১৯৩ৎ-৩২ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম তংকা'লীন আর্থ -দামাজিক পটভমিকায় লেখা উপন্তান

সলাত

বৈগ্ভনাথ ঘোষ

২/১11১৮17& 91058750705

প্রথম প্রকাশ অগ্রণী বুক ক্লাব খর] অক্টোবর, ১৯৫৬

গ্রস্থস্বত্ বৈছ্যনাথ ঘোষ

প্রকাশক

রশ্মি লাহিডী

১*২, মানিকতলা মেন ব্রোডভ কলিকাতা-৭০০ ০৫৪

প্রচ্ছদ স্থশাস্ত বোস

মুদ্রক র্যাডিক্যাল ই্প্রেশন

৪৩, বেনিয়াটোলা লেন কলিকাতা-৭০০ ০৯

ভুমিকা

উপন্যাস মানে ছবি গল্প অর্থাৎ একসঙ্গে চিত্র কাহিনী, মান্য তাৰ কাজ কর্ম, ভাবন। চিন্তা। এই দৃষ্টিতে উপন্যাসকে ছুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ হলো গল্পের ফ্রেমে ছবি” আর এক ভাগ হলো "ছবির ফ্রেমে গল্প? | শ্রীযুক্ত বৈদ্যনাথ ঘোষের “কল্লাস্ত” হল প্রথম ভাগের উপন্তাস তার উপন্যাসে যে ছবি তা! কল্পনায় আকা নয়, চোখে দেখে আকা।।

উপন্যাসটির বিষয় হলে! আমাদের দেশে একটি বিশেষ দশ বছরের রাজ- নৈতিক সার্ভে। ১৯৩০ সালে গান্গীজির আইন অমান্ত আন্দোলন উচ্চতম শিখরে উঠেছিল সেই লবণ আইন বিরোধ আন্দোলনের সময় কিশোর বয়স্ক লেখক ভলান্টিয়ার দপে যোগ দিয়েছিলেন কাথিতে তারপর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যস্ত তিনি দেশের সবজ্র স্বাদীনতা আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে অল্পবিস্তর সংশ্লিষ্ট ছিলেন এই কারণে "কল্পান্থ' উপন্যাসটি খাঁটি ভকুমেন্টালি সাহিত্য হিসেবে অত্যন্ত মবলাবান। েখকের চোখের দৃষ্টি যেমন প্রথর, কলমের জোরও তেমনি নিঃসঙ্কোচ।

বইটি লেখা হয়েছিল পঞ্চম দশকের প্রারস্তে, ছাপ হয়েছিল যষ্ঠ দশকের প্রাবস্তে। একটি মাত্র সংস্করণ ছাপ। হয়েছিল, “তা অনতিবিলদ্ষে ফুবিয়ে যায়। তারপর এই মুল্যবান উপন্যাসটি এযাবৎ অমুদ্রিত ছিল। সাহিত্য রসসিক্ত এতিহাসিক তথ্য পরিপূর্ণ উপন্তাসখানির মুল্য অগ্যাপি অক্ষুপ্ন রয়েছে সম্প্রতি বাংল! মআআকাদেমির অনুমোদনে বাজ্য সরকারের অর্থানুকুল্যে উপন্যাসটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশের উদ্যোগকে আমি স্ুত্বাগত করছি

স্বকুমার জেন

প্রথম সর্গ

প্রথম দগ-

1 ১11

আদি ক'লকাতার আদি গলির মোড়ে ক্লাইভের আমলের দ্বিতল বাড়ি। কালের ধাক্কায় সক্ষ সরু নগ্ন ইটগুলো নিল'্জভাবে নিরপরাঁধী পথিকদের দাত খি*চোচ্ছে। তাদের অপরাধ, তাদের চোখে প্রশংসার প্রকাশ নেই, যেমন থাকতো বিগতদিনে নবীন মিতিরের আমলে বাড়ি সেই মোহিনী বূপও নেই-সেদিনের দেই পথিকশ্রেণীও ছুলভ। রয়েছে একটা নিক্ষচল আক্রোশ, নবাগতের ওপর একটা! প্রচ্ছন্ন হিংসা, আর জোডাতালি দিয়ে অস্ভিত্বরক্ষার অক্ষম চেষ্টা

সদর দ্রজাঁর সামনে ছাইপাশের স্তুপ, তারি চাবিপাশে শাল পাতা, কলাপাতা, আশ, মাছেরককাটা, ছেঁডানেকড়] ইত্যাদি সাংসারিক অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রদর্শনী একট তফাতে একট নিঃস্ব ডাষ্টাবন ৯1 করে সেদিকে তাকিয়ে

সদর দরজার পেছনে অন্ধকার গলি-_বাড়ির ভেতরে যাবার রাস্তা; ছু পাশে ভাঁড রোয়াক, আর একটি অদ্ভুত প্রাগৈতিহাসিক গন্ধ

গলি পেরিয়ে চকমেলানো সাবেকী বাড়ির উঠোন : পূর্বে হয়তো যাত্রাগানে কিংবা বাইজীর নৃপুরধ্বনিতে মুখরিত হতো এখন কলতলার কাথা- কাপড় কাচার শবে প্রকম্পিত। সামনে ঠাকুর দালান £ অর্থ নৈতিক তাগিদে কাঠের পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট কুঠরীতে পরিবত্তিত। ছ্বিতলের বারান্দার €রেলিংগুলে। বিবর্ণ জীর্ণ, নৃতন জোড়াতালির অসঙ্গতিতে পূর্ণ

পূর্বদিকে বাড়ির মালিকদের বাসস্থান, বাকী তিন দিকে উপরে নিচে নানা পরিবারের বাস, অর্থের পরিবর্তে সাময়িক অধিকার অধিকাংশই নিম্ন মধাবিত্ৃ, কেউ কেউ মধ্যবিত্ত ঘে'ষা।

মালিকরা চার সরিক। উপরে নিচে মিলে খানদশেক ঘর রায্াযর নিয়ে 'একটু স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করা অবশ্ঠ বাসিন্দাদের সগোত্র হতে এখনে। এদের আপতি প্রকাশ পায় দরজ1 জানালায় পর্দার বহরে। পর্দার অন্তরালে হয়তো মু আভিজাত্যের মরণ কাতরানি ঢাক পড়ে!

চার সরিকের মধ্যে ছু সরিক্‌, মেজ এবং সেজ বিদেশে থাকেন মেজ শিবকালী মিত্র মেদিনীপুরে জামাতা হিসাবে প্রাণ সম্পত্তি ভোগ করেন; অবস্থা

কল্লাস্ত

বত্তমান কষ্টিপাথরে ধনী না! হলেও উচ্চমধ্যবিত্ত বল! চলে সেজ জানেন্দুপ্রসাদ মিষ্ত, পুক্তষা্চক্রমিক ছন্দ ভেঙ্গে বাণিজ্যে লক্ষ্মীলাভ করার চেষ্টায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান,” _কখনে। বোম্বাই, কখনে। দিল্লী, কখনে! ক*লকাতী। পুরাতন ছন্দের প্রতি অনুরাগ না থাকলেও যুগছন্দের মর্ম তিনি ভালই বোঝেন

বাড়িতে বাস করেন বড় ছোট বড়কর্তা রামকালী মিত্র সাবেকী মানসিকতার ছিটেফোট1 তার মধ্যে পাঁওরা যায়। এখনে। তার চবিত্রে একটু অহংকার মিশ্রিত উদারতা, একটু খোসামোদপ্রিরতা, একটু ভোৌজন-বিলাস এবং সংগীত, শিল্প সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ লক্ষণীয় ছোটকর্তা ব্রজেন্দ্রনাথ মিজ্র £ মানসিক গঠনে শুধু সাবেকী অহংকারের অধিকারী।--তবে সে অহ্ধকারের বহি- প্রকাশ অতিবিনয়ের আবরণে নব রূপে বূপায়িত। তিনি অসাধারণ কপণ ; পাছে অহংকারের তাগিদে খরচার দায়ে পডেন সেই চেতনা তাঁকে বিনয়ীর নামাবলীধারণে বাধ্য করেছে।

দোতলায় কর্তাদের পশ্চিম দিকে, উপর-নিচে চারখানি ঘর নিয়ে থাকেন হারাঁধন রায়, তীর স্ত্রী ছুটি সম্ভান। বয়েস বছর চলিশ হবে, কোনে। সওদাগরী অফিসে কাজ করেন

তার পাশে নিচে ছুখানি ঘর নিয়ে থাকেন নিবারণ জান তীর স্তত্রী। তার নিঃসস্তান। পেশ। শেয়ার মাকেটে দালালী কাঁজ সেরে বাড়ি ফেরেন রডীন চোখে, যেদিন ছু” পয়স1 হাতে থাকে ত্ীকে আদর করেন, যেদিন থাকে ন। করেন প্রহার।

কলতলা ঘে'ষে চারখানি ঘর নিরে থাকেন আরেকটি পরিবার £ ' বিধবা মাতা, তার তিনটি পুত্র, একটি বধূ ছোটটি পড়ে কলেজে, না মনোহর দত্ত। বাকী দুজন চাকরী করে, একজন বেংগল কেমিকেল, একজন কাগজের অফিসে সংসারে ব্বচ্ছলতার চেয়ে শাস্তিই বেশি চোখে পড়ে

সদর দরজার পূর্বদিকে তিনধা টি ঘর নিরে থাকেন ব্রজহরি চট্টোপাধ্যায়, তার রগ্না স্ত্রী, একটি পুত্র, একটি কন্তাঁ। পেশ পাটের দালালী

সদর দরজার পশ্চিম দিকে এক একটি ঘর নিয়ে থাকেন এক একটি লোক। একজনের নাম স্থরেন সিংহ, কারখানার ফিটার। একজন নিমাইচক্স্র চন্দ, ঘড়ি সারায়। একজন স্থজিত ঘোষ, পেশ অজানা এরই ওপরতলার থাকেন সুজাতা সেন, কোনে ইচ্কুলের শিক্ষয়িত্্রী |

