ছৰি

শরদ-ন্দ্র চট্টোপীধ্যাঁয়

হক ছা জট়োগপাশ্াায় এও স্্ন্দ্‌

২০২৩-১-১ ক্ুলশ্ লিগ যানে 2০ বহাল ২৩

ছা

পি

এই কাহিনী যে সময়ের, তখন ব্রঙ্গদেশ ইংবাজের অধীনে আমে নাই। তখনও তাহার নিজের বাঞাবাণী ছিল, পাত্র-মিত্র ছিল, সৈম্ত-সামস্ত ছিপ; তখন পধ্যস্ত তাহানা নিজেদের*্দেশ নিজেরাই শাসন করিত

মান্দালে রাজধানী, কিন্থ পাবংঞ্রে অনেকেই দেশের বিভিন্ন সহয়ে, গিয়া বববাস করিতেন

এমনি বোধ হয় একজন কেহ বহুক।ন পূর্বে পেগুর ক্রোশ-পাঁচেক দক্ষিণে উমেদিন গ্রামে আসিণা বাস ক্িছিলেন।

তাদের প্রকাণ্ড অট্টালিকা, প্রকাণ্ড বাগান, বিস্তর টাকাঁকড়ি, মস্ত জমিদারী এই সকলের মালিক যিনি, তাঁর একদিন যখন পরকালের ভাক পড়িল, তখন বন্ধুকে ডাকিয়া কহিশেন, বাকো, ইচ্ছে ছিল তোমার ছেলের সঙ্গে আমাব মেয়ের বিবাহ পিয়া যাইব কিন্ত সে সময় হইল না। মাশোয়ে রহিল, তাহাকে দেখি ৪।

ইহার বেশি বলার তিনি প্রয়োজন দেখিলেন না। বাকো তার ছেলে-বেলার বন্ধু। একদিন তাহারও অনেক টাকার সম্পত্তি ছিল, শুধু ফয়ীর মন্দির গড়াইয়া আর ভিক্ষু খাওয়।ইয়া আজ কেবল, সে সর্বস্বাস্ত

, লয়, খণগ্রন্ত তথাপি এই লোকটাকে তাহাব যথাপর্বন্থের সঙ্গে একমাত্র

ছবি

কন্যাকে নির্ভয়ে সঁপিয়! দিতে এই মুমূযুব লেশমাত্র বাধিল নাঁ। বঞ্চুকে চিনিয়া লইবার এভ বড স্থযোগই তিনি জীবনে পাইরাছিলেন। কিন্ত দায়িত্ব বা-কৌকে অধিক দিন বহন করিতে হইল না। ভাবও ও-পাঁবের শমন আসিয়া পৌছিল এবং সেই মহামান্ত পনওযানা মাথায় করিয়া! বৃদ্ধ বসর না ঘুরিতেই যেখানে ভাব সেখানেই ফেলিবা বাখিধা অজানার দিকে পাঁডি দিলেন।

এই ধশ্মপ্রাণ দরি লোকটিকে গ্রামের লোক যত ভাঁলবাসিত, শ্রদ্ধা-ভক্তি কবিত, তেমনি প্রচণ্ড আগ্রহে তাঁহাবা ভাব মৃতা উতৎসৰ স্থুরু করিয়া দিল |

বা! কোর মৃতদেহ মাল্য চন্নে সঙ্ভিত হইব! পালকে «যান বহিল

এবং নিচে খেল1-খুলা, নৃত্য-গীত আহাব বিহারের শ্রোতি বাঙি-ছ্নি "অবিরাম বহিতে লাগিল। মনে হহল ইহার বুঝি আব শেষ হইবে না।

পিতৃ-শোঁকের এই উতৎ্কট মানন্দ হইতে ণকালেব জন্। কোনমতে পলাইয়া বাঁঘিন একটা নিজ্জন গাছের তলায় বস্ষা কাঁদিতে ছিল, হঠাৎ চমকিয়! ফিবিয়া দেখিল, ম।খোৌষে ভাঙার পিছনে আসিয়া ঈীডাইয়াছে। দে ওডনার প্রান্ত দিশা নিঃশবেে তাহার চোখ মুছাইয়। দ্রিল এবং পাশে বসিষা তাহার ডান হাতটা নিজেব হাতের মধ্যে টানিয়া লইযা চুপি টুপি বলিণ, বাবা মবিষাছেন, বিস্ক তোমার মা শোয়ে এখনও ঝাচিয়া আছে।

চে

বািন ছবি আকিত। ভাভাব্ শেষ ছবিথানি সে একজন সওদাগরকে দিয়া বাজার দববানে পান্ঠাইয়া দিয়াছিল। বাজা ছবিখানি গ্রহণ কারযাছ্েপ এব খুনী হইথা বাজ-হন্তের বহুমূল্য অন্গুরী পুবস্থাব কবিয়াছেন |

আনঙ্দে মাশোষেব চোখে জল আপিল, সে তাহার পাঁশে ঈ্াডাইয়। মুদু-কে কহিল, ব| খিন জগতে মি সকলের বড চিত্রকর হইবে

ব-খিন হাসিল, কহিল, বাবাপ খণ বোধ হয় পরিশোধ করিতে পাবিব।

উত্তপাঁধকাবহছ্ে মশো।বেই তাভী? একমাত্র মহাজন তাই কথান মে সকলেব ছেবে বেশি লজ্জা পাইত বলিল, তুমি বার বাব এমন কপিধা শোটা দিন আপ সানি তোমার কাছে আপিব ন|।

ন-থিন চপ কপিষা রহিল কিছ থণেব দায়ে পিতার মুক্তি, হইবে না, এত বড পিপত্তিব কথা ম্মপণ কবিধা তাহার অস্তরট1 ষেন শিহপিঘ। উঠিল।

ব-থিতনির পবিশ্রম আজ-কাল অত্যন্ত বাভিয়াছে। জাতক হইতে একখানা লভন ছবি আকিতেছিপ, আছ সারাদিন মুখ তুলিয়া চাঁছে নাই |

মাশোরে প্রতাহ যেমন আপিত, আজিও তেম্নি আপিয়াছিল। বা-খিনেব শোঁবাব ঘর, বপিবার ঘর, ছবি আ্ীকিবার ঘর সমস্ত নিজের হাতে সাঁজাইয়া গুছাইয়া যাইত৭ চাকর-দাসীর উপর কাজটির ভার. দিতে ভাহাব কিছুতেই সাহস হইত না।

ছবি

সন্মূখে একখানা দর্পণ ছিল, তাহারই উপর বা-খিনের ছায়া পড়িয়াছিল। মা-খোয়ে অনেকক্ষণ পধ্যন্ত এক দৃষ্টে চাহিয়া! থাকিয়া হঠাৎ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, বা-থিন, তুমি আমাদের মত মেযলেমীহুষ হইলে এত দিন দেশের রাধী হইতে পদগ্গিতে

বা-খিন মুখ তুলিযা হাসিমুপে বলিলঃ কেন বল ভ?

রাজা তোমাকে বিবাহ করিম| সি"ভাসনে পইয়। যাইতেন তীহান্ অনেক রাণী, কিন্তু এমন বউ, এমন চুল, এমন মুখ কি তাহাদের কাহারও আছে? এই বলিয়া সে কাজে মন দিল, কিন্তু বা-খিনের মনে পড়িতে লাগিল, মান্দালেতে মে যখন ছবি আকা শিখিতেছিণ, তখনও এম্নি কথ! তাহাকে মাঝে মাঝে শুনিতে হইত।

তখন সে হাসিয়া! কহিল, কিন্তু দপ চবি করার উপায় থাকিলে তুমি বোধ হয় আমাকে ফাঁকি দা এত দিনে রাজার বামে গিয়া বসিতে।

মা-শোয়ে এই অভিযোগের কোন উত্তত দিল না, কেবল মনে মনে বলিল, তুমি নারীর মত দুর্বল, পারীর মত কৌমল, তাহাদের মতই স্ুন্দর--তোমার পের সীমা নাই।

এই বূপের কাছে সে আপনাকে বড ছেশট মনে করিত

বসন্তের প্রারভে এই ইমেদিন গ্রামে প্রতি বত্দর অত্যন্ত সমারোহেক সহিত ঘোড়-দৌড় হইত। আজ সেই উপলক্ষে গ্রামাস্তের মাঠে বন্ধ জনসমাগম হইয়াছিল

ছবি

মা-শোয়ে ধীরে বীরে বাখিনের পশ্চাতে আলিয়া দাড়াইল। (লস একমনে ছবি আকিতেছিল, তাই তাহাব পদশন্দ শুনিতে পাইল না।

মাশোয়ে কহিল, এামি আপিয়াছ, ফিরিয়া দেখ বাধিন চকিত হইয়া ফিরিয়া চাহিল, বিশ্মিত হইয়। জিজ্ঞাসা কবিল, হঠাৎ এভ সীক্ত-সঙ্জা কিসের ?

বাঃ তোমাৰ বুঝি মনে নাই, আজ আমাদের ঘে।ড-দোড? যেকরী হইবে, সেভ আজ আমাকেই মালা দিবে

কই, ত। শুনি নাই, বলিয়া বাঁখিন তাহাগ তুলিটা পুনরায় তুলিয়া গইতে যাইতেছিন, মাশোয়ে তাহান গল! অডাইয়া রিয়া কহিল, শুনিষাভ নেই তেই 1 কিন্ত তুমি ও৮--আার কত দেরি করিবে?

