প্রণ ববা আকর্ষনীশক্তি ব৷ প্রাণশক্তি জীবের সংগ্রারাচ্ছ্ন হৃদয়ে প্রতিরোধ পাইয়া বহিশ্মুখী যে গতি প্রাপ্ত হয়, তাহারই নাম বিকর্ষণীশপ্তি, বিক্ষেপশক্জি, প্রবৃত্তি বা মন। কথ পুর্বেব সবিস্তারে বলিয়াছি।

যখন কেহ যোগস্থ হইয়া ভগবানে যুক্ত হইতে প্রয়াস পায় অর্থাৎ চৈতন্তরাজ্যে & প্রাণশক্তির প্রতিষ্ঠা করিতে ইচ্ছুক হয়, তখন তাহাকে মনেব সহিত সংগ্রাম করিয়া, তাহাকে উচ্ছেদিত করিতে পারিলে, তবে সে নিজ প্রাণপ্রতিষ্ঠায় কৃতকার্ধ্য হইতে পারে। এই প্রাণপ্রতিষ্টার নামই কুরুপাগুবের সমরে কৌরবের সংহার এবং পাগ্বের রাজ্য প্রতিষ্ঠ!

প্রাণশক্তি অর্থে এখানে কেহ বায়ু মনে করিবেন না। চৈতম্যশক্তির টা গতির নামই এখানে প্রাণশক্তি

তাহা হইলে মোটের উপর পাইলে কি? তুমি একটি জীব, মায়ের আমার বিশাল শক্তিক্ষেত্রের বা ধর্মক্ষে তের মধ অধিষ্ঠিত। তুমি জীবাত্বা বা বিশাল মাতৃশক্তির একটা ক্ষুদ্র সংস্কারাচ্ছন্ন অংশ নির্বাসিত পাগুবের মত প্রবৃত্তির ছলনায় আত্মরাজ্য হইতে বঞ্চিত। তোমার যথার্থ ব্বরূপে তুমি প্রকাশ হইতে পারিতেছ না।. .ইন্দ্রিয়রাশিসমন্ধিত মন তোমার চৈতন্তাজো প্রতিষিত।. মা তোমায় ডাকিতেছেন ; বিশ্বজননী মা আমার প্রণবরূপ. অমৃতময় ন্নেহসম্তাযণে অহমিশ

১২ উপনিষদ্রহত্ত বা গীভার যৌগিক ব্যাখ]|

: তোমায় ডাকিতেছেন। কিন্ত সে মাতৃআাহ্বান তোমার প্রবৃত্তি মন কর্তৃক বিক্ষিপ্ত হইয়া, জগদাকারে সাজিয়া, অনাথ জগদৃতাগ গ্রহণ করিয়া, তোমার চক্ষে প্রতিফলিত হইতেছে মায়ের আমার স্ষেহুময় সম্ভাষণ, জড় ফল ফুল, বৃক্ষ লতা, চন্দ্র সূর্য্য ইত্যার্দিরূপে তোমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হইতেছে বস্তত জড় বা অনাত্ম স্বতন্ত্র জগৎ বলিয়া কিছু নাই; ব্রহ্মাণ্ড বলিয়াও কিছু নাই, সমস্ত বিরাটেরই কল্পনামৃত্তি। সেই কল্পনায় মুগ্ধ হইয়া, মাতৃ-অংশরূপ আমরা যখন মাকে হারাইয়া ফেলি তখন হইতে বিরাট ত্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক পরমাণু অর্থাৎ আমর! “ম! মা” করিয়। কাদিতে থাকি, আর তাহার প্রত্যুত্তরম্বরূপ মা আমার প্রণবাকারে উত্তর দেন,আমরা বুঝিতে পারি না--আমরা মায়ের সে উত্তর শুনিতে পাই না,--মায়ের হলে আহ্বান আমাদের শ্রবণকুহরে আসিয়া পৌছায় না। তাই মা আমার নানাপ্রকারে আহ্বান করেন--যাহাতে শুনিতে পাই, এমনই করিয়া সে আহ্বানকে আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যরূপে পরিণত করিয়া, ফল ফুল আদি নান সাজে সাজাইয়া, আমাদের প্রাণের ভিতর সে আহ্বানের তরঙ্গ ফুটাইয়। তুলিতে প্রয়াস পান। তোমার প্রাণ প্রত্যেক পদার্থের উপর ছুটিতেছে, প্রত্যেক পদার্থের উপর চলিয়া পড়িতেছে, মায়ের আহ্বানবাণীর আকর্ষণে প্রত্যেক পদার্থে মাকে অন্বেষণ করিতেছে, কিন্তু তোমার মন