ছাড়া বাড়ির পেছন দিকে সাবেককালের শোয়ালঘরগুলো। ভাড়া করে খাকে একদল বিহারী গাঁড়োরান ওদিকট। পড়ে যাচ্ছিল দেখে করার] ওদের সামান্ত ভাডায় বিলি করে দিয়েছেন

কল্লাস্ত

1 11

ফুরু-উর্-বৃ-র্-ব্‌। ব্যারিকেডের আকারে সাজানে। ইটের আডালে ঘন ঘন বাশী বেজে চলেছে! চীৎকার করে কে যেন বললে, আমাদের শক্তি পরীক্ষ/! ওরা আমাদের জায়গা দখল করতে আসছে। কিছুতেই যেন সীমানার মধ্যে আসতে নাপারে। দ্ধিপ্রহর মুখরিত করে আবার বেজে উঠলো। ঝাশী। একটা হাত প্রসারত করে একটি বার-তের বছরের ছেলে দাড়িয়ে প্রাচীরের অন্তরালে রোদের ঝাঁজে মুখ চোখ লাল, বঝাঁকড়! বাঁকড়া চুলগুলো উত্তেজনায় নেচে উঠছে। গুটি ছয়েক ছেলে অক্লান্তভাবে ছুড়ে চলেছে রাশি রাশি ভাঙা ইটের টুকরো, আব চারজন ইট ভেঙে তাদের দিচ্ছে জোগান

সংখ্যাধিক আক্রমণকারীর দল ইইকবৃষ্টির ক্ষিপ্রতায় ভীত হয়ে থমকে দাড়িয়ে গেছে দূরে কেউ কেউ দু-একটা ইটপাটকেল বিপক্ষদলকে ছু'ডে মারছে; কিন্ত তাদের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে ইট সাজানে! ব্যারিকেডের দৌলতে প্রতিরোধী- দল দ্বিগুণ উৎসাহে ছু'ডে চলেছে-সাই-পাই-সাই।

হঠাৎ একট] ইট এসে লাগলে। প্রতিরোধী দলের নেতার কপালে ঝাঁকডা চূলগ্ুলে। চেপে দূরে সে বসে পড়লো। হৃতভন্ত হয়ে সঙ্গীরা তাদের ইষ্টকবুষ্ট বন্ধ করলে। আহত নেতা ক্ষতস্থানট! চেপে ধরে দৃঢ়ক্ঠে পাকা সেনাপতির ভঙ্গিতে আদেশ দিলে, চালিয়ে যাঁও, ওর যেন এক পাঁও এগোতে না পারে।

আবার ইট চললো সাঁই-সাই-সাই। প্রতিপক্ষ ভীত ত্রস্ত হয়ে পেছু হুটতে আরম্ভ করলে: একেবারে অনৃশ্য হয়ে যাবার আগে চেঁচিয়ে বলে গেল, আচ্ছ। শয়োরর। দেখে নেব, যাবি আমাদের পাড়ায়

প্রচণ্ড জয়োল্লাস করে উঠলো! বিজয়ী দল।

নেতার দ্বিকে চোখ পড়তেই ক্লান্ত মুখগ্ুলো ভয়ে শ্রকিয়ে গেল। ইতিমধ্যে তাদের চেঁচামেচিতে আরে গুটিতিনেক ছেলেমেয়ে এসে জুটলো ব্যারিকেডের ধারে তাদের মুখেও আশংকার ঘন কালিম। ফুটে উঠেছে একটি ছোট মেয়ে তার ফ্রকের ফিতেটা খুলে নেতার হাতে দিয়ে বললে, মিনটুদ! এটা দিয়ে তাড়াতাড়ি বেধে নাও। রক্ত যে বড্ড পড়ে গেল!

নেতা তথা মিনটুর তখন সেদিকে খেয়াল নেই সে ভাবছে বাডিতে কি কৈফিয়ত দেবে, সেই কথাই? তাকে ফিতেটা না নিতে দেখে মেয়েটি নিজেই ক্ষতম্থান্ট! বেঁধে দেবার জন্য এগিয়ে গেল। একটি ছেলে তার হাত থেকে ফিতেটা নিয়ে বললে দে, দে, তুই বাধতে পারবি না, আমায় দে?

ফিতেট! কপালে জড়াতে জড়াতে ছেলেটি বললে, কি করে বাড়ি যাবি মিনটু? কাকা কিন্ত ভয়ানক মারবে

কল্গাস্ত

কথাটা শুনে মিনটু একবার অসহায় দৃষ্টিতে চারদিক তাকালো। তারপর মিনতিভর!1 গলার মেয়েটিকে বললে, রুনু, লুকিয়ে দেখে আসবি, বাঁবা কোথায়?

তার কথায় মেয়েটি বাজিয়ে বললে, এখন রুহ্ধু, দেখে আসবি! কেন? বীর , পুরুষ মারামারি করার সময় মনে থাকে না? যাও আমি পারবে] না।--'গ্রকট। মুখভঙী করে রুঙু চলে গেল।

তার গতির দিকে চেয়ে নিশ্চিন্ত হল মিনটু। সে অন্য একটি ছেলেকে লক্ষ্য করে বললে, আমার এখন বাড়ি যেতে হবে ভাই, মাথাট। বড় ব্যথা করছে।

তার কথার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে অমি বললে, সে আমি রইলুম। তোর ভয় নেই। ওরা আর আসছে না এদিকে

দেখে নেব শুয়োরদের ওরা আম্ক ন। এবার ।--কতকগুলে! ছেলে একসংগে চেঁচিয়ে উঠলো এতক্ষণ তাদের মনের মধ্যে যে দারুণ অস্বস্তি হচ্ছিলো সেটা যেন কতকটা কমলে! এই চেঁচানিতে।

হাঁপাতে হাপাতে রুনু এসে চোখমুখ ঘুরিয়ে বললে, মিনটুদা, তুমি আমার সংগে এস কাকীমার কাছে পৌছে দি। নয়তো! না জেনে একেবারে কাকাবাবুর সামনে গিয়ে পড়বে

যাবার জন্য পা বাড়িয়ে মিনটু একবার অমির দিকে চাইলো অমি ডান হাতটা একবার উপরদিকে ঝাকুনি দিরে বললো, তুই যা না, কৃচ পরোয়া নেই

অমির কথায় রুন্ধু রেগে বললে, ওঃ, তোমরা বুঝি আবার মারামারি করবে ? দাড়াও দাদা, জ্যেঠমাকে গিরে বলে দিচ্ছি!

য1,যা। বললি বড় বয়েই গেল, ভাগ !

রু্গ অমিকে একটা ভেংচি কেটে এগির়ে গেল, পেছনে চললো মিনটু। ' কিছুদূর যাবার পর রু্ঠ পেছন ফিরে বললে, খুব লাগছে, ন1? কেন অমন ছুষ্ট*্ম করতে যাওয়া

রুলর মমতামেশানো তিরক্কারে মিনটুর ব্যথাটা গেল বেডে। সে বললে নরম গলায়, খুব লাগছে রুঙ্! আচ্ছা, মাকে গিয়ে কি বলবো?

রুমন বললে মিনটুর একট! হাত ধরে, দেখ মিনটুদ1, তুমি কিছু বলো' না। যা'বলার আমি বলবো। |

কি বলবি?

রুনু একটু চিন্ত! করে মাথাটা! এদিকওদিক হেলিয়ে বললে, বলবো ঠোক্কর খেয়ে পডে গেছলে

মুস্ুত্ঠের জন্ত মিনটুর চোখছুটে। আনন্দে নেচে উঠলো কিন্ত তারপরেই সাশভাবে রুম্গুর হাতে একটা চাপ দিয়ে ৰললে, না, না, ওরকম বলিসনি মার কাছে। যা হয় হবে চল।

কল্লাস্ত 1 11

একটি খাটে শায়িত মিনটু | পটি-বাধা মাথার চুলগুলো , এলোমেলোভাবে উডছে। লাল মুখখান! একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চোখের কোল বসে চোয়ালের হাঁড়গুলেো বড বড় দেখাচ্ছে ঈাতে দাত দিয়ে সে ঠোট ছুটে? চেপে বেখেছে।

পাশে বসে বাতাস করছেন মৃুণ্য়ী দেবী, পরনে খদ্দবের কাল পেড়ে শাড়ী, দোহার গড়ন, রং উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, মুখের চেহারা সাধারণ কিন্তু উপেক্ষণীয় নয়।

মা একটু জল খাবো] চেয়ে বললে মিনটু।

এই যে, দি বাব1।

তিনি টেবিলে ঢাক দেওয়! জলের গেলাট] তুলে ধরলেন তার মুখে গালে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, কোন কষ্ট হচ্ছে না! মিনট্ু?