এই ছুটিতে গ্রার পমব্যসী--হয় বাঁখিন ছুই-চীরি মাসের বড় হইতে পাবে, কিন্তু শিশুকাল ইইতে এমনি করিষাই তাহারা এই উনিশও। বছন কাটাইয| দিয়াছে! খেলা করিক্াছে, বিবাদ করিয়াছে, মারপিট করিয়াছে-আব ভাঁশবাপিয়াছে

সপ্পুথের প্রকাণ্ড মুকুবে ছুটি মুখ ততক্ষণ ছুটি শর স্মিত গোলাপের যত কুটিঘা উঠিয়াছিল, বাঁখিন দেখাইয়া কহিল, দেখ

মা-শোয়ে কিছুক্ষণ নীরবে ছুটির পানে অতৃপ্ত নধনে চাহিয়া রহিল অকল্মাৎ আজ প্রথম ভাহার মনে হইল, সেও বড সুন্দৰ আবেশে ছুই চম্ষু তাহান্ু মুিয়া আদিল, কাজ কানে বলিল, আমি যেন টাদের কলঙ্ক। বা খিন আরও কাছে তাহার মুখখানি টানিয়া আনিয়া বলিল, না, তুমি চাদের কলঙ্ক নও-_কাঁরও কলঙ্ক নও-তুমি চাদের কৌমুদ্বীটি একবাব ভাল করিয়া চাহিয়া দেখ

ছবি

কিন্ত নুয়ন মেলিতে মা-শোয়ের সাহস হইল ন।, সে তেম্নি দুচক্ষ মুদ্যা রভিল।

তয় এমনি করিযাই বনতক্ষণ 'কাটিত, কিন্তু একটা প্রকাণ্ড নর নারীব দল নাচিয়া গাহিযা স্ুমুখেব পথ দিয়া উত্সবে যোগ দিতে চলিয়াছিল। মা-শোরে বাস্ত হইয়া উঠিয়। দীডাইয়া কহিল, চল, সময় হইয়াছে

কিন্ত আমাঁব যাঁগম| যে একবাবে অসম্ভব মা শোষে।

ফেন?

এই ছবিখানি পাঁচ দিনে শেষ কবিরা দিব চুক্তি কবিণীছি।

না দিতো?

সে মান্দালে চলিষা ধাঁইবে, স্রৃতনা* ছবিও লইচব না, টাকাও দিব না।

টাকাঁব উল্লেখে মা-শোয়ে কণ্ট পাইত, লঙ্লাবে4 কবিত। বাগ করিয়া বলিল, কিন্তু ত। বলিয়া তোমাকে এমন প্রাণ্পাত পবিশ্রম করিতে দিতে পাবি না।

বাখিন কথাব কোন উত্তণ দিল না। পিতৃঞ্ণ স্ম।ণ কিয় ভাহার মুখের উপর যে মান ছায়া পটিল, তাহা আব একজনেৰ দুষ্টি এডাইল না।

কহিল, আমাকে বিক্রী করি ও, আমি দ্বিগুণ দাম দিব।

বাঁথিনেব তাহাতে সন্দেহ ছিল না, হাপিয়া জিজ্ঞাস করিল, কিন্ব করিবে কি?

মা-শোয়ে গলার বুমূল্য হাব দেখাইযা বলিল, ইহাতে যতগুলি মুক্ত, যতগুলি চুণি আছে, সবগুলি দিয়া ছবিটিকে বাধাইয়!, ভার পরে শোবার ঘরে আমার চোখের উপর টাডাইয়া রাখিব

ছবি

তার পরে £

ত'র পরে বেদিন বাত্রে খুব বড উাদ উঠিবে, আর খোলা জানাল।র ভিতর দ্যা তাহাব জ্যোহস্াব আলো তোমার ঘুমন্ত মুখের উপব খেলা কবিতে থাকিবে

তান পরে? ভাব পুন তোমাঁপ খুম ভাটি কথাটা শেষ হইতে পাইল ন|।. নিচে মা-শোয়ের গকব গাড়ী

অপেন। কবিতেছিল, তাভাধ গাডোয়ানেৰ উচ্চকণেন আহবান শোনা গেগ।

বা-থিন ব্যস্ত ভইযা! কহিল, তার পবেন্‌ কথা পবে শুনিব কিন্তু আর নয। (ভাঁমাব সমঘ হউধা গিযাছে-শীঘ্ব যাও

কিন্ সমঘ বঠিষ। যাইবাব কোন লক্ষণ মাশোষেৰ আচরণে দেখা গেল না। কাব সে আব ভাল কপিধা বস্যি। কহিল, আমার শরীর খাবাপ বোধ ভইতিছ, আমি যাইব ন।

যাইব না কথা দিষাছ, সকলে উদ্গ্রীব হইয়া তোমার প্রতীক্ষা কনিতেছে, ছা জানো? |

মা পোৌষে প্রবল-বেগে মাথা নাডিয়া কহিল, তা করুক চুক্তি-ভঙ্গের অত লম্জা আমাপ নাই--আমি যাইব ন।।

ছিঃ-_

তবে তুমিও চল?

পারিলে নিশ্চয় যাঁইতাম, কিন্তু তাই বলিয়া আমার জন্ তোমাকে আমি সত্য ভঙ্গ করিতে দিব না। আর দেরি করিও নাঃ যাঁও।

&. ৮** তাহার গন্ভীর মুখ শাস্ত দুঢ কণম্বর শুনিয়া মা-শোয়ে উঠিয়া দাড়াইল। অভিমানে মুখখানি মান করিয়া কহিল, তুমি নিজের স্যবিধার জন্য আমাকে দূর করিতে চাও দূর আমি হইতেছি, কিন্তু আর কখনও তোমার কাছে আসিব না।

এক মুহুর্তে বা থিনের কর্তবোব দৃঢত। স্লেহেব জলে গলিযা! গেল, লে তাহাকে কাছে টানিয়া লইযা সহান্তে কহিল, এত বড গ্রতিজ্ঞাটা কিয়! কমিও না মা-শোয়ে--আমি জানি, উভাব খেষকি ভইবে। কিছ্ব আর বিলম্ব কর] চলে না।

মাশোয়ে তেম্নি বিষ ঘুখেই উত্তপ দিল, আমি শা আপিলে খাওয়া পরা হইতে আরস্ভ করিয়া সকল বিষধে তোমার যে দশা তইণে। সে আমি সহিতে পারিব না জাঁনে। বলির।ই আমকে ভুমি তাডাইতে পাবিলে। এই বলিয়া সে প্রত্যুত্তরের অপেক্ষা না কপিধাই দ্রুতপনে ঘন ভইতে বাহিগ্ হইয়া গেল।

৩০]

প্রায় অপরাস্ু-বেলায় মা-শোষের জপা-বাধানো মণ্ব পঙ্থী গো-যান যধন মন্দরীনে আসিয়া পৌছিন, তখন সমবেত জনমণ্ডপী প্রচ কপরবে কোলাহল করিয়! উঠিল।

সে যুবতী, সে সুন্দরী, মে অবিবাহিতা, এবং বিপুল ণনেএ অধিকািণী ) মানবের যৌবন-রাঙ্গ্যে তাহার স্থান অতি উচ্চে। তাই এখানেও বন মানবের আসনটি তাহারই জন্য নির্দিষ্ট হইয়াছিল সেআভ পুষ্পমাল্য বিতরণ করিবে তাহার পর যে ভাগ্যবান এই নুষ্ণীর শিবে জমালাটি

১১ ছবি

সর্বাগে পরাইয়া দিতে পারিবে, তাহার অদটই আজ যেন জগতে হিংসা করিবার একমাত্র বন্ত |

সঙ্জিত অশ্বপৃষ্ঠে বক্তবর্ণ পোষাক সওয়ারগণ উত্সাহ চাঞ্চল্যের আবেগ কষ্টে যত করিয়াছিল দেখিলে মনে হয, আজ সংসানে তাহা- দের অসাধ্য কিছু নাই |

ক্রমশঃ সমর আলম হইয়া আদিল এবং ঘে কয়জন অদৃষ্ট পরীক্ষা করিতে আজ উচ্চ, তাভার। মারি দিঘ! ধঁডাইল এবং ক্ণেক পরেই ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গে মরি-বীচি-জ্ঞানশুন্য হইয়া এই করজন ঘোড়া ছুটাইয়া দিল।

ইহা বীরত্ব, ইভা যুদ্ধের অংশ মাশোয়ের পিতৃপিতাযহগণ সকলেই যুদ্বব্যবসায়ী, ইহার উন্মত্ত বেগ নারী হইলেও তাহার ধমনীতে বহমান ছিল। যে জয়ী হইবে, তাহার স্মস্ত হৃদয় দিয়] সংবর্ধনা না করিবার সাধ্য 'ভাহার ছিল না।

তাই যখন ভিন্ন-গ্রামবানী এক অপরিচিত বুক আরস্তদেহে, কম্পিত- মুখে, ব্লেঁদ-সিক্ত হস্তে ভাতার শিরে জয়মালা পরাইয়া দিল, তখন তাহার আগ্রহের আতিশয্য অনেক সম্বান্ত রমণীর চক্ষেই কটু বলিয়া ঠেকিল।

ফিরিবাঁব পথে সে তাহাকে আপনাব পার্শে গাড়ীতে স্থ'ন দিল এবং

ল-বে কহিল, আপনার জন্য আমি বড় ভধ পাইয়াছিলাম। একবাব

এমনও মনে হইয়াছিল, অত বড় বড় উচু গ্রা৯র কোনরূপে ধদি কোথাও পা ঠেকিয়। যায়!