মায়ের কোলে একটা হাত চাপিয়ে দিলে সে।

না, মা। আজ তো কোনে! ব্যথা নেই।

ঘরে পা টিপে টিপে এসে ঢুকলো রুনু, অমি, ললিত, ভূতো৷। তাদের দেখে মিনটুর চোখ ছুটো। নেচে উঠলো! হেসে বললেন মৃণয়ীদেবী, তোর! এসে গেছিস্‌ ! বেশি গোলমাল করিস্‌ নে যেন

রুন্ধ বললে পাকা গৃহিণীর ভংগীতে, কাকীমা! গোলমাল কি এখন করতে আছে ! আমরা শুধু চপ করে বসে থাকবো

তাই বোস্‌ তোরা আমি একটু কাজ সেরে আসি।

মৃণ্নয়ী দেবী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন; রুনু, অমি, ভূতো, ললিত এসে বসলে। মিনটুর বিছানায় সে একটু উঠে বন্ধুদের খাতির করতে যাচ্ছিল। তাকে ছু হাতে চেপে অমি বললে, এই, এখন নড়া-চড়া করিস্‌ নি, মাথায় লাগবে

জন্তেই তে কাকীমা বকে বলে উঠলো রুহ্ু।

ললিত বললে, জানিস মিনটু, ওর! আমাদের মারবার জন্তে খুব তাকেতাকে বেড়াচ্ছে ওদের নাকি পাচজনের মাথ। ফেটেছে।

কি করি বল? বড় জব্ব হয়ে গেছি, নয়তো...থেমে গেল মিনট্ু একটু নিঃশ্বাস ফেলে।

হ্যা মগের মুল্ুক কিন! ? মারবে ! মারলেই হল। রেগে বললে অমি।

আঃ ঝগড়া ছাড়া যেন কোন কথাই নেই। প্রতিবাদ করলে রুন্ু।

ঝগড়া কে করতে যাচ্ছে আমর বলে কত কষ্ট করে.খেলার জায়গাটা ঠিক করলুম, ওরা এল গায়ের জোরে সেটা দখল করতে ! মামার বাড়ি কিন1! বঙ্গালে ললিত

কল্লান্ত

যা বলেছিস, মামার বাড়ি। আবার বাবাকে গিয়ে নালিশ করেছে আমরা নাকি ওদের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছি ! মিখ্যকগ্ুলো, শুধু শুধু বাবার কাছে মার খাওয়ালে |-_-ভূতে। চেচিয়ে উঠলো।

দেখ মিনটু, আমরা সবাইকে এক একা বেরোতে বারণ করে দিয়েছি এক] পেলে তো! মারবে মিনটুর দিকে চেরে বললে অমি

একটুখানি চিন্তা করে মিনু বললে, দেখ তোরা এক কাজ কর। সবাই একটা করে হুইসিল কিনে নে।

কথাটা বুঝতে না] পেরে সবাই তার মুখের দিকে চাইলে।

বুঝতে পারলি না? প্রথমে সবাইকে বলে রাখবি, হুইসিল বাঁজলেই যেন সেই দিকে ছুটে যায়।

যাকে মারতে আসবে সে-ই ছুইসিল বাজিয়ে দেবে, এই তো।? জিজ্ঞেস করলে অমি।

মিনট্র খাঁড় নেডে সায় দিলে; ললিত হাততালি দিয়ে বলে উঠলো, ঠিক বলেছিস, ভীতুগুলো ভয়েই পালিয়ে যাবে আজই সবাইকে হুইসিল কিনতে বলে দেব। কি মজাটাই হবে।

ঘরে এসে ঢুকলেন মৃণ্নয়ী দেবী, তাকে দেখে ছেলেরদল আবার জডসড় হরে বসলো৷। ছছ্পগান্ভীর্ষে বললেন তিনি, এই বুঝি চুপ করে বসে থাকা তোদের?

অপরাধীর মত মাথা নিচু করে রইলো সবাই। ঘরে এসে ঢুকলেন হারাঁধনবাঁবু £ বলিষ্ঠ শরীর, পরনে খদ্দরের ধুতি-পাঞ্জাবী, রং এককালে ফর্সা ছিল, এখন তামাটে হয়ে এসেছে; পরিশ্রমের ক্লান্তিতে দেহটা একটু নুয়ে পড়েছে » নাঁক-চোখ ধারালো, মুখের দিকে চাইলেই মনে হয় যোদ্ধা হাতের ফাঁইলটা টেবিলে রেখে স্ত্রীর দিকে চেয়ে বললেন, মিনটু আছে কেমন ?

ভালই

ছেলেদের দিকে চেয়ে বললেন এই যে, বগীর দলও যে হাজির

তোরা এবার বাড়ি যা, আবার কাল আসবি বললেন মৃণ্ময়ীদেবী তার? মিনটুর দিকে একবার চেয়ে উঠে বেরিয়ে গেল।

মিনটুর গায়ে একটা চাদর চাপ দিয়ে বললেন স্বণ্ময়ীদেবী, শুয়ে থাক্‌ চপ করে, আমি আসছি

মিনটু অনিচ্ছায় চোখ বুজলো

কদ্দাস্ত

1 811

মিক্তিরবাড়ির বৈঠকখান? £ গ্রীষ্মের দিনে দিবানিজ্রার পক্ষে যে ঘরট] বড়কর্তী রামকালী মিত্রের অতি প্রিয় এবং তীর পুত্র অমিয়কান্তি ওরফে অমি, ভ্রাতুকুত্রী স্থমিত্রা ওরফে রুন্গুর অতি অপ্রিয় ; দুই পাশে ছুইজন দিবানিভ্রাবিরোধীকে নিয়ে সেখানে রামকালীবাবু শায়িত; বয়স পশ্চিমে হেলেছে ; চেহারার মধ্যে রাগ কেদারার গাস্তীর্য ; পোক্ত বাধনে লঙ্ব! চেহারা, স্থুকাস্তি বললে আপত্তি হবে ন]। কণস্থরে তার আসল বৈশিষ্ট্য,_খাদপঞ্চমে বাঁধা গুরুগন্ভীর নাদ আখ্যা দেওয়া যেতে পাবে $ কথা বলার সময় শেষের দিকটা! গভীর গমকে অর্ধ-সমাপ্ত বলে মনে হয়। ছেলেরা তীর চেয়ে তাঁর কঠম্বরকে ভয় কবে বেশি। নপ্রাজড়িত কণ্ে ঢুধারে দুজনের গায়ে হাত চাপিয়ে তিনি বললেন, কি রে তার" ঘুমোলি? এতক্ষণ যদিও দুজনেরই চোখ কডিকাঠ গণনায় ব্যস্ত ছিলো, রামকালীবাবুর প্রশ্নের পরেই তা নিন্দায় মুদিত আছে ধলে মনে না হওয়ার কোন কারণ রইল ন"। তিনি কিছুক্ষণ উত্তরের অপেক্ষায় কাটিয়ে জনের গায়ে হাত বোলাতে (বোলাতে নিদ্রিত হয়ে পড়লেন কষ্ধ দরজার গোড়ায় টিকৃটিকির আওয়াজের অন্থকরণে টাক্রার শব হতেই অমি 5ঞ্চল হয়ে পন্ডলো ; সে চারিদিক ভাল করে দেখে বিড়ালের মত নিঃশকে দরজ' খুলে বেরিয়ে গেলো জান না থাকলে ভেবে নেওয়1 খুবই সোজা ষে মেজেতে রবারের ম্যাটিং করা! অমির পর রুম্ুও এই একই দক্ষতার পরিচয় দিলে। আমি চাপ। গলায় রুম্ুকে বল্লে, তুইও বেরিয়ে এলি কেন ? অভিমানের স্তরে রুক্ট উত্তর দিলে, বারে, নিজে এলে, আমার বুঝি ইচ্ছে ক্র না মিনটু রুষ্ধুর কাধে একটা হাত চাপিয়ে বললে নরম গলায়, আজ আমাদের প্নক্গে যেতে চেয়ে! না? রুনু, তোমায় আজকে নিয়ে ঘেতে পারবে না! কাদ কাদ সুরে বল্লে রুঙ, বোয়ে গেছে! বোয়ে গেছে, যাও না! তার কথা বলার ভঙ্গী দেখে দুজনেরই একটু ভর হলো, তার ভাবতে জাগলে৷ কি করে রুককে ভোলানো যায়। শেষে তার গৌজ কর! মুখটার দিকে চেয়ে আমি মোক্ষম অস্ত্র ছাড়লে, রুহ, আল্সেতে কাকীমার আচার শুকোচ্ছে, তুই আমাদের সঙ্গে যেতে না চাইলে অনেকটা কুলের আচার এনে দিতে পারি! . আচারের কথায় রুদ্ুর মূখটা সরস হয়ে উঠলো, সে ঠোটটাকে একটু চেটে নিয়ে বললে উদাসভাবে, চাই নাং ভারি তো!

কল্পাস্ত

কথাটার মানে বুঝে অদৃশ্য হলে অমি। রুনু মিনটুর কাছে গিয়ে বললে বিজ্ঞতার ভঙ্গীতে, এই সেদিন অতবড় কাণ্ট! হয়ে গেল আবার আজ কোথায় যাঁবে বল তে1? এবারে কিন্ত পারবে! না আমি বাপু সামলাতে !

মিনটু তার গালে একটা মৃদু চড় কষিয়ে বললে, যা যা পাকামি করতে 'হবে না।

চুপচাপ ছুজনে ঈীড়িয়ে রইল

অমি নেবে এলো! সিড়ি দিয়ে তার দুহাতে দুমুঠো কুলের আচার ; সে একটা মুঠো রুম্ধর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললে, যাও চিলে কোঠায় বসে খাওখে আমরা এখুনি ফিরে আসছি।

বাড়ির খিড়কী দরজ। দিয়ে বেরোবার সময় ছুজনে খানিকটা কুলের আঁচাঁর মুখে পুরে ফিরে তাকালে বাড়িটার দিকে, দেখলে রুম্থ চলে গেছে, নিত্রিত নিঝুমপুরী, ভয়ের কারণ নেই।

মিত্বির বাড়ির কিছু দূরেই মারাঠা খালের মুখ গঙ্গার সঙ্গে মিলেছে অসংখ্য ছোট বড় নৌকো বাংলার বিভিন্ন জেল! থেকে নানা পণ্য নিয়ে এখানে এসে জমা হয়। বৈশাখের দি-প্রহরে নেহাৎ দায়গ্রস্ত না হলে বড একটা কেউ এখানে আসে না। নৌকার মাঝিদেরও সময় কদাচিৎ দেখা! যায়। দুপুর বেল! শ্রীমান মিনটু শ্রীমান অমির এই স্থানটায় আসা অপরিহার্য কর্ধ হয়ে উঠেছিল। নির্জন খালের ধারে এসে কোনদিন তার! দুজনে গাছের ছায়ায় গঙ্গার দিকে চেয়ে শুয়ে থাকে, কোনদিন বড় নৌকাগুলোয় বীধা! ছোট ডিঙ্গি একটা গোপনে খুলে নিয়ে লগি ঠেলে খালের মধ্যেই খানিকট! ঘোরাঘুরি করে তাদের জল ভ্রমণের সখ মেটায়

মিনটুর বড় ভাল লাগে এই জায়গাটা : সে ভাবে গঙ্গার দিকে চেয়ে, যদি সে ভাল সাতার জানতো তা হলে ঠিক গিয়ে বসে থাকতো বয়াটার ওপরে। ট্টিমারের গতিবেগে ওটা কেমন ঢেউয়ের ওপর দুলে দুলে ওঠে! তার ইচ্ছে করে ওই ঢেউয়ের ওপর সাতার কেটে নৌ?কাঞ্জালার সঙ্গে পাল্লা দিতে ভাল মাতার জানলে ভয় কি এক ওই শুশুক্গ্ুলো ছাঁড।। সে বড়দের কাছে গল্প শুনেছে মাতার কাটলে হাঙ্গর কুমীর কিছুই করতে পারে না, কিন্তু ওই কাল কাল * মোষের মত ঘুরপাক্‌ খাওয়] শুশ্তকৃগুলোকে জলের ওপর ভেসে উঠতে দেখলেই মিন্টুর কেমন যেন ভয় করে; যদি তার পেটের নিচেই ঘুরপাক্‌ খেয়ে উঠে পড়ে!

যেদিন তার] মাঝিদের সঙ্গে আলাপ করে নৌকার চালে গিয়ে বস্তে পায় কিংবা গোপনে কোন ছোট ডিঙ্গি খুলে নিয়ে খানিকটা ঘুরে আসতে পায় সেদিন তে। তাদের শ্মরণীয় দ্িন। নৌকোয় চাপলেই তাদের ছুজনের মনে হয় তারা যেন সাতসমুন্্র তেরনদী পার হয়ে গল্পের সুন্দর সুন্দর দেশগুলোর দিকে যাচ্ছে!

কলা

খালের ধারে এসে-মিনটু চারিদিকে চেয়ে দেখলো তারপর আনন্দে বলে উঠলো, অমি, আজ কুলের যাত্রা ভাল রে! মাঝিগুলো সব ঘুমোচ্ছে।

অমি বললে দুহাতে তালি বাজিয়ে, জয় মা কালী, চল্‌ ওই পাটের নৌকোটায় বাধ! ছোট ডিঙ্গিটা নিয়ে সরে পড়ি! কথার শেষে তারা দুজনে খালের পাঁড় বেয়ে নামতে শুরু করে দিলে ধারের পাটাতনের ওপর দিয়ে বড পাটের নৌকোটায় উঠে তাব। উকি মেরে দেখে নিলে ভেতরটা, তারপর বাঁদরের মত ঝুলে পড়লো ছোট ডিঙ্গিটার ওপর অতি সন্তর্পণে দড়ি খুলে, বাশের লগিটায় একটা ঠেল! দিয়ে মিনট্র বললে, মাঝিখগুলো খুব ঘুমোচ্ছে, আজ অনেকটা ঘুরে আসা যাবে!

অমি বললে উৎসাহিত কে, আজ গঙ্গার দিকে চল্‌, পোলের গোড়া থেকেই ফিরে আসবো পকেট থেকে আমের আচার বার করে দু-টুকরো নিজের মুখে পুরে ছু-টুকরে! মিনটুর মুখে ঢুকিয়ে দিলে মুখের মধ্যে আমের আচার পেয়ে মিনটু ফুতিতে জোর জোর লগির ঠেল! দিতে লাগলো তর তর করে তাদের ছোট ডিঙ্গিটা ভেসে চললো! খালের মুখের দিকে

অমি বললে, জানিস মিনটু বিজয় সিংহের গল্প? বাবা বলেন, তিনি নাকি সাতসমুগ্র তেরনদদী পার হয়ে লঙ্কায় রাবণের দেশে চলে গেছলেন তখন তে। স্টিমার ছিলো ন। নৌকায় করে তাকে যেতে হয়েছিলো। !

আমের টকে মুখটা বিরৃত করে বললে মিনটু, তা আবার জানি না! বিজয়সিংহ বাঙালী ছিলেন, লঙ্ব1 জয় করে নাম রেখেছিলেন সিংহল।

অমি মাথ। নেড়ে জানালে সেও একথা জানে

আর একজন কে ছিলেন বল তো পৃথিবী ঘুরেছিলো ? প্রশ্ন করলো অমি 'মিনটুকে ঠকাবার জন্য |

মিনটু চিস্তিত হয়ে পড়লো; বললে অল্পষ্ট গলায়, ম্যাগ, ম্যাগ, ম্যাগেলন অমি হেরে গিয়ে চুপ করলো৷। ম্যাগেল্যানের গল্প ভাবতে ভাবতে মিনটুর খেয়াল নেই,*হাতের লগিট! গেল গভীর জলে তলিয়ে, মাটিতে ঠেকলো! না; পরমুহূর্েই ছোট ডিডিটা1 একটা! প্রচণ্ড ঘুরপাক খেয়ে গিয়ে পড়লো গঙ্গার স্রোতে! মিনটু প্রাণপণে হাতের থেকে ভেসে-যাঁওয় লগিট! ধরবার চেষ্টা করলে! লগিট! তার নাগালের মধ্যে আসার বদলে, ডিঙ্গিট হুডমুড় করে এগিয়ে যেতে লাগলো গঙ্গার ভেতর দিকে!

চারিদিকে অথই জলম্বোত। মিনটুর মাথাটা? ঝন্‌ ঝন্‌ করে উঠলো) সমস্ত শরীরট। থর থর করে কাপছে! নিজেকে একটু সামলে নিয়ে অমির দ্রকে চাইলে; অমি ভয়ে কাঠ হয়ে বসে।

সে বললে, ভয় কি অমি! ওই দেখ সামনের ওই জেটিটায় ডিঙ্গিট। ঠিক

১০ কলাস্ত

গিয়ে ধাক্কা খাবে সেই সময় আমি লোহার শেকলট! ধরে ফেলবো, তুই আমাকে: ছাড়িস্‌ নি, জড়িয়ে ধরে থাক -

' তাঁর কথায় অমি যেন একটু সাহস পেলো সে জড়িয়ে ধরলে তাকে। ডিঙ্গিটা তখন হুহু করে ন্োতের টানে ভেসে চলেছে। জেটির পাশে ডিঙ্গিটা পৌছতেই, মিনটু অমিকে একটা ঝাকুনি দিয়ে বললে, আমায় ধরে থাঁকিস্‌ জোরে সে লাফিয়ে একটা শেকল জাকডে ধরলে, সঙ্গে সঙ্গে অমিও ঝাপিয়ে পড়লে শেকলটার ওপর দুজনের চললো! ক্োতের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি। কাত ভয়ে ফাওয়1 ডিঙ্গিটা একটা হেঁচকা টানে ভেসে চলে গেলো। ছুটি বালকের শ্লোতের সঙ্গে লডাইয়ে পাগুলে৷ টান হস্ধে ভেসে উঠেছে, চোখে মুখে লাগছে ঢেউয়ের ঝাপটা, মাঝে মাঝে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে জেটির তলার দিকে দাতে দাত টিপে মিনটু বললে চেঁচিয়ে, শেকলট1 কিছুতেই ছাড়িসনি অমি, ছাডলেই জেটির তলায় টেনে নিয়ে যাবে !

অমির গ1 ঘেসে, তাঁর মাথাটার মাথা ঠেকিরে বললে মিনটু, ভয় পাসনি। জোর করে ধরে থাক! ন্োতের সঙ্গে সংগ্রামে ছুটি বালকের ঘুমের মত এলে৷ ঘোর

চোখ খুলে চাইতেই মিনট্র দেখলে সে জেটিতে শুয়ে আছে, চারিদিকে (লোকের ভিড ক্লান্তিতে হাতখান। উঠতে চাইছিলে। না, তবু জোর করে কোন রকমে হাতিটা পাশের দিকে চালিয়ে বলে উঠল, অমি! অমি! ভিডের মধ্যে (থকে কে যেন কি বললে, সে কিছু বুঝতে না পেরে কেঁদে ফেললে তার দ্বিকে (লাকে ঝুঁকে পড়তেই সে কাদতে কাদতে চেঁচিয়ে উঠলো, অমি! অমি! অমি ডুবে গেছে! পাশের লোকর1 আঙ্কুল দেখিয়ে বললে, ন। না ওই যে অমি।

ভিড় ফাক হয়ে যাওয়াতে মিনটু দেখতে পেলে, অমি পাশেই শুয়ে আছে। সে একটা নিঃশ্বাস ফেলে আবার এলিয়ে পডালো। তার গা ভাত পা যেন ওই শেকলটার মতই ভারী হয়ে গেছে।

জনতার মধ্যে থেকে কে একজন তখন বলে উঠলো, বাহাদুর ছেলে বটে, অজ্ঞান হয়েও শেকল ছাড়েনি, যেন বুল্ডগ ' |

11 11

দিবানিদ্রা শেষে রামকালীবাবু অর্ধশায়িত অবস্থায় গড়গড়ায় টান দিচ্ছেন? মিত্তির বাড়ির বনেদি বৈঠকখানা £ চার কোণে চারটি ছোট পাথরের টেবিলের