যুবক বিনয়ে ঘাড় হেট করিল, কিন্ত এই অনমসাহমী বলি বীরের সহিত মা-শোয়ে মনে মনে তাহার সেই ছুর্ববল, কোমল সর্বববিষয়ে অপটু চিব্রকবের সহিত তুলনা ন1 করিয়! পারিল না।

ছবি ১২

এই যুবকটির নাম পো-খিন। কথাগ্ন কথায় পিচ হইলে জানা গেল, ইনিও উচ্চবংশীয়, ইনিও ধনী এবং তাহীদেরই দুর আত্মীয়।

মাশে।যে আজ অনেককেই তাহার প্রাসাদে সান্ধ্য-ভোজে নিমন্ত্রণ করিয়াছিল, তাতাবা এবং আরও বনহুন়ৌক ভিড ক্যা গাঁভীব সঙ্গে সঙ্গে আদিতেছিল। আনন্দের আগ্রজে, তাহাদেব তীগুব-ঘৃত্যো খিত ধুলার মেঘে সঙ্গীতের অসহ্থ নিনীদে স্ধ্যার আকাশ তখন একেবারে আচ্ছন্ অভিভূত হইয। পড়িতেহিল।

ভয়ঙ্কর জনত! যখন তাভাব বাটীন স্ুমুখ দির। অগ্রসব হইয়] গেল,

তখন শ্গণকালের নিগিত ৭! থিন তাহার কাজ হেলিঘা জানালায় আনিয়। নীরবে চাহিয়। রহিল।

নাঙ্ধ্-ভোজেব প্রসঙ্পে পরদিন মশোনে বাখিনকে কহিশ। কী সম্ধ্যাটা আনন্দে কাটিন। অনেকেই "য়া কবিধা আপিষাহিলেন। শু৫ তোমাব সময় ছিল না বলিঘ। তোমাকে ডাকি নাই।

দেই ছবিটা সে প্রাণপণে শেষ করিতেছিল, মুখ না হুলিযাই বলিল ভালই করিয়াছিলে। এই ধপিধা সে কাজ কৰিতে লীগিল।

বিস্ময়ে ম।শোধে অস্ভিত হইয়া! বসিয়া রহিল। কথার ভাবে তাভাব পেট ফুলিতেছিল, কাল বাঁ-খিন কাজেব চাঁপে উত্নবে যোগ দিতে পাবে নাই, তাই আজ অনেকক্ষণ ধরিয়া অনেক গল্প কবিবে মনে কবিয়াই পে অণপিয়াছিল, কিন্তু সমস্তই উন্ট1 রকমের হইয়া! গেল। কেবল একা এক। প্রলাপ চলিতে পারে, কিন্ত আলাপের কাজ চলে না, তাই সে শুধু স্তব্ধ হইয়া বগিয়া রাঁইিল, কিছুতেই অপর পক্ষের প্রবল শান্ত গভীর লীব-

১৩ ছবি

বতার রুদ্ধ দ্বার ঠেলিয়! ভিতরে প্রবেশ কবিতে আজ ভরস1! করিল না প্রতিদিন যে সকল ছোটখাট! কাজগুলি সে কবিয়া/যায়, আজ সেগুলিও পড়িয়া! রহিল--কিছুতেই হাত দিতে তাহার প্রবৃত্তি হইল না। এইভাবে অনেকক্ষণ কাটিয়া গেল- একবার বাখিন মুখ তুলিল না, একবার একটা প্রশ্ন করিল না। কালকের অতবড ব্যাঁপাপেব প্রতিও তাহার যেমন লেশ- মাত্র কৌতুহল নাই, কাজের ফাকে হাফ ফেলিবারও তাহার তেমন অবসর নাঁই।

বহুক্ষণ পবস্ত নিংশবে কুষ্ঠিত লজ্জিত হইয়া থাকিয়া অবশেষে সে উঠিয়া ঈীড়াইয়া মুদছু-কঠে কহিল, আজ আঁমি আসি।

বা-খিন ছবির উপর চোঁথ রাখিযাই বলিল, এসো

যাইবার সমঘ মাশোষেব মনে হইল, যেন সে এই লোকটির অস্তবের কথাট? বুঝিয়াছে লিজ্ঞামা কবে, একবার সে ইচ্ছাও হইল বটে কিন্ত নুগ খুলিতে পারিল না, নীরবেই বাহির হইয়া গেল।

বাটীতে পা দিয়াই দেখিল, পো-থিন বসিয়া আছে গত বাত্রির আনন্দ-উতৎসবেন জন্য ধন্যবাদ দিতে আপিযাছিল। অতিথিকে মা-শোয়ে যত্ব করিব বসাইল।

লোকটা প্রথমে মাশোষের এশ্বয্যের কথা তুলিল, পরে তাহার ব্শেব কথ, তাহার পিতার খ্যাতির কথা, তাহীব্‌ রাজদ্বারে সম্তমের কথা এমনি কত কি সে অনর্গল বকিষা যাইতে লাগিল

সকল কতক বাঁ সে শুনিল, কতক বা তাহার অন্যমনস্ক কানে পৌছিল না। কিন্তু লোকটা শুধু বলিষ্ঠ এবং অতি সাহসী ঘোড়- সওয়ারই নয়, পে অত্যন্ত ধূর্ত। মা-শোযের এই ওদাসীন্য তাহার অগোচর বৃহিল নাঁ। সে মান্দালের বাঁজ-পরিবারের প্রসঙ্গ তুলিয়া

ছবি ১%

অবশেষে যখন লৌন্দধ্যের আলোচনা স্থুরু করিল এবং কৃত্রিম সারল্যে পরিপূর্ণ হইয়া এই রমণীকে লক্ষ্য এবং উপলক্ষ করিগা বারম্বার তাহার রূপ যৌবনের ইঞ্জিত করিতে লাগিল, তখন তাহার মনে মনে অতিশত়্ লঙ্জা করিতে লাগিল বনে, কিন্তু একটা অপরূপ আনন্দ গৌরব অস্থতূর না করিয়াও থাকিতে পারিন না।

আলাপ শেষ হইলে পোঁখিন যখন বিদাক্স গ্রহণ করিল, তখন আজিকার রাত্রির জন্তও দে আহারের নিমন্ত্রণ লইয়। গেল।

কিন্তু চলিয়া গেলে তাহার কথাগুল। মনে মনে আবৃত্তি করিয়া মা শোয়ের স্মস্ত মন ছোট এবং গ্লানিতে ভরিয়া উঠিল এবং নিমন্ত্রণ করিয়া কলার জন্য বিরক্তি বিতৃষশার অবধি রহিল নাঁ। সে তাড়ীতাডি আরও জন-কয়েক বন্ধু-বান্ধবকে নিমণ্বণ করিয়া চাকর ধিয়। চিঠি পাঠাইয়া দিল। অতিথিরা বথাসময়েই হাসির হইলেন এবং আজও অনেক হাপি- তামানা, অনেক গল্প, অনেক নৃত্য-গীতের সঙ্গে যখন খাওয়াদাওয়া শেষ হুইল, তখন বাত্রি আর বড বাকি নাই

ক্লান্ত পবিশ্রান্ত হইরা মে শুইতে গেল, কিন্তু চোখে ঘুম আসিল না। কিন্ত বিশ্ময় এই যে,যাহা লইয়া তাহার এতক্ষণ এমন কনর! কাটিল, তাহার একটা কথাও আর মনে আমিল না। সে সকপ যেন কত যুগের পুরানো অকিঞ্িখকর ব্যাপার-_-এমনি শুষ্ক, এমনি বিরন। তাহার কেবলি মনে পড়িতে লাগিল আর একট। লোককে, যে তাহারই উদ্যান প্রান্তের একটা নিজ্জন গৃহে এখন নিব্বিগ্ষে আছে--আজিকার এত বড মীতা-মাতির লেশমাত্রও ভাহার কানে যাইবার হয় এতটুকু পথও (কোথাও খুঁজিয়া পায় নাই

চিরপিনের অভ্যাস, প্রভাত হইতেই মা শোয়েকে টানিতে লাগিল। আবার শে গির1 বা-থিনের ঘরে আপিয়া বসিল।

প্রতিধিনের মত আজিও সে কেবল একটা এসো” বলিয়াই তাহার সহ্ঞ্জ অভ্যর্থনা শেষ করিসা কাজে মন দিল, কিন্তু কাছে বসিয়াও আর একজনেপ আজ কেবলি মনে হইতে লাগিল, ওই কম্মনিরত লীরব লোকটি নীরবেই যেন্‌ বহুদূরে সবিয়া গিষাছে।

অনেকক্ষণ পধ্যস্ত মানোয়ে কথা খুঁজিয়া পাইল না। তার পৰ্ধে সম্ষোচ কাট ইয়া দিজ্ঞাসা করিল, তোমার আর বাকি কত।

আনেক

বে এই ছুদিন ধরিয়া কি কৰিলে?

খা-থিন ইহার জবাখ না দিয়া চুরুটের বাক্সটা তাহার দিকে বাড়াইয়া দিয়। বলিল, এই মদের গন্গট! আমি সইতে পারি না।

বাশোয়ে এই ইর্দিত ব্ৃঝিল। জলিযা উঠিয়া হাত দিয়! বাক্সটা সজোরে ঠেলিঘ্া দিয়া বশিল, আনি সকীল-বেলা চুরুট খাই না_চুরুট দিয়া গঞ্ধ ঢাক্বার*কাজও করি নাই--আমি হোটলোকের মেয়ে নই।

ব1-থিন মথ তুলিয়া শাস্ত-কঠে কহিল, হয় তোমার কাপড়ে কোন- ক্ূপে লাগিয়াছে, মদের গন্ধট। আমি বানাইয়া বলি নাই।

মা শোয়ে খিছ্বাদ্বেগে উঠিযা দীড়াইল--তুমি ধেমন নীচ, তেম্নি হিংহৃক, ভাঁই$আম।কে বিনা দৌষে অপমান করিলে আচ্ছা, তাই ভাল, আমার জামা-কাপড তোমার ঘর হইতে আমি চিরকালের জন্ঠ সযাইয়া পইয়া যাইতেছি। এই বশিয়া সে প্রত্যুত্তরের অপেক্ষা

ছবি ১৬

করিয়াই' দ্রতবেগে ঘব ছাড়িয়া যাইতেছিল, বা-থিন পিছনে ভাকিয়া তেমনি সংষতম্বরে বলিল, আমাকে নীচ হিংঙ্ক কেহ কখনও বলে নাই, তুমি হঠাৎ অধঃপথে যাইতে উদ্যত হইযাছ বলিম্লাই সাবধান করিয়াছি।

মা-শোয়ে ফিবিয়া দীডাইয়! কহিল, অধঃপথে কি কবিয়া গেলাম ?

' তাই আমার মনে হয়।

আচ্ছা, এই মন লইয়াই থাকো, কিন্তু যাহার পিতা আশীর্বাদ রাখিয়া গিরাছেন, সম্ভানের জন্য অভিশাপ বাখিযা যান নাই, তাহার সঙ্গে তোমার মনেব মিল হইবে না

- এই বলিয়। সে চলিয়া গেল, কিন্ত বাঁথিন স্থিব হইয়া বলিঘ| বহিল কেহ যে-কোন কারণেই তাহাকে এমন মন্খান্তিক করিয়া বিবিতে পারে, এত ভালোবাসা একদ্রিনেই যে এত বড নিষ ভইয়া উঠিতে পাবে, উন সে 'ভাবিতেও পারিত ন।।

মাশোয়ে বাঁটী আপিয়াই দ্েখিল পোঁখিন বণিষা আছে সে সন্্মে উঠিযা ঈীভাইয়! অত্যন্ত মধুর কবিয়! একটু হাস্য করিল।

হাঁসি দেখিয়া! মা-শোয়ের দুই ভ্র লোপ করি অজ্ঞাতসাবেই গঞ্চিত হুইয়! উঠিল কহিল, আপনার কি বিশেষ কোন প্রযোজন আছে ?

না, প্রয়োজন এমন--

তা হইলে আমাব সময় হইবে না, বলিয়। পাশেব পিঁডি দি! মা-শোয়ে উপবে চলিয়া গেল

গত নিশার কথা ম্মরণ করিয়া লোকটা একেবাবে হতবুদি হইয়া গেল। কিন্তু বেহারাট। স্বমুখে আপিতেই কাগহাপদির সঙ্গে হাতে তাহার একট। টাক গু'জিয়। দিয়] শিষ দিতে দিতে বাভির হইয়া গেল।

খন

শিশুকাল হইতে যে ছুই জনের কখনও এক মুহূর্তের জন্য বিচ্ছেদ 'ঘটে নাই, অধৃষ্টের বিড়ম্বনায় আজ ম" ধিক কাল গত হইয়াছে, কাহারও সহিত কেহ সাক্ষাৎ করে নাই।

মাশোয়ে এই বলিয়া আপনাকে বুঝাইবার চেষ্টা করে যে, একপ্রকার ভালোই হইল যে, যে মৌহের জাল এই দীর্ঘদিন ধরিয়া তাহাকে কঠিন বন্ধনে অভিভূত করিয়া রাখিয়াছিল, তাহা ছিন্ন হইয়া গিয়াছে আর তাহার সহিত বিন্দুমাত্র সংশ্রব নাই। এই ধনীর কন্যার উদ্দাম প্রকৃতি পিতা বিদ্যমীনেও অনেক দিন এমন অনেক কাজ করিতে চাহিয়াছে, যাহা কেবল মাত্র গম্ভীর সংযতচিত্ত বা-খিনের বিরক্তির ভয়েই পাবে নাই। কিন্তু আজ সে স্বাধীন-_একেবারে নিজের মালিক নিজে কোথাও কাহারো কাছে আর লেশমীত্র জবাবদিহি করিবার নাই। এই একটিমাত্র কথা লইয়া সে মনে মনে অনেক তোলা- পাঁড়া, অনেক ভাঙা-গডা করিয়াছে, কিন্তু একটা দিনের জন্যও কখনো আপনার হৃদয়েব নিগুঢতম গৃহটির দ্বার খুলিয়া দেখে নাই, সেখানে কি আছে! দেখিলে দেখিতে পাইত, এত দিন সে আপনাকেই আপনি ঠকাইয়াছে। সেই নিভৃত গোপন কক্ষে দিবানিশি উভয়ে মুখোমুখী বসিয়া আছে--প্রেমালাপ কবিতেছে না, কলহ করিতেছে না-কেবল নিংশবে উভয়ের চক্ষু বাহিয়া অশ্রু বহিয়া যাইতেছে

নিজেদের জীবনের এই একাস্ত করুণ চিত্রটি তাহার মনশ্চক্ষের অগোচর ছিল বলিয়াই ইতিমধ্যে গৃহে তাহার অনেক উতৎ্ব-রজজনীর নিক্ষল অভিনয় হইয়। গেল---পরাজয়ের লঙ্জ। তাহাকে ধুলির সঙ্গে মিশাইয়! দিল না !

্‌

ছবি ১৮

কিন্ত আঙ্িকাঁর দিনটা ঠিক তেমন করিয়া! কাটিতে চাহিল না কেন, সেই কথাটাই বলিব।

জন্মতিথি উপলক্ষে প্রতি বৎসর তাহার গৃহে একটা আমোদ-আহলাদ খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান হইত। আজ সেই আযোজ্রনটাই কিনতু অতিরিক্ত আডম্বরের সহিত হইতেছিল। বাটীর দাস-দাসী হইতে আবস্ত কবিন্না প্রতিবেশীর! পধ্যস্ত আসিয়া যোগ দিয়াচ্ছে। কেধ্ল তাহার নিজেরই যেন কিছুতে গা নাই। সকাল হইতে আঙ্গ তাহার মনে হইতে লাগিল, সমস্ত বৃথা, সমস্ত প্ুশ্রম। কেমন করিয়া যেন এত দিন তাহার মনে হইতেছিল,গই লোৌকটাও ছুনিয়ার অপব সকলেনই মহ,সেও মানুষ সেও ঈধার অতীত নয়। তাহার গৃহের এই যে সব আনন্দ-উৎ্সবের অপর্যাপ্ত ওনব নব আয়োজন,ইহ্বার বার্তা কি তাহার রুদ্ধ বাতীষন ভেদিয়! সেই নিভৃত কক্ষে গিক্া পশে না? তাহার কাজের মধ্যে কিবাধ! দেয় না?

হয বা সে তাহার তুলিটা ফেলিয়া দিয়া কখনও স্থিব হইয়। বসে, কখনও বা অস্থির দ্রতপদে ঘরের মধ্যে খুরিয়া বেডায়, কখনও নিত্ৰীবিহীন তণ্ুশষ্যায় পড়িয়া সারারাত্রি জলিয়া পুডিয়া মব্ কথন বাঁঁকিসন্ক থাক সে সব।

কল্পনার এতদিন মাশোয্সে একপ্রকার তীক্ষ আনন্দ অনুভব করিতেছিল, কিন্ত আজ তাহার হঠাৎ মনে হইতেছিল কিছুই ন।কিছুই ন1। তাহার কোন কাজেই তাহার কোন বিদ্ব ঘটায় না। সমস্ত মিথ্যা, সমন্ত কাকি সে ধরিতেও চাহে নাঁধবা দিতেও চাহে না! কেমন দূর্বল দেহটা অকস্মাৎ কি করিয়া যেন একেপারে পাহাড়ের মত কঠিন অচল হইয়! গিয়াছে--কোঁথাকার কোন ঝঞ্ধাই আর তাহাকে একবিন্দু বিচলিত করিতে পারে না।

১৯ ছবি

কিস্ত তথাপি জন্মভিথি উৎসবের বিরাট আয়োজন আঁড়গ্ববের সঙ্গেই চলিতেছিল। পোঁথিন আজ সর্বত্র সকল কাজে এমন কি, পরিচিতদের মধ্যে একট কাণা-ঘুষা চলিতেছিল যে, এক দিন এই লোকটাই বাঁড়ীর কর্তা হইয়। উাউবে--এবৎ বোধ হয়, সে দিন বড় বেশি দুরেও নয়

গ্রামের নরনারীতে বানি পরিপূর্ণ ইয়া গিরাছে__চারিদিকেই আনন্দ কলরব। শুধু যাহার জন্য এই সব সেই মানষটিই বিমনা_ তাহারই মুখ নিরানন্দের ছায়ার আচ্ছপ্ন। কিন্তু এই ছাতা বাহিরের কাহারো প্রায় চোখে পড়ে শা-পঙ্িল কেবল বাটার ছুই-এক জন সাবেক দিনের দান-দানপীর। আর পড়িল বোধ হয় তাহার-বিনি অলক্ষ্যে থাঁকিয়াও সমব্ত দেখেন কেখল তিনিই দেখিতে লাগিলেন, ওই মেয়েটির কাছে আজ সমন্তই শুখু বিড়না। এই জন্মতিথির দিনে প্রতিবৎসন্ধ ঘষে লোকটি সকলের আগে গোপনে তাহার গলায় আশীর্বাদের মাল পরাইয়া দিত, আজ নে গোোক নাই, সে মাল নাই, সে আশীর্ধাদের আজ একান্ত অভাব।

মাশোয়ের পিতার আমগের বৃদ্ধ জাসিয়া কহিল, ছোটমা, কই তাহাকে দেখি না?

বুডা কিছুকাল পূর্বে কম্মে অবলব লইয়া চলিয়া গিয়াছিল, তাহার ঘরও অন্য গ্রামে--এই মনীশ্তরের খবর সে জানিত না আজ আসিয়া চাকপ-মহলে শুনিয়াছে। মাশোয়ে উদ্ধতভাবে বলিল, দেখিবার দরকার থাকে, তাহার বাড়ি ষাও--আমার এখানে কেন?

বেশ, তাই ষাইতেছি, বলিয়া বৃদ্ধ চপিষা গেল মনে মনে বলিয়া গেল, কেবল তাহাকে একাকী দেখিলেই চগিবে না--তোমাদের

ছবি ২৪

ছুইজনকেই আমার একসঙ্গে দেখা চাই। নইলে এতটা পথ বৃথাই হাটিয়া আদিয়াছি।

কিন্তু বুভার মনের কথাটি এই নবীনার অগোচর রহিল না। সেই অবধি এক প্রকার মচকিত অবস্থাতেই তাহার সকল কাজের মধ্যে সময় কাটিতেছিল, সহস। একটা চাপা গলাব অস্ফুট শব্দে চাহিষা দেখিল-- 'বা-খিন। তাহার সর্ধাঙ্গ দিয়া বিদ্যুৎ বহিয়া গেল, কিন্তু চক্ষের নিমেষে আপনাকে সংবরণ কবিয়া লইয়া সে মুখ ফিরাইয়া অন্তত্র চলিয়া গেল

খানিক পরে বুডা আসিয়া কহিল, ছোটমা, যাহাই হৌক, তোমার অতিথি! একট! কথাও কি কিতে নাই ?