কল্লাস্ত ১৬

ওপর প্রমাণ সাইজের আরশি, দেওয়ালের গায়ে নানা বিদেশী শিল্পীদের আকা ল্যাগুস্কেপ এবং ছু-তিন পুরুষের তৈলচিত্র। লম্বা তক্তপোশের ওপর ফরাশ পাত" ছোট ছোট টেবিলগুলির ওপর এক একটি গ্রীকদেশীয় ভাস্কর্ষের নিদর্শন ; _বলিষ্ট নগ্ন প্রতিকৃতি একটি বড় ব্রাকেটের ওপর স্থাপিত ভারতীয় আদর্শের বুদ্ধমৃত্তি। ঘরের প্রত্যেক দ্রব্যের মধ্যেই কাল-এর চিহ্ন বিদ্যমান! তাদের দৈন্ধের মধ্যেই তাদের সাবেকি মর্যাদা! পূর্বে আরো অনেক কিছুই ছিলো,_ বঝাড-লঞন থেকে আতরদান পর্যন্ত বহু বনেদি সভ্যতার বাহক, এখন বেশির ভাগই অপসারিত 1কন্বা লুপ্ত যুগ, পরিবর্তনের ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনস্রোত আজ ক্রমে সংজ্ঞাহীন হতে চলেছে বাহিরের দৈন্ত অস্তরকে কোথাও মলিন, কোথাও ব1 উদাসীন, কোথাও বা অতিলোভী, কোথাও ব1 অতীতের নিক্ষল আবর্তে ঘোলাটে করে তুলেছে! তাই পরিবারের চরিত্রগত মিল খুব কমই দেখতে পাঁওয়] যায়। মাত্র একটি বিষয়ে পরম্পরের মধ্যে সুম্ম মিলনস্থত্র এখনও আছে-যদিও নিজেদের বসতবাড়ি ভাড়া দিয়ে সেই-অর্থে এদের কারুর কারুর সাংসারিক প্রয়োজন মেটে তবু অতীতের সেই জমিদারী অহঙ্কারের ছিটেফোটা এদের প্রত্যেকের মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এখনও দেখা যায়।

নবাবী গড়গডার লম্বা নল, দৈর্ঘ্য কমে দেড় হাত হয়েছে তবু; চাকরের অভাবে নিজেই কলকে সেজে, তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে চোখ বুজে ধুমপান কর! রামকালীবাবুর কাছে আজও আদর্শ বিলাসিতা; ধেয়ার কুগুলীর মধ্যে বাস্তব তুনিয়াটা বুঝি আডাল পডে।

ঘরে প্রবেশ করলেন ছোট কী ব্রজেন্দ্রনাথ.ঃ দুজনের মধ্যে চেহারার পার্থক্য প্রচুর, ব্রজেন্দ্রনাথ শীর্ণ পারাবত বক্ষ, শুফ পেশীর প্রাচর্যে হতশ্রী। কোটরাগত চক্ষুর মধ্যস্থলে দোছুল্যমান তিলক শোভিত নাসিকা, ক্ষীণ ওম অদ্ভুত একটি বিনয়ী হাসি, মাথার টিকি, গলায় কষ্ঠি, পরনে আধময়লা আট হাতি।

ভাকে ঘরে ঢুকতে দেখে বামকালীবাবু জিজ্ঞান্থ নেত্রে চাইলেন। গল! খাক্রানি দিয়ে ব্রজেন্দ্রনাথ বললেন, দাদ! একটা কথা

বলো

স্লছিলুম রুনু বিয়ের কথা'.*...একটু ইতঃস্তত করে বললেন তিনি

রামকালীবাবু সোজ হয়ে বসে চক্ষু বিস্ফাপ্িত করে বললেন, মানে

বজেন্ত্রনাথের ওঠে ক্ষীণ হাসি দেখ। গেল--তিনি বিনয়ী গলায় বললেন, মাশে-_রুন্গুর বয়স তো কম হলো! না, বার তের প্রায় হতে চলেছে খুব বেশি বয়সে বিয়ে আমার পছন্দ নয়! রামকালীবাবুর কাছে ব্রজেন্্রনাথের চরিত্র অজ্ঞাত নয়; তিনি ভাল করেই,.জানেন সম্বন্ধে কোন কথা বলা বুখা, তবু

১২ কল্লাস্ত

তিনি বললেন বিশ্মিত কে, তুমি কি দিনে দিনে পাগল হতে চলেছ ব্রজেন ? এতটুকু কচি মেয়ের বিয়ে দেবে !

কোন রকম চাঞ্চল্য ন। দেখিয়ে বললেন ব্রজেন্দ্রনাথ-কেন রীতি হিসাবে এটা কি মন্দ? তা ছাড়া বার তের বছরের মেয়ে, এমন কিছু আর কি নয়, বাল্যবিবাহ একে বলা চলে ন1!

মন্দ নয়! কি বল্ছে। তুমি ব্রজেন ! তার গলার ম্বর নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে।

শাস্সের বিধান যা! এতদিন চলে আসছে তা মন্দ হলে কি চলতো 1?

শাস্ত্রের দোহাই শুনে রামকালীবাবুর হাসি পেলো; শাস্্ সম্বন্ধে ব্রজেন্দ্রনাথের জান রামকালীবাবুর অজানা নয় £ মুখে যাই বলুক শাস্ত্রের চেয়ে তাঁর নিজের তাগিদ বেশি। কাজেই কথা না বাড়িয়ে বললেন তিনি, তোমার মেয়ে তুমি বিয়ে দেবে তাতে আমাদের কিছু আপত্তি থাকতে পারে না অবশ্য, পান্ত স্থির করেছ?

হ্যা প্রায় একরকম ঠিক করে এনেছি, ওই যে হবরেকেষ্ট বোসের নাতি, নিতাইয়ের ছেলে ননী ! এবারে ফাষ্ট কেলাসে উঠলো--ওরা এই মাসের মধ্যে ছেলের বিয়ে দিতে চায় !

চমৃকে উঠে ক্রুদ্ধভাবে বললেন রামকাঁলীবাবু, ওই বিশ্ববকার্টে নিতাই ছেলেটার সঙ্গে তুমি রুচ্গুর বিয়ে দিতে চাও !

কি করবে| বলে। অন্ত পাত্র যোগাড করতে গেলে এখুনি অনেক টাকা লাগবে।

এখানে টাকা লাগবে না।

হরেকেষ্টবাবু বলেছেন আমাদের বাড়ির মেয়ে হলে, কোন কিছু দাবী নেই!

এতক্ষণে শাস্ত্রের নিগুঢ় অর্থ পরিষ্কার হয়ে গেলো রামকালীবাবুর কাছে। তিনি ক্ষুব্ভাবে বললেন, পয়সা বাচাতে গিয়ে তুমি তোমার একমাত্র সম্তানকে বলি দেবে আমার ধারণার বাইরে--ভাল ন1 হোক মাঝামাঝি পাত্র দেখে দেওয়ার সঙ্গতি তোমার আছে!

এতে মানুষের হাত কতটুকু? ভাল দেখে দিলেও মন্দ হয়ে যায়, আবার মন্দ পাত্রও ভাল হয়!

এরপর কোন কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলেন ন1 রামকালীবাবু, স্তার চোখে ভেসে উঠলো কনিষ্টের গোটা চরিত্র £ ধন সঞ্চয়ের মোহে নিজের পরিবারকে পরস্ত অধধভূক্ত রাখ! ? দ্রারিপ্রোর অভিনয়! এম্বভাব ব্রজেন্দ্রনাথ কোথ। থেকে পেলো? তীর মনে হলো যেন মিত্তির বাড়ির ব্যাধিগ্রস্থ একট বিকলাঙ্গ ! হঠাৎ উত্তেজিত ভাবে বললেন তিনি, ঠিকই যখন করে ফেলেছে, তখন আমাকে

কল্লাস্ত ১৩

জিজ্ঞেস করে লাভ কি? শিবু; জ্ঞান, এদের আসতে লেখে বা মত নাও, তার! মত দিলেই আমার মত দেওয়া! হবে

কথা শেষ করেই রামকালীবাবু উঠে বেৰিয়ে গেলেন ঘর থেকে ব্রজেন্দ্রনাথ তরু কুপ্চিত করে ভাবতে লাগলেন £ তাঁর ধারণ! দাদার সাংসারিক জ্ঞান কম। বড বেহিসাবীর মত কথা বলেন। ননী পাত্র হিসাবে কি এমন খারাপ ! এত কম খরচে, এমন একট! পাত্র হাতছাড়া কর! মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়, ইত্যাদি ইত্যাদি

হাতের ওপর চলেছে দারুন গোলমাল; মিনটু, আমি, ললিত, রুম, ভূতো, ইত্যাদি ছেলে মেয়েদের মধ্যে আজ কি খেল। হবে সেই নিয়ে ধচসা। অমি বললে চোর চোর খেল্লে, মা বড় রাগ করে, এত গোলমাল হয়।

যা বলেছিস্‌, আর ওই ছুটোছুটি ভালও লাগে না! সায় দিলে ললিত। মিনটু খি'চিয়ে উঠলো, ভাল লাগবে কেন কুঁড়ের টিপি, খালি বরবউ খেলতেই ওক্ডাদ।

ললিত কি একটা বল্তে যাচ্ছিলো তাকে ইসারার থামিয়ে বল্লে অযি, দেখ ভাই যে খেলায় বেশি ছেলে রাজি হবে সেই খেল! সবাইকে খেলতে হবে।

ভাল কথা! কে কে বরবউ খেলতে রাজি আছ হাত তোল, হাকলে মিনট্ু। সবাই হাত তুলেছে দেখে মিনটু গুম্‌ হয়ে চুপ করে গেলে

অমি বললে উৎসাহ ভরে, বরের বউ বেছে নাও

ললিত বললে, বাছাবাছি কি? বউয়ের! বরের পাশে গিয়ে দাড়াও রুন্চ গিয়ে মিনটুর কাছে দাড়ালো, সকলের মধ্যে একটা অর্থপূর্ণ আখি বিনিময় হয়ে গেলে!) রেখ] গিয়ে দাড়ালো অমির কাছে, আর লীল! ললিতের কাছে; ভূতে! এক। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল; খেলতে পাবেন! ভেবে তার কান্না পেয়ে যাচ্ছে!

অমি বললে তাঁর দিকে চেরে, এই ভূতো, তুই আমাদের চাঁকর হুবি ভাবন? কি?

আশ্বস্ত হয়ে ভূতো নিশ্বাস ছাড়লো, সেও তাহলে খেলতে পাবে।

খেলা শুরু হলো £ কিশোর মনের নানা বিচিত্র খেয়াল$ কেউ নকল সংসারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পডলে। ; কেউ নকল আঁপিসে যাওয়া নিরে; কাকুনর স্দীর ওপর কর্তামি, কারুর স্বামীকে সন্ধষ্ট করার অদ্ভুত চেষ্টা! ইটের পার্টিশন দেওয়া প্রত্যেক পরিবারের এক একটি পৃথক ঘর, তারই মধ্যে তাদের নকল সংসারযাত্রা! কতক্ষণ খেলা! চলেছে খেয়াল নেই। রাঁমকালীবাবুর কণম্বরে তাদের চৈতন্ত হতে খেলা ছেড়ে সবাই উঠে ঈাড়ালো।

১৪ কল্পান্ত

রুন্চ মা! রামকালীবাবু এসে দাড়ালেন সিডির দরজায় একলাফে রুন্থু গিয়ে তার পাশে ধাড়িরে বললে, কি জ্যেগ্বাবু ?