কিন্ত তোমীকে আমি ডাকিয়া! আনিতে বলি নাই?

সেইটাই আমার অপরাধ হইয়া গিয়াছে, বলিয়া সে চলিয| যাইতেছিল, মা-শোয়ে ডাকিয়া কহিল, বেশ ত, আমি ছাড়া আবও লোক আছে, তাহারা কথা বলিতে পারেন !

বুড়া বলিল, তা পারেন, কিন্তু আর আবশ্যক নাই, তিনি চলিয়! গিয়াছেন।

মা-শোয়ে ক্ষণকাল স্তবূ হইয়া! রহিল। তার পরে কহিল, আমার কপাল। নইলে তুমিও তীহাকে খাইয়া যাইবার কথাট1 বলিতে পারিতে !

না, আমি এত নিলজ্জ নই, বলিয়। বুভ1 রাগ করিয়া চপিয়া গেল!

রগ

এই অপমানে বা-খিনের চোখে জল আসিল। কিন্তু সে কাহাকেও দোষ দিল না, কেবল আপনাকে বাবংবার বিকার দিয়া কহিল, ঠিকই হইয়াছে। আমার মত লঙ্জাহীনের ইহারই প্রয়োজন ছিল৷

কিন্ত প্রয়োজন যে এথানেই--এ&ঁ একটা রাত্রির ভিতর দিয়াই শেষ হয় নাই, ইভার চেষে অনেক-_-অনেক বেশি অপমান যে তাহার অনৃষ্টে ছিল, ইহা দিন-দুই পবে টেব পাইল, আর এমন করিয়া টের পাইল যে, সে লজ্জা সারাজীবনে কোথাষ বাখিবে, তাহীব কুল-কিনারা দেখিল না।

যে ছবিটাব কথা লইয়া এই আখাফ্িকা আরস্ত হইয়াছে, জীতকের সেই গোপার চিত্রট| এত দিনে সম্পূর্ণ হইম্াছে, একমাসের অধিক কাঁল অবিশ্রীম পরিশ্রমের ফল আজ শেষ হয়াছে। সমস্ত সকালটা! সে এই আনন্দেই মগ্ন হইয়া রহিল।

ছবি রাজদববাবে যাইবে, ধিনি দাম দিযা লইয়া যাইবেন,সংবাদ পাইয়ু] তিনি উপস্থিত হইলেন কিন্তু ছবির আবরণ উন্মুক্ত হইলে তিনি চমকিয়া গেলেন। চিত্র সম্বন্ধে তিনি আনাডী ছিলেন না, অনেকক্ষণ একটুৃষ্টে চাহিয়া থাকিযা অবশেষে ক্ষব্বন্বরে বলিলেন, ছবি আমি রাজাকে দিতে পারিব না।

বা-থিন ভয়ে বিস্ময়ে হত্রবুদ্ধি হইয়া কহিল, কেন ?

তার কারণ মুখ আমি চিনি। মানুষের চেহারা দিয়া দেবতা গড়িলে দেবতাকে অপমান করা হয় কথা ধরা পড়িলে রাজা আমার মুখ দ্েখিবেন না। এই বলিয়া সে চিত্রকরের বিস্ফাঁবিত ব্যাকুল চক্ষের

ছবি ২২

প্রতি ক্ষণকাল চাহিয়! থাকিয়া মুখ টিপিয়া হাসিয়া বলিল, একটু মন দিয়া দেখিলেই দেখিতে পাইবেন--এ কে। ছাব চলিবে না!

বা-থিনের চোখের উপর হইতে ধীরে ধীরে একটা কুয়াসাত্র ঘোর কাটিয়া যাঁইতেছিল। ভদ্রলোক চলিয়া গেলেও সে তেমনি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া দঈাড়াইয়! রহিল। তাহার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল, আর তাহার বুঝিতে বাকি নাই, এতদিন এই প্রাণাস্ত পরিশম করিয়! সে হৃদয়ের অন্তশ্তল হইতে যে শৌন্দধ্য যে মাধুধ্য বাহিরে টানিয়া আনিয়াছে, ছ্েবতার রূপে ঘষে তাহাকে অহনিশ ছলনা করিয়াছে--সে জাতকের গোপা নহে, সে তাহারই মাঁশোয়ে

চোখ মুছিয়া মনে মনে কহিল, ভগবান! আমাকে এমন করিয়া বিড়দ্বিত করিলে--তোমার আমি কি করিয়াছিলাম !

টৈ

পো-থিন সাহস পাইয়া বলিল, তোমাকে দেবতাও কামনা করেন, মা-শোয়ে, আমি মানুষ " আা-শোয়ে অন্যমনক্কের মত উত্তর দিল, কিন্ত যে করে না, সে বোধ হয় তবে দেবতারও বড়?

কিন্ত প্রসঙ্গকে সে আর অগ্রসর হইতে দ্রিল না, কহিল, শুনিয়াছি, দরবারে আপনার যথেষ্ট প্রতিপত্তি আছে-_আমার একটা কাজ করাইয়া দিতে'পারেন ? খুব শীন্ব ?

পোঁথিন উতস্থক হইয়। জিজ্ঞাসা কিল, কি?

একজনের কাছে আমি অনেক টাকা পাই, কিন্ত আদায় করিতে পারি না। কোন দলীল নাই! আপনি কিছু উপায় করিতে পারেন ?

২৩ ছবি

পারি। কিন্ত তুমি কি জানো না, এই বাজকর্্মচারীটি কে? বলিয়া লোকটা হাসিল

এই হাঁসির মপ্োই স্পষ্ট উত্তর ছিল। মা-শোয়ে ব্যগ্র হইয়া তাহার হাতটা চাপিয়া ধরিয়৷ বলিল, তবে দিন একটি উপায় করিয়া। আজই আমি একটা দিনও আর বিলম্ব করিতে চাহি না।

পোঁ-থিন খড় নাড়িয়া কহিল, বেশ, তাই

এই খণট] চিরদিন এত তুচ্ছ, এত অসম্ভব, এতই হাঁপির কথা ছিল বে, সন্বপ্ধে কেহ কখনো চিন্তা পর্য্যন্ত করে নাই কিন্তু রাজকর্মচারীর মুখের আশায় ম!শোয়ের সমস্ত দেহ এক মুহুর্তের উত্তেজনায় উত্তপ্ত হইয়া উঠিল ; নে দুই চক্ষু প্রদীপ্ত করির| সমস্ত ইতিহাস বিবৃত কিয়া কহিতে শাগিল, আমি কিছুই ছাড়িয়া দিব না-একটা! কড়ি)পধ্যন্ত না। জোক যেমন করিয়া রক্ত শুধিয়া লয়, ঠিক তেম্নি করিয়া আজই-_এখনই হয় ন।?

বিষয়ে এই লোকটাকে অধিক বল। বাহুল্য ইহা তাহার আশার অতীত! দে ভিতরের আনন্দ আগ্রহ কোনমতে সংববণ করিয়া খলিল, বাজার আইন অন্ততঃ সাত দিনের সময় চায়। সময়টুকু কোনবপে ধেধ্য ধরিষ1 থাকিতেই হইবে। তাহার পরে যেমন করিয়া খু, যত খুশী রক্ত শুধিবে, আমি আপত্তি করিব না।

সেই ভাল। কিন্ত এখন আপনি যান। এই বলিয়া সে একপ্রকার যেন ছুটিয়া পলাইল।

এই ছুর্ধবোধথ মেয়েটির প্রতি লোকটির লোভের অবধি ছিল না। তাই অনেক অবহেলা সে নিঃশব্দ পরিপাক করিত, আজিও করিল। বরঞ্চ গুহে ফিরিবার পথে আঁজ তাঁহার পুলকিত চিত পুনঃ পুনঃ এই

ছবি ' ২৪. কথাটাই আপনাকে আপনি কহিতে লাগিল, আর ভয় নাই-_ তাহার সফলতার পথ নিষপ্টক হইতে আর বোধ হয় অধিক বিলম্ব হইবে না। সে কথা সত্য কিস্ত কত শীঘ্র এবং কত বড় বিম্ময় ষে ভগবান তাহার

অনৃষ্টে লিখিয়া বাখিয়াছিলেন, আজ কল্পনা করাও তাহার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

৯০

খণের দাবীর চিঠি আসিল। কাগজখানা হাতে করিযা বা-থিন্‌ অনেকক্ষণ চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। ঠিক এই জিনিলটি সে আশ! করে নাই বটে, কিন্ত আশ্চর্যও হইল নাঁ। সময় অল্প, শীগ্র কিছু একটা করা চাই

এক দিন নাকি মা-শোঁয়ে রাগেব উপর ভাহার পিতার অপব্যয়ের প্রতি বিদ্রপ করিয়াছিল, তাহার অপরাধ সে বিশ্বৃতও হয় নাই, ক্ষমাও করে নাই। তাই দে সময়ভিক্ষার নাম করিয়া আর তাহাকে অপমান করিবার কল্পনাও করিল না। শুধু চিন্তা এই যে, তাহা যাহা কিছু অনুছে, সব দিয়াও পিতাকে খণমুক্ত করা যাইবে কি না। গ্রামের মধ্যেই এক জন ধনী মহাজন ছিল। পরদিন সকালেই সে তাহার কাছে গিয়া গোপনে সর্ধবন্ম বিক্রী করিবার প্রস্তাব করিল। দেখা গেল, যাহা তিনি দিতে চাহেন, তাহাই ষথেষ্ট। টাকাটা সে সংগ্রহ করিয়া ঘরে আনিল, কিন্তু একজনের অকারণ হৃদয়হীনতা যে তাহার সমস্ত দেহ-মনের উপর অজ্ঞাতসারে কত বড আঘাত দিয়াছিল, ইহা সে জানিল তথন, যখন জরে পড়িল

২৫ ছবি

কোথা দিয়! যে দিন-রাত্রি কাটিল, তাহার খেয়াল বহিল না। জ্ঞান হইলে উঠিয়া বসিয়া দেখিল, সেই দিনই তাহার মেয়াদের শেষ দিন

আজ শেষ দ্দিন। আপনার নিভৃত কক্ষে বপিয়া মা-শোয়ে কল্পনার জাল বুনিতেছিল। তাহার নিজের অহঙ্কার অনুক্ষণ ঘা খাইয়া খাইয়া আব একজনের অহঙ্কারকে একেবারে অভ্রভেদ্দী উচ্চ করিয়া দড করাইয়াছিল। সেই বিবাটু অহঙ্কার আজ তাহার পদমূলে পভিয়া যে মাঁটিব সঙ্গে মিশাইবে, ইহাতে তাহাব লেশমাত্র সংশয় ছিল না

এমন মমযে ভৃত্য আসিষা! জানাইল, নিচে বা-থিন অপেক্ষা! করিতেছে। মাশোষে মনে মনে ক্রওর হাসি হাসিয়া বলিল, জানি। মে নিজেও ইহারই প্রতীক্ষা করিতেছিল।

মা-শোৌয়ে নিচে আনিতেই বা-থিন উঠিয়া ফ্রাঁড়াইল। কিন্তু তাহার মুখের দিকে চীহিয়। মা-শোয়ের বুকে শেল বিধিল। টাকা সে চাহে না, টাকাব প্রতি লোভ তাতাবধ কাণাকঙির নাই, কিন্ত মেই টাকার নাম, দিয়া কত ভঘস্কর অত্যাচার ষে অনুষ্ঠিত হইতে পারে, ইহা সে আজ এই দেখিল। বা-থিন প্রথমে কথা কহিল, বলিল, আজ সাত দিনের শেষ দিন, তোমার টাকা আনিযাছি।

হায় রে, মানুষ মরিতে বসিয়াও দর্গ ছাঁড়িতে চাষ না নইলে, প্রতযুত্তবরে এমন কথা মা-শোয়ের মুখ দিযাঁ কেমন করিয়া বাহির হইতে পারিল যে, সে সামান্ত কিছু টাকা প্রার্থনা করে নাই-খণের সমক্ত টাকা পরিশোধ করিতে বলিয়াছে।

বা-খিনের পীড়িত, শুধ-মুখ হাসিতে ভবিষা গেল, বলিল, তাই বটে, তোমার সমস্ত টাকাই আনিয়াছি।

সমন্ত টাকা? পাইলে কোথায়?

9

ছবি ২৬

কালই জানিতে পারিবে ওই বাক্সটায় টাকা আছে, কাহাকেও গণিয়া লইতে বল।

. গাড়োয়ান দ্বারপ্রান্ত হইতে তাহাকে লক্ষ্য 'করিস্বা জিজ্ঞাস! করিল, আর কত বিলম্ব হইবে ? বেলা থাকিতে বাহির হইতে না পারিলে যে পেতে রাত্রের মত আশ্রয় মিলিবে না!

মা-শোয়ে গলা ঝাড়াইয়া দেখিল, পথের উপর বাক্স বিছানা প্রভৃতি বোঝাই দেওয়া গো-যান দ্লাড়াইয়া। ভত়ে চক্ষের নিমেষে তাহার সমস্ত মুখ খিবর্ণ হইয়! উঠিল, ব্যাকুস হইয়া একেবারে সহমত প্রশ্ন করিতে লাগিল, পেগুতে কে যাইবে? গাড়ী কাহার? কোথায় এত টাকা পাইলে? চপ করিয়া আছ কেন? তোমার চোখ অত শুকৃনো কিসের জন্য? কাল কিজানিব? আজ বলিতে তোমার-_

বলিতে বলিতেই সে আত্মবিস্বত হইয়! কাছে আগিয়া তাহার হাড ধরিল--এবং নিমেষে হাত ছাড়িয়া দিয়। তাহার লপাট স্পর্শ করিয়। চমকিয়া উঠিল--উঃ--এ যে অর, তাই বলি, মুখ অত ফ্যাকাসে কেন?

বা-খিন আপনাকে মুক্ত করিয়া লইঘা শান্ত মৃদু কঠে কহিল, ব'স। বলিয়া সে নিজেই বসিয়! পড়িয়া কহিল, আমি মান্দালে যাত্র। করিয়াছি আজ তুমি আমার এঁকটা শেষ অনুরোধ শুনিৎব?

মাশোর়ে ঘাড় শাড়িয়া জানাইল, সে শুনিবে। বাখিন একটু স্থির থাকিয়া কহিল, আমার শে অবোধ, সৎ দেখিয়া কাহাকেও শী বিবাহ করিও এমন অবিবাহিত অবস্থায় আর বেশি দ্রিন থাকিও না। আর একট কথা-_

এই বলিয়া সে আবার কিছুক্ষণ মৌন থাকিয়া এবার আরও মৃছুকণ্ে বলিতে লাগিল, আর একটা জিনিষ তোমাকে চিন্ুকাল মনে রাখিতে

২৭. ছবি

বলি। এই কথাটা কখনও ভূলিবে না যে, লজ্জার মত অভিমানও স্বীলোকের ভূষণ বটে, কিন্তু বাঁডাবাড়ি করিলে-_

মা-শোয়ে অধীর হইয়া মাঝখানেই বলিয়া উঠিল, ও-সব আর একদিন শুনিব। টাকা পাইলে কোথায়?

বা-থিন হাপিল। কহিল, কথা তেন জিজ্ঞাসা কর? আমার কি নাতুমি জানো? *. টাকা পাইলে কোথায়?

বাঁখিন ঢোক গিলিয়া ইতস্ততঃ করিয়া অবশেষে কহিল, বাবার ্+ণ তাঁর সম্পত্তি দিয়াই শোধ হইয়ীছে--নইলে আমার নিজের আর আছে কি?

তোমার ফুলের বাগান?

সে-ও বাঁবার।

তোমার অত বই?

বই লইয়। আর করিব কি? তা ছাড়া নে-ও তারই।

মাশোয়ে একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ষাকু ভালই হইয়াছে এখন উপরে গিয্াা শুইয়া পড়িবে চল্‌।

কিন্ত আজ যে আমাকে যাইতেই হইবে।

এই জ্বর লইয়া? একি তুমি সত্যই বিশ্বাস কর, তোমাকে আমি এই অবস্থায় ছাড়িয়! দিব ? এই বলিয়া সে কাছে অগপিয়া আবার তাহার হাত ধরিল। এবার বা-থিন বিস্ময়ে চাহিয়া দেপিল, মা-শোয়ের মুখের চেহারা এক মুহূর্তেই একেবারে পরিবন্তিত হইয়া গিয়াছে সে যুখে বিষাদ, বিদ্বেষ, নিরাশা, লজ্জা, অভিমান কিছুরই চিহ্ৃমাত্র নাই। আছে শ্রধু বিরাট ন্েহ তেমনি বিপুল শঙ্জী। এই মুপ তাহাকে একেবারে

হবি

মন্্মুগ্ধ করিয়া দিল, সে নিঃশবে ধীরে ধীবে তাহার পিছনে পিছনে উপরে শয়ন কক্ষে আসিয়া উপস্থিত হইল।

তাহাকে শধ্যায় শোয়াইয়। দিয়া মা-শোয়ে কাছে বমিল, ছুটি সজল দৃপ্ত চক্ষু তাহার পাওুর মুখের উপর নিবদ্ধ করিয়৷ কহিল, তৃমি মনে, কর, কতকগুলো টাকা আনিয়াছ বলিয়াই আমার খণ শোধ হইয়া গে গেল? মান্দালের কথা ছাড়িয়া দাও, আমার হুকুঃ হুকুম ছাডা এই ঘরের বাহিবে গেলেও আমি ছাদ হইতে নিচে লাফাইয়! পড়িয়া আত্মহত্যা করিব আমাকে অনেক ছুঃখ দিয়াছ, কিন্ত আর ছুংখ কিছুতে সহিব না, তোমাকে আমি নিশ্চয়ই বলিয়া দিলাম

বা-ঘিন আর জবাব দিল ন1। গায়ের কাঁপড়ট! টনিক! লইয়া একটা

দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া পাঁশ ফিরিয়া শুইল।

বিলাসী%*

পাকা ছুই ক্রোশ পথ হাটিয়া স্কুলে বিদ্যা অজ্জন করিতে যাই আমি একাঁ নই--দশ-বারো জন যাহাদেরই বাটা পল্লীগ্রামে, তাহাদেরই ছেলেদের শতকরা আশি জনকে এমনি করিয়া বিদ্ভালাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পডিলেও, যাহা পড়ে, তাহাতে হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিম্তা দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে, যে ছেলেদের সকাল আটটার মধ্যে বাহির হইয়। যাতায়াতে চার ক্রোশ পথ ভাঁডিতে হয়-_চার ক্রোশ মানে আট মাইল নয়, ঢের বেশি--বর্ধার দিনে মাথার উপর মেঘেব জল পায়ের নিচে এক হাটু কাদ। এবং গ্রীষম্মেব দিনে জলের বদলে কড়। কুত্য এবং কাদার বদলে ধূলার সাগর সাতার দিয়া স্কুল ঘর করিতে হয়, সেই ছুর্ভাগা বালকদের মা- সরস্বতী খুনী হইয়া! বর দ্রিবেন কি, তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া! কোথায় ঘষে তিনি মুখ লুকাইবেন, ভাবিয়া! পান ন1।

তাব পরে এই কৃতবিদ্য শিশুর দল বড় হইয়া একদ্রিন গ্রামেই বস্থন, আর ক্ষুধার জালায় অন্তত্রই যান_- তাদের চার ক্রোশ-স্রাটা! বিদ্যার তেজ আত্মপ্রকাশ করিবেই করিবে কেহ কেহ বলেন শুনিয়ীছি, আচ্ছা যাঁদের ক্ষুধ।র জ্বালা, তাদের কথা ন1 হয় নাই ধরিলাম, কিন্তু ধাদের সে

শশাপপিকটীপাচাশাশৰ

* জনৈক পল্লীবালকের ডায়েরী হইতে নকল। তার আসল নানটা কাহারও জীানিবার প্রয়োজন নাই, নিষেধও আছে ডাীকনামটা ন| হয় ধরুন স্ভাড়া

স্পস্ট পাপ পিপিপি পাপ | পপিসপীসী পিপিপি শিপন পাপী পাপা পাপা পিস্পাতপিসী শিপ? দিপা শাশিশিশিস্পি পিপি? শী্পীশীপশীিীীশীসীতি লিপি | পলাশী পাশপাশি সাপ টস সস

ছবি

জাল! নাই, তেমন সব ভদ্রলোকেই বা কি স্তুখে শ্রা় ছাড়িয়া পলায়ন করেন? ভীরা বাস করিতে থাকিলে পল্লীর এত দুর্দশা হয় না!