কিছু না! বলে জড়িয়ে ধরলেন তাকে রামকালীবাবু।

রুন্ তার গায়ে মাথাটা চেপে ধরে বললে, তুমি কাপছ কেন জ্যেইবাবু, তোমার শরীর খারাপ নাকি ?

ই্যা মী, শরীরট। আজ ভাল নেই। একটা উদগত নিঃশ্বীন চেপে নিলেন তিনি। রুনু বললে তাঁর হাত ধরে, চলে। জ্যেঠুরাবু শোবে চলো, আমি তোমার মাথার হাত বুলিয়ে দিগে। মাতভক্ত সঙ্গানের মত রামকালীবাবু কুকুর পেছনে নিচে নেমে গেলেন। ছেলেদের খেলাও আর জমূলো না, তার। বাড়ি ফিরলে

আকাশে বংঞর খেলাও শেষ হয়ে আসছে

1 ৬1

রাত্রির কাল যবণিক। সরে যাচ্ছে; মিত্তির বাড়ির ঘুল্ঘুলি, ফাটলের মধ্যে চড,ই কেলেগোলার কাকলি সবে শুরু হয়েছে; সেই আলো-আআধারের মধ্যে নিঃশব সাবধানী পদক্ষেপে কার! যেন ঘুরে বেড়াচ্ছে বাড়িটার চারিপাশে |

বাড়ির সম্মুখদিকে ঘন ঘন বাশী বেজে উঠলো $ বিছানা থেকে একলাফে বেরিয়ে গেলো মিনটু। শব্দ পেয়ে মুগ্ময়ী দেবী বললেন উচ্চকণ্ে, কি বে মিনটু এতো! সকালে কোথায় যাচ্ছিস্‌

মিনটু ততক্ষণে নিচের তলায় নেমে গেছে

বাশীর শব্ধ লক্ষ্য করে মিনটু উধ্বশ্বাসে স্ব দরজা দিয়ে বেরোতেই একজন দারোগ] তাকে চেপে ধরলেন। ভ্যাবাচেক খেয়ে মিনটু তার মুখের দিকে চেয়ে হাত ছাড়াবার চেষ্টা করতে করতে বললে, ছেডে দাও আমাকে! দেখে নেবে শুয়োরদের !

দারোগার মুখে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠলো, তার মানেটা,_আমার চোখে ধুলো দিয়ে পালাবে কোথায় বাছাধন, আমি বলে এই করে পেকে গেলুম ! তিনি মিনট্রকে একটা ঝাকুনি দিয়ে বললেন, কি নাম তোমার, এই খোকা! !

জানি না, আমায় ছেড়ে দিন নয়তো আমি চেঁচাবেো]! ' বললে সে।

দারোগা বিরক্ত হয়ে একটু জোরে চেপে ধরে বললেম, পাজি ছেলে বলে। কিনাম? |

অমিতাভ বায়। ছেড়ে দ্দিন এইবার মিনটু বললে অগ্রি দৃষ্টিতে দারোগার দিকে তাকিয়ে।

তার কথার উত্তর ন1 দিরে দারোগ! ডাকলেন, হাবিলদার

কল্লাস্ত ১৫

সেলাম করে এসে দাঁড়ালে] হাবিলদার

তার বড় বড় গোঁফ গালপাট্ট৷ দেখে, দুর্গাঠাকুরের অস্থরটার মত মনে হলো 'মিনটুর ; সে ভয় পেয়ে মিট মিট করে চাইতে লাগলো

দারোগা! বললেন, সাক্ষী মিলা?

হ্যা সাব, ওহি ঘড়িওয়াল! ব্ববু!

ইতিমধ্যে নিতাইচন্ত্র এসে দাড়িয়েছে

তাকে জিজ্ঞেস করলেন দারোগা, আপনার নাম ?

আজ্ঞে নিতাইচন্্র চন্দ! ভয়ে ভয়ে বললে সে।

আপনাকে আমাদের এই খানাতল্লাসীর সাক্ষী থাকতে হবে! নিতাই একটু ইতঃস্তত করছে দেখে দারোগ তার দিকে কটমটিয়ে চাইতেই সে ঢেশক গিলে বললে, কি করতে হবে হুজুর?

খুশি হয়ে বললেন তিনি, সে পরে বলে দেবো

নিতাইকে দেখে মিনটুর সাহস বেড়ে গেলো, সে বললে চেচিয়ে, দেখে। তো নিতাইদা এই লোকট1 আমাকে শুধু শুধু ধরে ক্কেখেছে

নিত্যই হাত কচলাতে কচলাতে বললে দাবোগাকে, আজে একে কেন ?

তুমি চেন নাকি?

আজে হ্যা হুজুর, ওই ওপরতলার হারাধনবারুর ছেলে।

এর সঙ্গে স্থজিৎ ঘোষের কোন সম্বন্ধ নেই তুমি জানে।?

ন] হুজুর, কোনদিন একে স্ুজিৎ ঘোষের কাছে দেখিনি

হুম দারোগ1 গন্ভীরভাবে ভাবতে লাগলেন নিতাইকে সন্দেহ করার কোন কারণ আছে কি না।

এদিকে দারুণ দুঃশ্চিন্তায় মিনটুর মুখখান] কালে। হয়ে গেছে, এতক্ষণ আটক! পড়ে গেলো সে, হয়তো ললিতকে কিন্বা ভূতোকে, ওপাড়ার কেউ মারতে এসেছে, কিছ্বা এতক্ষণ মারই খেয়ে গেলো। জান্থুবানের মত লোকটা তাকে যে কিছুতেই ছাড়ছে না!

দারোগা পকেট থেকে বীশী বার করে দ্বিতীয়বার বাজালেন। মিনটু

অবাক হয়ে তার মুখের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলে, একটু আগে কি তুমি বাণী বাজিয়েছিলে?

ই! কেন?

ওঃ, কিছু না। বলে মিনটু একটা আরামের নিঃশ্বাস ছেড়ে সাম্‌নে চাইল।

থোকা প্যান্টটা খোল তো

অন্যমনস্ক হয়ে সে বললে, কেন?

খোলই না, লজ্জা কি? প্যাণ্টের বোতামে হাতা দয়ে বললেন দারোগ, !

১৬" কল্পাস্ত

একটা ঝট্‌কা টান মেরে সে দারোগার হাত ছাড়িয়ে নিতাইয়ের গা ঘেষে ঠাড়ালো।

নিতাই পিঠে হাত বুলিয়ে বললে, দারোগাবাবু দেখতে চান তোমার প্যান্টের তলায় কিছু আছে কি না!

অভিমানভরে বললে, ও, আমি চোর ?

না না অমনি দেখতে চাইছেন ! নিতাই তাকে তুলিয়ে প্যাণ্টট' খুলে ঝাড়া দিয়ে দ্বেখিয়ে দিলে দারোগাকে। ওর চোখ থেকে টপ, টপ, করে ছুফোটা জল গড়িয়ে পড়লে গাল বেয়ে !

দারোগ! তাকে সাত্বন! দেবার ছলে কাধে হাত দিয়ে বল্লেন, কি হয়েছে খোকা কাদছে! কেন, যাও বাড়ি যাও ছুটি !

সে দারোগার হাতট!1 তাড়াতাড়ি কাধ থেকে সরিয়ে দিয়ে টান হয়ে ঈাড়িয়ে রইল।

ওর এগিয়ে গেল স্থজিৎ ঘোষের ঘরের দিকে তারপর কড। নেড়ে ডাকলে, স্থজিৎবাবু! স্থজিত্বাবু &

চোর দেখার লোভে সেও পেছন পেছন গিয়ে দাড়ালে1।

স্থজিতৎবাবুর দরজ] খুলে গেলো; পুলিশ দেখে চোখ ছুটো! ধ্বকৃ করে জলে উঠলো, সাম্‌লে নিয়ে বললেন স্বাভাবিক কণ্ে, এই যে আপনারা, স্থপ্রভাত !

এই লোকটা চোর ! বিস্ময় বিস্ষারিত নেত্রে লক্ষ্য করতে লাগলো মিনট্র।

দারোগা ঘরে ঢুকে একট! কাগজ দেখিয়ে বললেন, আপনার নামে একট! ওয়ারেণ্ট আছে। সেই সঙ্গে আপনার ঘরটাও একবার দেখতে হবে !

স্থজিত্বাবু বললেন নিলিপুভাবে, দেখুন! তারপর একটা কাঠের চেয়ারে জানালার দিকে মুখ করে বসে পড়লেন

মিনটু লক্ষ্য করতে লাগলো, শান্ত গাভভীর্যের মধ্যেও তার কপালের শিরাগুলো এক একবার ফুলে ফুলে মিলিয়ে যাচ্ছে

স্বার। ঘর ওলটপালট কবে খানাতল্লাপী চললো; মেজের পর রাশিকৃত বই জম। হলো, বিছানা বালিশের তুলে! ছি'ড়ে জমূলে৷ তুলোর পাহাড় খাটের ওপর ছবির ফ্রেম খুলে ছবি গিয়ে পড়লে মেজেতে, জলের কুঁজোর পেছন দেখতে গিয়ে জলের কুঁজোট। গেল উল্টে

ঘণ্টাখানেক ধরে নানারকম সন্ধানকার্য চললো; মিত্তির বাড়ির অন্তান্তয বাসিন্নার! সবাই*প্রায় নিরাপদ ব্যবধানে দাড়িয়ে, তাদের মুখে বিচিত্র ভয়মিশ্রিত কৌতুহল!