ম্যালেরিম়্ার কথাটা না হয় নাই পাড়িলাম। সে থাক্‌, কিন্ত চার ক্রোশ-হাটার জালার কত ভদ্রলোকেই যে ছেলে-পুলে লইয়া গ্রাম ছায়া নহরে পালান, তাহার আর সংখ্যা নাই ভাগ পরে একদিন ছেলে- পুলের পড়াও শেষ হয় বটে, তখন কিন্ত সহরের সৃখ-সৃবিধা কুচি লইয়া আর তাদের গ্রামে ফিরিষা আসা চলে না।

কিন্ত থাক্‌ সকল বাজে কথা। ইন্কুলে যাই--ছুক্রোশের মধ্যে এমন আরও ছু-তিনথান। গ্রাম পার হইতে হয়। কার বাগানে আম পাঁকিতে সুরু করিয়ছে, কোন্‌ নে বইচি ফল অপধ্যাঞ্ধ ফলিয়াছে, কার গাছে কাটাল এই পাঁকিল বলিয়। কাপ মর্তমীন বম! কারি কাটিয়া! লইবার অপেক্ষা মাত্র, কার কানাচে ঝোপের মধ্যে আনারনের গাকে রও ধরিয়াছে, কার পুকুর-পাড়ের থেজুর-মেতি কাটিয়। খাইলে ধবা পড়িবার সম্ভাবন! অল্প, এই সব খবর লইতেই সমম্ন যায়, কিন্তু আসল যা বিদ্যাঁ_ কামক্কট্কার রাজধানীর নাম কি, এবং সাইবিরিয়ার খনির মধ্যে বপা মেলে না সোনা মেলে--এ সকল দরকারী তথ্য অবগত হইবার ফুপমৎই মেলে না।

কাজেই একৃজামিনের সমর এভেন কি জিজ্ঞাসা করিলে বলি পারসিয়ার বন্দর, আর হুমাযুনের বাপের নাম জানিতে চাহিলে লিখিয়া দিয়া আপি তোগ লক খাঁ এবং আজ চন্নিশের কোঠা পার হইয়াও দেখি, ও-সকল বিষয়ের ধারণ! প্রায় এক রকমই আছে-_তার পরে প্রোমোশনের দিন মুখ ভার করিয়! বাড়ি কিবরিয়া আপিয়৷ কখনো বা দল বাঁধিয়া মতলব কৰি

৩১ বিলাসী

মাষ্টারকে ঠ্যাডানো উচিত, কখনো বা ঠিক করি, অমন বিষ স্কুল ছাভিয় দেওযাাই কর্তব্য |

আমাদের গ্রামে একটি ছেন্বে সঙ্গে মাঝে মাঝে স্কুলের পথে দেগা হইত। তান নাম ছিল মৃতুগ্জর। আম দের চেয়ে সে অনেক বড। থার্ড ক্লাশে পড়িত কবে যে সে প্রথম থার্ড ক্লাশে উঠিয়াঞিল, খবর আমরা কেহই জানিতাম না-সস্ভবতঃ তাহা প্রত্রতান্বিকের গব্ষেণার বিষয়-- আমরা কিন্তু তাহার' থার্ড কাসটাই চিরপিন দেখিয়া আসিয়াছি। তাহার ফোর্থ ক্লাসে পডাব ইতিহাসও বনে! শুনি নাই, সেকেও্ড ক্লাসে উঠিবার খবরও কখনো পাই নাই মৃত্যুপযে শর বাপ মা ভাই-বোন কেহই ছিল ন।, ছিল শুধু গ্রাযেন এক প্রান্তে একটা প্রকাণ্ড আম-কাটালের বাগান আব ভাব মধ্যে একটা প্রকাণ্ড পোড়ো বাডি, আর ছিল এক জ্ঞাতি খুডা। খুডাব কাজ হিন ভাই পার নানাবিধ ছূর্নাম রটনা করা -সে গাজ! খায়, নে গুলি খাষ, এমনি আরও কত কি) তাৰ আর একটা কাজ হিল বলিষা ব্ডে(নো, বাগ'নেৰ অর্ধেকটা তার শিজের অংশ, নালিশ করিযা দখল করার ৪পেক্ষা মাব। অবশ্য দখল এক দিন তিনি পাইয়াছিলেন বটে, কিন্তু সে জ্েলা-আদালতে নালিশ করিয়া নয়” উপরের আখালতের হুধুঘে। কিন্তু সে কথা পরে হইবে।

মুন্যগ্য়্ নিজে রান্না করিয়া খাইত এবং আমের দিনে আম- বাগানট। জম! পিখাই তাহা সারা বসন্দের খাওয়া-পরা চলিত, এবং ভাল করিঘাই চদিত যে দিন দেখ। হইয়াছে, সেই দিনই দেখিয়াছি ছেঁডা-খোডা মলিন বইগ্ুলি বগলে করিশা পথের ধার দিয়া রবে চলিরাছে। তাহাকে কখনো কাহারও সহিত যাচিয়া আলাপ করিতে দেখি নাই--ব্রঞ্চ উপযাচক হইয়া কথা কহিতাম আমরাই তাহার

"ছবি ৩২

প্রধান কারণ ছিল এই যে, দোৌকানেব খাবার কিনিয়! খাওয়াইতে গ্রামের মধ্যে তাহার জোডা ছিল না। আর শুধু ছেলেরাই নয়। কত ছেলের বাপ কতবার যে গোপনে ছেলেকে দিয়! তাহাব কাছে স্কুলের মাহিনা হাঁরাইয়া গেছে, বই চুরি গেছে, ইত্যাদি বলিয়া টাকা আদায় কবিয়া লইত, তাহা বলিতে পারি ন।। কিন্তু খণ স্বীকার করা দুবেৰ কথা, ছেলে তাহার সহিত একটা কথ কহিয়াছে কথাও কোন বাপ ভদ্র- সমাজে কবুল করিতে চাহিত না গ্রামের মে) মৃত্যুঞ্ষের ছিল এমনি স্থনাম।

অনেক দিন মৃত্যুঞ্ষের দেখা নাই এক দিন শোনা গেল সে মর মর। আর একদিন শোনা গেল, মাঁলপাঁডাব এক বুড়া মাল তাহার চিকিৎসা! করিয়া এবং তাহার মেয়ে বিলামী সেবা কবিয়। মৃত্বাপ্তয়কে যমের মুখ হইতে যাত্রা ফিরাইয়া আনিয়াছে।

অনেক দিন তাহার অনেক খিষ্টান্নেব পদ্বার করিয়াছি-_মনটা কেমন করিতে লাগিল, এক দিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকাইয়া তাহাকে দেখিতে গেলাম। তাহার পোডো-বাডীতে প্রাচীবেব বালাই নাই। স্বচ্ছন্দ ভিতরে ঢুকিয়া দেখি, ঘরের দরঙ্গা খোলা, বেশ উজ্জল একটি প্রদীপ জলিতেছে, আর ঠিক সুমুখেই তক্তাপোষের উপব পরিষ্ষীৰ ধপ ধপে বিছানায় মৃত্যুপ্য় শুইয়া আছে, তাহার কঙ্কালসার দেহের প্রতি চাহিলেই বুঝা বাঁয় বাস্তবিকই যমরাঁজ চেষ্টার ক্রটি কিছু করেন নাই, তবে যে শেষ পর্য্যন্ত সুবিধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই, সে কেবল ওই মেয়েটির জোরে। সে শিয়রে বসিয়া পাখার বাতান করিতেছিল, অকন্দাৎ মানুষ দেখিয়া চমকিয়া' উঠিয়া দীডাইল। এই সেই বুড়া সাপুড়েব মেয়ে ব্লাসী। তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পালন

৩৬৩ বিলাসী

না কিন্ত মুখের প্রতি চাহিবাষাত্রই টের পাইলাম, বয়স যাই হোক্‌, খাটিয়া খাটিয়া আর বাত জাগিয়! জাগিয়া ইহার শরীরে আর কিছু নাই। ঠিক যেন ফুলদীনীতে জল দিয়া ভিজাইয়া-রাখা বাসি ফুলের মত ! হাত দির এভটর সদন করিলে, এত নাড়াচাড়া কৰিতে পেলেই ঝরিয়া পড়িবে! 777

মৃত্যুপ্তয় আমাকে চিনিতে পারিয়া বলিল, কে, স্যাড়া ?

বলিলাম, হু

মৃত্যুঞ্জয় কহিল, বসে

মেয়েটা ঘাঁড় হেট করিয়া দীড়াইয়া রহিল। মৃত্যুপ্যয় ছুই-চারিট? কথায় যাহা কহিল, তাহার মন্্ন এই যে, প্রায় দেড়মাস হইতে চলিল সে শয্যাগত। মধ্যে দশ-পনেরো দিন সে অজ্ঞান অচৈতন্ত অবস্থায় পড়িয়া ছিল, এই কয়েক দ্রিন হইল সে লোক চিনিতে পারিতেছে এবং যদিচ এখনেো। মে বিছানা ছাভিয়া উঠিতে পারে না, কিন্ত আর ভয় নাই।

ভয় নাই থাকুক। কিন্তু ছেলেমানুষ হইলেও এটা বুঝিলাম, আজও যাহার শয্যা ত্যাগ করিয়া উঠিবার ক্ষমতা হয় নাই, সেই রোগীকে, এই বনের মধ্যে একাকী যে মেয়েটা বাচাইয়া তুলিবার ভার লইয়াছিল, নে কত বড গুরুভার ! দিনের পর দিন, রাত্রির পর বাত্রি তাহার কত সেবা, কত শুশ্রযা, কত ধের্ধয, কত রাত-জাগা! সে কত বড় সাহসে কাজ! কিন্তু যে বস্তটি এই অসাধ্য সাধন করিষ্বা তুলিয়াছিল, ভাহার পরিচয় যদিচ সে দিন পাই নাই, কিন্ত আর এক দিন পাইয়াছিলাম।

ফিপ্সিবাঁর সময় মেয়োট আর একট প্রদীপ লইয়া আমার আগে স্মাগে ভাঙা প্রাচীরের শেষ পর্য্যন্ত আসিল। এতক্ষণ পর্যযস্ত মে একটি

১৬.

ছবি ৩৪

কথাও কহে নাই, এইবার আস্তে আস্তে বলিল, রাস্তা পর্যযস্ত ভোমাস্গ, রেখে আসব কি? |

বড় বড় আমগাছে সমস্ত বাগানটা যেন একটা জমাট অন্ধকারের মত বোধ হইতেছিল, পথ দেখা দুরের কথা, নিজের হাঁতট৷ পর্যত্ত দেখা যায় না। বলিলাম, পৌছে দিতে হবে না, শুধু আলোটা দাও

সে প্রদীপট! আমার হাতে দিতেই তাহার উৎকন্তিত মুখের চেহারাটা আমার চোথে পড়িল। আস্তে আস্তে সে বলিল, একলা যেতে ভয় করবে নাত? একটু এগিয়ে দিয়ে আস্ব?

মেয়েমীছ্ষ জিজ্ঞাস! করে, ভয় করবে না ত! সুতরাং মনে যাই থাক, প্রত্যুত্বরে শুধু একট! না বলিয়াই অগ্রসর হইয়া! গেলাম

সে পুনরায় কহিল, ঘন-জঙ্গলের পথ, একটু দেখে দেখে পা ফেলে যেয়ো

সর্ববাঙ্গে কাট। দয! উঠিল, কিন্ত এতক্ষণে বুঝিলাম উদ্বেগট! তাহার কিসের জন্ত এবং কেন সে আলে দেখাইয়। এই বনের পথট। পার করিয়! দিতে চাহিতেছিল! হয় সে নিষেধ শুনিত না, সঙ্গেই ধাইত, কিন্ত পীড়িত মৃত্যুঞ্জয়কে একাকী ফেলিয়া যাইতেই বোধ করি তাহার শেষ পর্যন্ত মন সরিল না

কুড়ি-পঁচিশ বিঘার বাগান। স্থৃতরাং পথটা! কম নয়। এই দারুণ অন্ধকারের মধ্যে প্রত্যেক পৰক্ষেপই বোধ করি ভয়ে ভয়ে করিতে হই, কিন্ত পরক্ষণেই মেয়েটির কথাতেই সমস্ত মন এমনি আচ্ছন্ন হইয়া রহিল যে, ভয় পাইবার আর সময় পাইলাম না। কেবল মনে হইতে লাগিল, 'একটা মৃত-কল্প রোগী লইয়া! থাকা কত কঠিন! মৃত্যুগয় যে কোন,

গু৫ বিলাসী

মুহূর্তেই মরিতে পারিত, তখন সমস্ত রাত্রি এই বনেরমধ্যে মেয়েটি একাকী কিকরিত! কেমন করিয়া তাহার সে রাতটা কাটিত !

এই প্রসঙ্গের অনেক দিন পরের একটা কথা আমার মনে পড়ে এক আত্মীক্বের মৃত্যুকালে আমি উপস্থিত ছিলাম। অন্ধকার রাত্রি-_বাটাতে ছেলে-পুলে চাকর-বাকর নাই, ঘরের মধ্যে শুধু তীর সগ্-বিধবা-ন্ত্রী, আর আমি। তার স্ত্রী শোকের আবেগে দাপা দাপি করিয়া এমন কাণ্ড করিয়া] তুলিলেন যে, ভয় হইল তাহারও গ্রাণট! বুঝি বাহির হইয়! যায় বা? কাদিয়া কাদিয়া বার বার আমাকে প্রশ্ন করিতে লাগিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি? তার যে আর তিলার্দ ধাঁচিতে সাধ নাই, কি তাহারা বুঝিবে না? তাহাদের ঘরে কি স্ত্রী নাই? তাহারা কি পাষাণ? আর এই বাত্রেই গ্রামের পাঁচজনে যদি নদীর তীরের কোঁন একট। জঙ্গলের মধ্যে তীর সহমরণের যোগাড় করিয়। দের পুলিশের লোক জানিবে কি করিয়া? এমনি কত কি! কিন্তু আমার আর বসিয়া ব্সিয়। তার কাম্সা শুনিলেই চলে না! পাড়ায় খবর দেওয়া চাই-_-অনেক জিনিস যোগাড় করা চাই। কিন্তু আমার বাহিরে যাইবার প্রস্তাব শুনিয়াই তিনি প্রকুতিস্থ হইয়া উঠ্ভিলেন। চোখ মুছিয়্া বলিলেন, ভাই, যা হবার সে হয়েছে, আর বাইরে গিয়ে কি হবে? বাতট] কাটুক ন1।

বলিলাম, অনেক কাজ, না গেলেই যে নয়।

তিনি বলিলেন, হোক্‌ কাজ, তুমি বসো

বলিলাম, বসলে চলবে না, একবার খবর দিতেই হবে, বলিয়া প! বাঁড়াইবামীত্রই তিনি চীৎকাঁর কবিষা উঠিলেন, ওরে বাপ রে! আমি 'একল। থাকতে পারব না।

ছবি ৩৬

কাজেই আবার বসিয়া পড়িতে হইল। কারণ তখন বুঝিলাষ, ধেশ্বামী জ্যান্ত থাকিতে তিনি নিয়ে পচিশ বৎসর একাকী ঘর করিয়াছেন, তাঁর মৃতুাটা যদি বা সহে, তীর মৃত দেহটা এই অন্ধকাক বাজ্জরে পাচ মিনিটের জন্যও সহিবে না!

বুক যদি কিছুতে ফাটে সে এই মৃত স্বামীর কাছে একল। থাকিলে

কিস্তু ছুঃখটা তাহার তুচ্ছ করিয়া দেখানও আমার উদ্দেশ্ট নহে। কিংবা তাহা খাঁটি নয় কথা বলাও আমার অভিপ্রায় নহে। কিংবা একজনের ব্যবহারেই তাহার চুডাস্ত মীমাংসা হইয়া গেল তাহাও নহে। কিন্ত এমন আরও অনেক ঘটন] জানি, যাহার উল্লেখ না কবিয়াও, আমি এই কথা বলিতে চাঁই যে, শুধু কর্তব্য-জ্ঞানের জোরে অথবা বহুকাল ধরিয়া একসঙ্গে ঘর করার অধিকাঁরেই এই ভয়টাকে কোন মেয়েমান্ষই অতিক্রম করিতে পারে না। ইহা আর একটা শক্তি, যাহা বহু স্বামী-্রী একশ বসর একঝ্সে ঘর-করার পরেও হয়ত তাহার কোন সন্ধান পায় না

কিস্ত সহসা সেই শক্তির পরিচয় যখন কোন নর-নারীর কাছে পাওয়া যায়, তখন সমাজের আদালতে আসামী করিয়া তাহাদের দণ্ড দেওয়ার আব্শ্যক যদি হয় তহোক্‌, কিন্তু মানুষের যে বস্তটি সামাজিক নয়, নে সিজে যে ইহাদের ছুঃখে গোপনে অশ্রু বিসঙ্জন না করিয়া কোনমতে থাকিতে পাবে না

প্রায় মাস-ছুই মৃত্যাঞ্জয়ের খবর লই নাই। ধাহার। পলীগ্রাম দেখেন নাই, কিংবা ওই রেলগাঁড়ীর জানালায় মুখ বাঁড়াইয়া দেখিয়াছেন, তাহারা হয় সবিম্ময়ে বলিয়া উঠিবেন, কেমন কথা? কি কখনো! সম্ভব হইতে পারে ষে অত-বড় অস্থখটা চোখে দেখিয়া আসিম্বাও মাস-ছুই আর তার খবরই নাই? তাহাদের চুঅবগতির জন্য বল! আবশ্তক বব

৩৭ বিলাসী

শুধু সম্ভব নয়, এই হইয়া থাকে। একজনের বিপদে পাড়াশুদ্ধ ঝাঁক বাধিয়! উপুড় হইক্া পড়ে, এই ঘষে একটা জনশ্রুতি আছে, জানি না তাহা সত্যযুগের পল্লীগ্রীমের ছিল কি না, কিন্ত একালে কোথাও দেখিয়াছি, বলিয়া মনে করিতে পারি না ত্. তাহার মরার খবর যখন পাওয়া! যায় নাই তখন সে যে ঝাচিযা আছে, ঠিক

এমনি সময়ে হঠাৎ এক দিন কানে গেল, মৃত্যুঞ্জয়ের সেই বাগানের অংশীদ।র খুড়া তোলপাড় করিয়া বেডাইতেছে যে, গেল গেল, গ্রামট! এবার ্ল(তলে গেল। নাল্তের মিত্তির বলিয়। সমাজে আর তার মুখ বাহির করিবার যো রহিল না-অকালকুষ্মীগুট1 একট? সাপুড়ের মেসে নিকা করিয়। ঘরে আনিয়াছে। আর শুধু শিকা নয়, তাও না হয় চুলায়