খানাতল্লাসী শেষ করে হতাশভাবে বললেন দারোগণ, ন1, আপত্তিকর কিছুই পাওয়া! গেলো না! চলুন স্বজিতবাবু এইবারে আপনাকে যেতে ইবে!

কল্লাস্ত | ১৭

শ্প্রিং দেওয়া চুলের মত জিরার ছেড়ে উঠে.দাডালেন, তার মুখে একটুকরো ক্ষীণ হাসি

নিতাই ভয়ে ভয়ে বললে, আমায় কি করতে হবে হুজুর ?

দারোগ! একটা লম্বা! হল্দে কাগজ তার হাতে দিয়ে বললেন, সই করুন? ঠিক সেই সমর একজন পুলিশ একখান ছেঁড়া বই এনে দারোগার হাতে দিলে। বইটার নামটা পড়তে দারোগার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, তিনি বললেন উৎসাহিত কে, আনন্দমঠ !

মিনট, ভাবলে, আবার কি? একটা বই চুরি তাও আবার ছেঁড়া! তার কেমন যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে!

দারোগ। নিতাইয়ের সই কর] কাগজটা নিয়ে একটা হাতকড়া! স্থজিত্বাবুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, কিছু মনে করবেন না! চাকরির খাতিরে******

তার লজ্জিত ভাব দেখে স্থজিত্বাবু একট. হেসে বললেন হাতদুটো৷ বাড়িরে দিয়ে, ওটা না হলেও চলতে !

হাঃ--নাঃ_তা-তা করতে করতে দারোগ। হাতে হাতিকড়া টিপে চাবি লাগিয়ে দিলেন

হাতকড়ার শেকলগুলে মৃহু আওয়াজ করে উঠলো কপালের শিরাগুলো মিলিয়ে গিয়ে স্থজিত্বাবুর মুখে ফুটে উঠলে! প্রশান্ত হাসি।

দুদিকে দুই সেপাইয়ের মাঝে হেটে সৃজিৎবাবু এসে দাড়ালেন রাস্তায়

দোতলার একট! জানাল। খুলে গেলো; মিনট, দেখলে, জানালার গরাদ ধরে মাষ্টারনী দাড়িয়ে ; স্জিৎবাবু চাইলেন সেদিকে, কি যেন বলা-কওয়া হযে গেলে। ছুজনের চোখের ভাষায় আবার কপালের শিরাগুলে! একবার ফুলে উঠে মিলিয়ে গেলো; তিনি এগিয়ে চললেন মিনট, দেখলে, লোৌকট1 নিজের ঘরটা খুলে রেখেই চলে গেলো! অবাক কাণ্ড একবার ফিরেও চাইলে না সেদিকে! তার মনে হলো লোকট! যেন একট বেশি লম্বা! হয়ে গেছে, বুকটা ফুলে উঠেছে, মুখে সেই হাসি, যেন বনভোজনে চলেছে ; কিন্বা ফুটবল খেলতে! তার কিন্ত কেমন যেন কষ্ট হলো, কান্না পেয়ে যাচ্ছে! হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখছুটো মুছে নিয়ে সে চাইলে ভারী বুটের শব্ধ করে পুলিশগুলো তখন গলির মোড়ে পৌছে গেছে।

ঘরটা যে খোলা পডে রইল! কাকেই বা সে'খবর দেবে? কেই ব। আছে! মনে পড়ে গেলে৷ দোতলায় দেখা মাষ্টারনীর কথা, তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে চাবিতালা কুলুঙ্গির থেকে খুঁজে নিয়ে দরজায় লাখিয়ে ছুট দিলে ভেতর দিকে।

মাষ্টারনীর দরজার গোড়ার এসে একটু দম নিলে, তারপর সাহুদ করে ঢুকে

পড়লো! ঘরের মধ্যে। দেখলে, মাষ্টারণী চুপ করে বসে আছেন! তার মুখের ঙ্‌

১৮ কল্লান্ত

চেহার। দেখে মিনট,র ভয় হলো, চাঁবিট! টেবিলের ওপর ছু'ড়ে দিয়ে বললে জড়িত কণ্ঠে ওই চোরটার ঘরের চাবি।

স্থজাতাদেবী ত্বরিতপদে এসে তার হাতটা ধরে বললেন, ছিঃ খোক' কাকে চোর বলছে।?

এতক্ষণে একটা শ্বন্তির নিঃশ্বাস পড়লো মিনটুর; সে ভাল করে চাইল সুজাতাদেবীর দিকে, তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, তবে? কেও?

অশ্রভারাক্রাস্ত কে উত্তর দিলেন তিনি, উনি আমাদের আপনার লোক! তোমার আমার সকলের জন্তেই জেলে গেলেন, তোমাকে আমাকে ভালবাসেন বলেই ওর স্থান আমাদের মধ্যে নেই ! বৃঝেচো? আর কখনও বলো না কথা।

বোকার মতন চেয়ে রইল তাঁর মুখের দিকে মিনট, |

স্থজাতাদেবী নিজেকে সাম্লে নিয়ে বললেন, ঘরটায় চাবি দিয়ে দিয়েছ (তো?

হ্যা, মাথা নিচু করে উত্তর দিলে ও। ছুটো হাত দিয়ে তার মুখটা তুলে ধরে বললেন স্থজাতাদেবী, সোনাছেলে ! কিন্তু কাউকে বলোন। ভাই চাবিটা আমাকে দিয়েছে।

আচ্ছা! বলে সে তার দিকে একবার চেয়ে বেরিয়ে গেলে! ঘর থেকে

সামনে একটা ইতিহাসের বই খোল ; মিনট, শৃন্ত দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে বাইরের দিকে স্বৃশনয়ীদেবী ছোট খুকীর জন্তে ফ্রক সেলাই করছেন বসে ; হঠাৎ তার চোখ মিনট,র ওপর পড়তেই বললেন, এই বুঝি তোর পড়া হচ্ছে?

মিনট, চমকে খোলা পাতার দিকে চেয়ে পড়তে আরম করলো, মিপাই বিদ্রোহের পর মহারানী ভিক্টোরিয়া নিজ হস্তে ভারত শাসনের ভার লইলেন, তাহার ব্ুশাসনে লোকে হ্থুখে শান্তিতে বাস করিতে লাগিল.সেই সময় হই... তে...ই।

মিনট.র পড়া বন্ধ হয়ে গেলে! সে ছটফট করে উঠে পডলো।

কিরে উঠে পড়লি যে? বললেন স্বন্ময়ীদেবী

এই যে আসছি! বলে মিনট, বাইরে বেরিয়ে গিয়ে রাস্তায় দাড়ালো

সেখানে দাড়িয়ে দেখলে কোন লোকজন নেই! সকালে এমন একটা শ্ঘটনা! ঘটে গেলোমাষ্টারনী বললেন আমার্দের জন্তে উনি জেলে গেলেন ! কিন্ত কই? সকলেই অন্ত দিনের মত যে যার কাজে ব্যস্ত! ওই তে! বামকালীবাবু গড়গড়া টানছেন; ফিটফাট মনোহরবাবু, টেব্রি বাগাচ্ছেন ; নিবারণ জানা কি নিয়ে যেন বৌয়ের সঙ্গে ঝগড়া করছেন? স্জিৎবাবুকে যে ধরে নিয়ে গেলো সে সম্বদ্ধে তো কাকুরি খেয়াল নেই! তবে কি যাষ্টারনী মিথ্যে বললেন ?'.'সে চাইল সুজিত্বাবুর ঘরের দিকে দেখলে অমির কাকা ব্রজেন্দ্রবাবু,

কল্লাস্ত | "১৯

আর ললিতের বাব। ব্রজবিহারী কি যেন বলাবলি করছে দাড়িয়ে সে কান খাড়া! করে শুনতে চেষ্টা করলে। ব্রজেন্দ্রনাথের গলা ক্রমেই সপ্তমে উঠেছে-_ তার কানে এলো-_-কোথাকার বাউগুলে ছোকর। এসে জুটলে। আমাদের বাড়িতে, তাও যাবি যা ঘরের চাবিট। খুলে রেখে গেলেই তে। হতো, খখন দেখোত গেরো।! তাল। বন্ধ পড়ে থাকবে ভাড়াও পাওয়? যাবে না। ওর মনে যেটুকু সন্দেহ ছিল তা ঘুরে গেলে'; বাউগ্ুলে ছোকরা! মাষ্টারনণী তাকে মিথ্যে বলেছে। সে চিন্তিত ভাবে ঘরে ঢুকলো

সবপ্মযীদেবী তার মুখের চেহারা দেখে কোলের কাছে টেনে বসালেন

কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর সে বললে মায়ের দিকে চেয়ে,_তুমি জানে। মা, ওই যে সামনের ঘরে একট লোক ছিলো» ওকে পুলিশে ধবে নিয়ে গেছে? স্বগ্নয়ীদেবী সেলাই থেকে চোখ না তুলেই বললেন, জানি বৈকি !

সে আগ্রহভরে প্রশ্ন করলে, কে মা?

ভাল লোক, বললেন স্বথায়ীদেবী

ভাল লোক তো ওরা ধরে নিয়ে গেলো কেন, বললে জেল হবে?

তোন্ বাবারও তো! জেল হয়েছিলো, তোর বাবা কি খারাপ লোক ? মুচকি হেসে তিনি বললেন ছেলের দিকে চেয়ে

বাবাকে কেন জেল যেতে হয়েছিলে। ম1?

দেশের জন্তে তুমি এখন বুঝবেন, বড় হও বুঝতে পারবে ছেলের বুদ্ধি সম্বন্ধে মায়ের এত কম ধারণ] দেখে সে মায়ের ওপর রেগে মুখ গৌঁজ করে বসে রইল। ম্বশ্নয়ীদেবী তার মুখের চেকার! দেখে হেসে ফেলে বললেন, সেলাইটা শেষ করি, তারপর তোমাকে গল্প বলবে সব বুঝতে পারবে।

11 11

মিভিরদের নিজেদের বসত অংশটা লোকে গমগম করছে মেজকর্ত। শিবকালীবাবু সেজকরতা জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ, তাদের স্ত্বী পুত্র পরিবার, মায়, চাকর চাকরানী সমেত হাজির হয়েছেন; কাজেই নিজেদের অংশ ছাড় ভাড়াটে অংশেরও খালি পড়ে থাক খানিকটা অংশ এখন খল করতে হয়েছে এই সঙ্গে এসেছেন এদের একটি মাত্র বোন সাবিত্রী দেবী £ খ্যাতনাম। বন্থ পরিবারে বিবাহ হওয়ার পর ভ্রাতাদের সঙ্গে সম্পর্কস্ূত্র ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে

ভ্রাতার। একসঙ্গে বাড়ি এলে, বৈঠকখানার আড্ডা জমে ভাল প্রাতঃকত) সেরে, বড়কর্ডা, মেজকতা, ছোটকত্ডা, ঢালা ফরাসে বসে গল্প-গুজব শুরু করেছেন৷.

২, | কল্লাস্ত

ভ্রাতাদের বয়সের পার্থক্য কম থাকার, আড্ডার খাতিরে, পরম্পরের মধ্যে ধুমপান রসিকতা প্রচলিত করে নেওয়া হয়েছে।

গড়গড়ার নলটা দু একটান দিয়ে রামকালীবাবু বললেন, শিবকালীবাবুর হাতে দিয়ে, নাও ধরাঁওতো এটা স্থবিধে মতন

শিবকালীবাবুর ভারী, গৌরবর্ণ চেহারা, বিদেশে বাস করার জন্যে রংএর মধ্যে কলকাতিয়! জৌলুস নেই; নিরীহ দার্শনিক প্রকৃতির ছাপ তার কথায়- বাতীয় চালচলনে

ব্রজেন্দ্রনাথের পোশাকের কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে; পরিষ্কার পাউ করা! আটহাতি ধুতি, গায়ে সাদ ফতুরা, তিলকহীন নাসিকা !

শিবকালীবাবু কল্‌কেতে আগুন জালিয়ে ণলটা দাদার হাতে দিরে বললেন, ব্রজেন্ত্রনাথের দিকে কটাক্ষে চেয়ে, ওহে ব্রজ। তোমার ওই বোষ্ট্মি আখডা! ছাড়ো।

কেন ভক্কিমার্গের ওপর এত অশ্রদ্ধ! কেন তোমার? বললেন ব্রজেন্দ্রনাথ তীর স্বাভাবিক হাসি হেসে

অশ্রদ্ধা নর হে! আমি দেখছি, বতই তুমি কৃষ্তপ্রেমে মজছো ততই তোমার সাংসারিক প্রেম কপূর হরে যাচ্ছে! তা ছাডা কাপড কোপনীতে দীড়াচ্ছে আর কামিনী ন। হক কাঞ্চনগ্রীতিতে প্রসিদ্ধ হচ্ছে। !

গলাটা একটু পরিফার করে নিয়ে বললেন ব্রজেন্দ্রনাথ, কি করবো দাদা, সামান্ত আর, তাতেই সংসার চালাতে হয়, তোমার কি বল? অভাব তে! নেই!

হেসে শিবকালীবাবু বললেন, আহা বিনয়ের অবতার ! এই একটা গুণ অবশ্ঠ পেয়েছ বৈষ্ণবী আখড়ায়।

দেখ মেজদা, ভগবত প্রেম নিরে ঠাট্টা কর ভাল নয়!

তোমর! যে কুর্ক্ষেত্রের শ্রকৃষ্ণের কথা ভূলে যাও তাতেই তো গোল বাধে।

তুলবো কেন? তবে গোপালই আমাদের আরাধ্য

যাই বলে ওই নেডানেড়ী কিন্তু দেশকে ডোবালে।

ভূল কথা, যদি আমাদের কেউ রক্ষা করে থাকে তবে সে বৈষ্ণব-ধর্ম, নয়তো বর্ণীশ্রমের জুলুমে কোনদিন সবাই মোছলমান হয়ে যেত! নিতাইয়ের প্রেমেই তরে গেলো বাংলাদেশ:

শিবক।লীবাবু রামকা'লীবাবুর দিকে চেয়ে বললেন, দেখছে দাদ] শাক্তকুলের প্রহলাদ |

আলোচনাটা ঘুরিয়ে দেবার মানসে বললেন রামকালীবাবু, রুুর বিয়ের কি হবে তাই বল। '

এবিয়ে হতেই পারে না। গম্ভীরভাবে বললেন শিবকালীবাবু। থতমত খেয়ে ভয়ে ভয়ে বললেন ব্রজেন্দ্রনাথ, কেন কেন %

কল্লাস্ত ২১

যদিও ভ্রাতাদের মধ্যে কোন আথিক অধীনতা নেই তবুঃ বড়লোক 'মেজকর্তীকে অসন্ভষ্ট করা ব্রজেজ্জনাথের পক্ষে শক্ত মেজকততার সোজা আপত্তি শুনে তিনি রীতিমত ঘাবড়ে গেলেন

আবার আরস্ভ করলেন শিবকালীবাবু, ব্রদ! দিনে দিনে সত্যিই তুমি অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছ! এইটুকু মেয়ে, তাতে আবার ভাল বর, ঘর নয়। একট €তো মেয়ে, দেখে শ্তনে পরে ভাল পাত্র দেখে বিয়ে দিও।

অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন ব্রজেন্দ্রনাথ, একবার বডকত্তা একবার মেজকর্তীর দিকে ; কথাট] যেন তারও মেনে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তভাল পাত্রের জন্তে ভাল টাকারও প্রয়োজন, মনে পড়তে তিনি চঞ্চল হয়ে বলে উঠলেন, সবই প্রভুর ইচ্ছা মেজদা, এতে মানুষের হাত কতটুকু! রুহ্ুমার কপালে যদি ছুঃখ থাকে, কে খণ্ডাবে বলো?

এমনসময় ঘরে এসে ঢুকলেন জ্ঞানেন্দরপ্রসাদ ধড ভাইদের তুলনায় চেহারায় লালিত্যের ' অভাব থাকৃলেও সেটা খুব চোখে পড়ে না; জার্মেনী কায়দায় চুল ছাট, দাড়ি গৌঁফ পরিষ্কারভাবে কামানে?, চক্চকে দর্শনধারী ; সাদ" ট্রাউজারের ওপর ড্রেসিং গাউন চাপানো, মুখে আধহাতখানেক চুরুট

. তিনি এসে তক্তপোশের এককোণে পা ঝুলিয়ে বসে বললেন রামকালী- বাবুকে লক্ষ্য করে, দেখ দাদা চেয়ার ছু-চারখানা এনে রাখো, নয়তো বড় অন্তবিধা হয়।

একটু লঙ্জিত হয়ে বললেন রামকালীবাবু, হ্ন্যা হ্যা, বড ভুল হয়ে গেছে, আজই আনিয়ে নিচ্ছি!

হেসে বললেন শিবকালীবাবু, তুমি যে দিনে দিনে সায়েব বনে যাচ্ছ তা দাদ। জানবে কি করে; তোমার অগ্রগতিট। খেয়াল রেখো !

জ্ঞানেন্্রপ্রসাদ বললেন চুরুটে একট। টান দিয়ে, তার চেয়ে বলো তোমবা যে পেছিয়ে যাচ্ছ সেই খেয়ালটাই আমার নেই। তোমাদের এই সাবেকি মায়া, আর মাটি আকডে পড়ে থাকা, যে একেবারে অচল হয়ে পড়েছে মেজদ1 ! -আমার মত লোহ1 আকড়ে ধরো, রক্ষ! পাবে-__মাটি শুধু মাটিই করে দেবে! তক্তপোশ নয়, চেয়ার এই পোশাকের উপযোগী ;-_বৈষ্ঞবদের যেমন নামাবলী তেমনি এ-যুগের নামাবলী,-তোমাঁকে সব সময় মনে করিয়ে দেবে, মাটি নয় লোহা! বুঝেছে?

জ্ঞানেন্দ্প্রসাদ ভার ভ্রাতাদের একটু করুণামিশ্রিত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন; যেমন শ্রদ্ধার নিদর্শন মেলে-_-ইত্রাজী ফ্যাসানে সাজানো। অতিআঁধুনিক ড্রইং রুমে ওরিয়েপ্টাল কায়দায় জাক ছবি বা দেওয়াল সজ্জাক্প মধ্যে নিজেকে বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নেবার সাধন! তার আছে তাই কিছুটা সিদ্ধিলাভও হয়েছে ব্যান্ের অঙ্কে

২২ কল্লাস্ত

অন্ত ভ্রাতার। তাঁকে বিস্ময়ের চোখেই দেখেন, মনে মনে গর্বোধও করেন তাই তার যুক্তির সবটা মেনে নিতে ন। পারলেও প্রশ্রয় দেন। এই কর্মকুশলী, কালজয়ী ভ্রাতাটি তদের ক্ষয়শীল পরিবারের একটা স্থখপ্রদ ব্যতিক্রম

রামকালীবাবু বললেন হেসে--যা বলেছ জ্ঞান, আমরা পিছিয়ে আছি তাই তোমার এগিরে যাওয়াকে কটাক্ষ করছি!

তর্ক করার লোভে বললেন শিবকালীবাবু, তা বল! যায় না দাদ1, কে আগে, আর কে পিছিয়ে, এর বিচার আজও হয়নি

ফেন? বললেন রামকালীবাবু।

যেখানে লোহার কদর বেশি, সেখানের লোক, শেকলের ভারে সুয়ে পড়েছে, লোহার সাধনায় শেকল জুটেছে কপালে!

যাই বলো শিবু। শেকলই হোক আর যাই হোক, তোমার আমার মত কেউ থম্‌কে দাড়িয়ে নেই, সবাই চলার মূখে, শেকল ছি“ডতে কতক্ষণ !

ছে'ড। শক্ত দাদ!

তা হোক। থেমে থাকলে, শেকল ন' জুট্রক, বুকট৷